পরিবেশ রক্ষায় সকলে কাজ করতে হবে

মানিকগঞ্জ থেকে রাশেদা আক্তার

‘করবো ভ’মি পুনরুদ্ধার, রুখবো মরুময়তা, অর্জন করতে হবে মোদের খরা সহনশীলতা” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে গতকাল ৫ জুন বিশ^ পরিবেশ দিবস উপলক্ষে মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিমদাশড়া ইকবাল হোসেন কচি’র প্রাণবৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বাড়িতে পালক (পাখি ও পরিবেশ লালন করি) এবং বারসিক’র যৌথ আয়োজনে আলোচনা সভা ও সংহতি বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় পালকের সদস্য, পরিবেশবাদী কর্মী, সমাজকর্মী, সুমীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বারসিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ ও পাখি রক্ষায় সংহতিবন্ধনের মধ্য দিয়ে বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়ের সঞ্চালনায় এবং ইকবাল হোসেন কচি’র সভাপতিত্বে আলোচনার শুরুতেই ইকবাল হোসেন কচি তাঁর বাড়ির নানা ধরণের গাছের পরিচিতি তুলে ধরার মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।

পরিবেশবাদী কর্মী এ্যাড: দীপক কুমার ঘোষ বলেন, “প্রকৃতির সাথে নারীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতি ধ্বংসা করা চলবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষার কথা বলেন। কিন্তু আমরা জনগণ জেগে উঠি না। আমাদের জেগে উঠতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় সকলে কাজ করতে হবে। পালক, পাখি ও পরিবেশ লালন করি এর সংখ্যা বাড়ানো দরকার। স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায় ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। গোকুল নগরে ইটভাটার কারণে ফসল পুড়ে গেছে এর জন্য কৃষকের ক্ষতিপূলণের দাবী করা যেতে পারে জেলা প্রশাসকের কাছে। ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তোলা।”

সভাপতি ইকবাল হোসেন কচি বলেন, “আমরা যা চিন্তা করি পরিবর্তন করার জন্য চিন্তা করি। পারিবারিক ভাবে আগে পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে।আজ বিশ^ পরিবেশ দিবস। দিবস কে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক বা সংশ্লিষ্টদের বরাবার স্মারকলিপি দেওয়া যেতে পারে। মেয়রকে বলা তাঁর পৌরসভায় নোং ফেলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য। যারা নোংরা ফেলে তাদের জরিমানা করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সর্বপরি পালকের লোকসংখ্যা বৃদ্ধি করা। সকলে মিলে পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় একসাথে কাজ করার আহবান জানান তিনি।”

পালকের সদস্য এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সারোয়ার ছানু বলেন, “আজ বিশ^ পরিবেশ দিবস। পরিবেশটা প্রকৃতিবান্ধব। সবাই মিলে কাজ করতে হবে। সেইসাথে কিছু দাবীও তুলতে হবে। আমাদের কথা বলার লোকের অভাব। আমাদের নিজেদের লোকবল বাড়াতে হবে। গাছ, পাখি, নদী বাঁচাতে হবে। পালক সংগঠনের ৭টি উপজেলায় ৭টি কমিটি করা যেতে পারে। সংখ্যা বাড়াতে হবে। আন্দোলন জোরদার করতে হবে। সরকার যদি গাছ কাটে তাহলে কেন গাছ কাটরো তার জন্যও সবাই মিলে দাবী তোলা কেন গাছ কাটা হলো? প্রতিবাদ করার লোকের অভাব। প্রতিবাদ করতে হবে।”

সুজনের সাধারণ সম্পাদক ও পালকের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বিশ^াস বলেন, “আমরা শহরের মধ্যেও আজকে মনে হচ্ছে গ্রামে আছি। এটা ভালো লাগছে। পালকের কার্যক্রম প্রচার হচ্ছে। আজ বিশ^ পরিবেশ দিবস। উন্নয়নের নামে যেখানে সেখানে কল-কারখানা হচ্ছে। ইট ভাটার কারণে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। নদী ভরাট হচ্ছে। রাস্তা তৈরি করতে গেলে গাছ কাটছে। উন্নয়ন করতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ করে যাতে উন্নয়ন করতে পারে তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আজকের কর্মসূচি সোস্যাল মিডিয়ায় বেশি বেশি পোস্ট করা যাতে এর প্রচারণা বৃদ্ধি পায়। তরুণদের এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

মো: ইদ্রিস আলী, শিক্ষক, বেগম জরিনা কলেজ মানিকগঞ্জ বলেন, “আমাদের বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। আজ পরিবেশ দিবস। সারাবিশে^ নানা রকম কর্মসূচি পালন করছে। আমাদের গাছ লাগাতে হবে। পরিবেশকে ভালবাসতে হবে। পলিথিন বর্জন করতে হবে। যেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতি করে তা বর্জন করতে হবে।পরিবেশ রক্ষার জন্য সকলে মিলে কাজ করতে হবে।”

সুজনের সদস্য বিলকিছ রেজা পরাগ বলেন, “প্রকৃতিকে ভাল না বাসরে নিজেকেও ভালোবাসা যায় না। নদী ও নারীর সাথে কবি প্রকৃতির তুলনা করেছেন। আমাদের শিশুদের মধ্যে পরিবেশ, প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।”

সমাজকর্মী মো: জয়নাল আবেদীন বলেন, “আজ বিশ^ পরিবেশ দিবস। ভালো লাগছে ব্যতিক্রমী একটা পরিবেশে আমরা বসে আছি। আমাদের দেশে আইন আছে কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগ নাই। আমাদের সচেতন হতে হবে।নিজে থেকে উদ্যোগী হতে হবে। এক সময় কোনো প্রাণি মারা গেলে শকুন, চিল সেই মরা প্রাণি খেয়ে ফেলতো। এখন এগুলো দেখাই যায় না। পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণ করতে হবে।”

সমাজকর্মী মো: ইকবাল খান বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় তিনটি উদ্যোগ নিতে হবে। প্রথমত: উদ্যোগটা নিজ পরিবার থেকে নিতে হবে। তারপর অন্যদের বলতে হবে। আমরা ঢাকায় দেখি এক ফিট রাস্তায় বট গাছ লাগাইছে। এটা দূরদর্শিতার অভাব। ভারতে গাছ রেখে রাস্তা অন্য পাশ দিয়ে সরিয়ে করছে আথচ আমার দেশে রাস্তা করার নামে গাছ গেটে ফেলছে। রাস্তার উন্নয়নে গাছ কাটলে তার পাশে যাতে আরও ১০০০টি গাছ লাগানো যায় তার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে।”

সাবেক ব্যাংকার কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “আজ বিশ^পরিবেশ দিবস। আমাদের মানিকগঞ্জের সন্তান ড: মোবারক হোসেন পলিথিন থেকে ব্যাগ বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের পলিথিন বর্জন করতে হবে। তিনি নদী ও প্রকৃতি নিয়ে তার লেখা প্রবন্ধ বলেন।”

আলোচনা শেষে সকলে মিলে ইকবাল হোসেন কচি’র প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ বাড়ি ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গাছ সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে কর্মসূচী সমাপ্ত হয়।

happy wheels 2

Comments