সাম্প্রতিক পোস্ট

খাতা ভরে লিখব, অভিভাবকদের কথা শুনবো, ভালো ফলাফল করবো

:: শেখ তানজির আহমেদ, সাতক্ষীরা ::

সাতক্ষীরা শহরের বহুলালোচিত ‘বড় বন্ধু’দের উপহার এবার পৌঁছে গেল সদর উপজেলার বকচরা সরকারি প্রাথমিক স্কুল ও সিলভার জুবিলী মডেল স্কুলের ছোট্ট বন্ধুদের হাতে।

tanzirসোমবার (৪ জানুয়ারি) সকালে বড় বন্ধুরা স্বশরীরে গিয়ে ছোট্ট বন্ধুদের হাতে উপহার হিসেবে তিনটি করে খাতা ও দু’টি করে কলম তুলে দেয়। এ সময় উপহার প্রদানকারীরা নিজেদের ‘বড় বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ছোট্ট বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলে, “বড় বন্ধুদের এই ক্ষুদ্র উপহার পেয়ে তোমরা আনন্দিত হলে, লেখা-পড়া ভালোভাবে করলেই আমরা খুশি। তোমরা এগিয়ে যাবে, তোমাদের সাথে এগিয়ে যাবে দেশও। একসময় তোমরাও বড় বন্ধু হিসেবে ছোট্ট বন্ধুদের কাছে যাবে উপহার নিয়ে।”  আর খাতা-কলম পেয়ে উল্লসিত শিশু শিক্ষার্থী ছোট্ট বন্ধুরা প্রতিবারের ন্যায় এবারও সেই একই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলে, “খাতা ভরে লিখব, অভিভাবকদের কথা শুনবো, ভালো ফলাফল করবো।”

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থীর এই বড়বন্ধুদের দলে রয়েছে- বাহলুল করিম, মফিজুল ইসলাম অক্ষর, এসএম নাহিদ হাসান, শামসুরনাহার মুন্নী ও অসীম রায়। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে তারা একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেয় ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার। এ জন্য নিজেদের টিউশনির টাকা থেকে প্রত্যেকে ২শ’ করে টাকা তুলে ৩০ শিশু শিক্ষার্থীর হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেয় খাতা ও কলম। নিজেদেরকে পরিচিত করে ‘বড় বন্ধু’ হিসেবে।
এরপরই পত্র-পত্রিকায় বড় বন্ধুদের খবর পড়ে তাদের সাথে একে একে যুক্ত হয় একজন চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন গবেষক, একজন রেডিও কর্মকর্তা, একজন সাংবাদিক, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তুহিনুর রহমানসহ আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এতে পাঁচ বড় বন্ধুর সেই উদ্যোগ সম্প্রসারিত হতে থাকে। একটি স্কুল থেকে উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ে তিনটি স্কুলে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দু’টি স্কুলের ৬০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় খাতা ও কলম। লক্ষ্য আছে আগামী মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) তারা যাবে সদর উপজেলার বেতনা নদীর পাড়ে মাছখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের কাছে।

happy wheels 2
%d bloggers like this: