বাল্যবিয়ের ফলে মাতৃমৃত্যু বৃদ্ধি পায়

মানিকগঞ্জ থেকে আছিয়া আক্তার
‘‘নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করি, জেন্ডার সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠান গড়ি’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে বারসিক’র সহযোগিতায় বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, বুলিং, র‌্যাগিং বিষয়ক স্কুলভিত্তিক বক্তৃতামালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে ও সহকারি শিক্ষক চঞ্চলা রানীর সঞ্চালনায় উক্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বারসিক সহযোগি কর্মসূচি কর্মকতা আছিয়া আক্তার ও রিনা আক্তার।
উক্ত আলোচনায়, ১৮ বছরের আগে বিয়ে হওয়া কিশোর-কিশোরী জীবনে নেমে আসা সকল অবাঞ্চিত ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়। তাদেরকে একটি ফুলের সাথে তুলনা করা হয় এবং বাল্যবিয়ের ফলে এই ফুলগুলো অকালে ঝরে যায়।


আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘বাল্য বিয়ের ফলে মাতৃমৃত্যু বৃদ্ধি পায়,্ এছাড়াও অপরিপক্ক কিশোরী প্রতিবন্ধি সন্তান জন্ম দেয়। যার ভবিষ্যত অন্ধকার। ইভটিজিংয়ের ফলে অনেক মেয়ে নিজ থেকে ও তাদের পরিবার পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়া। অনেকে আতœহত্যার পথ বেছে নেয়। বুলিং মূলত দুর্বলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেয়পতিপন্ন করা হয়। এটিও অত্যন্ত ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। বুলিংয়ের ফলে অনেক মানুষের প্রাণঘাতি হয়। অন্যদিকে র‌্যাগিং হচ্ছে মূলত পরিচয় পর্ব। নতুন ছাত্রছাত্রী সিনিয়র ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মাকানুন শিখবে, সহমর্মিতা, সহযোগিতা পাবে। কিন্তু বর্তমানে এটির ভয়াবহ রূপ আমরা দেখতে পারছি। র‌্যাগিংয়ের ইতিবাচক দিকের চাইতে নেতিবাচক দিকই বেশি লক্ষ্য করা যায়।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, বুলিং, র‌্যাগিং করবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং তাদের আশেপাশে এগুলো হলে তা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

happy wheels 2

Comments