Posted in

সাতক্ষীরার প্রবীণ আবাসন কেন্দ্র সমস্যা ও সম্ভাবনা

সাতক্ষীরা থেকে মো. সাঈদুর রহমান

বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রবীণের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে ও প্রবীণের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে প্রবীণের সংখ্যা ছিলো ৪.৯৮ শতাংশ। প্রবীণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০০১ সালে ৬.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যার প্রক্ষেপণের ধারণা অনুযায়ী বোঝা যায়, ২০৫০ সালে এ হার ২০ শতাংশ হবে। তখন বাংলাদেশে প্রতি ৫ জনে ১ জন হবে প্রবীণ। সাতক্ষীরা জেলার চিত্র ও এর ব্যতিক্রম নয়। নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের প্রভাবে সাতক্ষীরা শহরের অনেক মানুষ চলে যাচ্ছে ঢাকা শহরে। একা হয়ে যাচ্ছে বৃদ্ধ বাবা মা। শেষ বয়সে তাদের দেখা শুনা করার মতো কেউ থাকছে না। তাই তাদের শেষ সময়ে দেখাশুনা করার জন্য পশ্চিমা বিশ্বের মত বাংলাদেশে ও গড়ে উঠেতে শুরু করেছে প্রবীণ আবাসন কেন্দ্র। ঠিক তেমনি সাতক্ষীরা জেলা শহরের সাতক্ষীরা সিটি কলেজের পার্শ্ববর্তী মেহেদীবাগ এলাকায়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (আরা) এর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একটি প্রবীণ আবাসন কেন্দ্র। এ কেন্দ্রটিতে বর্তমানে ১৫ জন প্রবীণ স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। যাদের সকলের বয়স ৬০ এর উর্ধ্বে। সংস্থা কতৃক তাদের থাকা খাওয়া এবং চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হয়।

আবাসন কেন্দ্রে অবস্থিত প্রবীণদের বিনোদন পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয়। তাদের বিনোদনের একটি টেলিভিশন রয়েছে, যাতে শুধুমাত্র বাংলাদেশর টেলিভিশনের অনুষ্ঠান দেখানো হয়। টেলিভিশনের বিভিন্ন কর্মসূচি দেখে তাদের অনেক সময় কাটে। আবাসন কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রবীণদের বিনোদনের আর কোন সুযোগ নেই।

23

আবাসন কেন্দ্রটিতে সংবাদপত্র করার কোন ব্যাবস্থা নেই। যে কারণে প্রবীণদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা সংবাদপত্র পাঠ করতে পারে না। তাঁরা নানা ধরনের খবরাখবর জানতে পারে না।আবাসন কেন্দ্রটিতে একটি টেলিভিশন ডিস লাইনের সুবিধা নেই। যে কারণে প্রবীণরা তাদের পছন্দমত কর্মসূচি দেখতে পারে না। তাদের অনেকেই ডায়াবেটিকসহ আরো অনেক রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাদের জন্য হাটা চলা করাটা খুবই জরুরি। কিন্তু কেন্দ্রটির ভেতর হাটার মত পর্যাপ্ত জায়গা নেই। প্রবীণদের বেশির ভাগ সময়ই যেহেতু অবসর, তাই তাদের অবসর বিনোদনের জন্য বিভিন্ন প্রবীণ উপযোগী খেলাধূলা যেমন দাবা, কেরাম, লুডু, তাস ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু, প্রবীণদের কোন ধরনের খেলাধূলার কোন ব্যবস্থা এখানে নেই।

তাছাড়াও এখানকার প্রবীণরা যেহেতু এ কেন্দ্রের বাইরে যেতে পারে না, তাই তারা বাইরের কোন প্রকার গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখা এবং শোনার সুযোগ পায় না। ফলশ্রুতিতে তারা একঘেঁয়ে জীবনযাপন করে। একইভাবে তারা কোন সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কোন সুযোগ পায় না। এখানকার অনেক প্রবীণই বই পড়তে পছন্দ করে। তা সত্ত্বেও তাদের বই পড়ার কোন সুযোগ নেই। অনেক প্রবীণই ছোট খাট কাজ করতে পছন্দ করেন। তবে তাদের জন্য ছোটখাটো কোন কাজের সুযোগ এখানে নেই। তাই প্রবীণদের পছন্দমতো ছোটখাটো কাজের সুযোগ এখানে সৃষ্টি করতে হবে।

জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে তাদের ভেতর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। যে কারণে প্রবীণদের মধ্যে নানা রকম রোগ শোক বেশি দেখা যায়। আবাসন কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রবীদের ভিতর বিভিন্ন প্রকার রোগের প্রার্দুভাব রয়েছে। তাদের মধ্যে শ্বাস প্রশ্বাসের কষ্টজনিত সমস্যা রয়েছে। কৃমিজনিত সমস্যা, মাজার ব্যাথা, ঘাড়ের শিরার সমস্যায়ও তারা আক্রান্ত। কান ও চোখের সমস্যা, প্রেসার এর সমস্যা, কাঁশি ইত্যাদি রোগও তাদের মধ্যে রয়েছে।

কেন্দ্রটিতে প্রবীণদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা নেই। একজন হাতুড়ে ডাক্তার এসে মাঝে মাঝে তাদের দেখে যান কিন্তু তিনি নিয়মিত আসেন না। কারণ তাকে কোন সম্মানি প্রদান করা হয় না। একই সাথে ভালো ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ এখানে নেই। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী থার্মোমিটার, প্রেসার মাপার মেশিন ইত্যাদির ব্যাবস্থাও নেই এখানে। প্রয়োজনীয় ঔষধের সরবরাহও নেই। আবাসন কেন্দ্রটিতে থাকা প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে উপরোক্ত সেবাসমূহ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবীণদের মধ্যে নানা ধরনের মানসিক সমস্যাও রয়েছে। তাদের প্রিয়জনরা তাদের খোঁজ খবর নেয় না। ছেলে মেয়ে এবং পরিবারের সদস্যরা তাদের খোজ খবর নেয় না, তাদের সাথে যোগাযোগ করতে আসে না। যে কারণে তারা মানসিক দিক দিয়ে সব সময় দুঃচিন্তায় থাকেন। পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজ খবর না নিলেও তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক দুঃচিন্তা করে। এ সকল কারণে তারা আরো দূর্বল হয়ে পড়ে। আবাসন কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রবীণদের বিনোদনের ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা রয়েছে ।
আবাসন কেন্দ্রটির নিজস্ব কোন তহবিল নেই। আরা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে মূলত কেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। কেন্দ্রটি পরিচালনায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তিও এখন এগিয়ে আসছেন। এবং তারা উদ্বুদ্ধ হয়ে কিছু চাঁদাও প্রদান করছেন আবাসন কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য।

প্রবীণ আবাসন কেন্দ্র আমাদের কাম্য না হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। তাই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (আরা) যে উদ্যোগটি নিয়েছে তা সময়ের দাবি ছিলো। তবে উদ্যোগটি আরো বেশি কার্যকর করা দরকার। এ ছাড়াও প্রবীণের বিনোদনের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো দরকার।

 

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.