Posted in

পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটায় ‘পিপুল’

সাতক্ষীরা থেকে বাহলুল করিম।।

পিপুল সুগন্ধিযুক্ত একটি লতানো গাছ। এর পাতা দেখতে অনেকটা পানের মতো। পাতা লম্বায় ৪-৬ সেন্টিমিটার এবং চওড়ায় ২-৪ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। পাতার উপরিভাগ গাড় সবুজ এবং নিচের দিকটা হালকা সবুজ। প্রতিটি পর্ব ৭-১৩ সেন্টিমিটার লম্বা হতে দেখা যায়।

বাংলাদেশে এটাকে আঞ্চলিক ভাষায় পেপুল শাক বলা হয়। কুড়িয়ে পাওয়া বা অচাষকৃত শাকও বলে অনেকে। প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে খোলা অথবা বদ্ধ জায়গায় জন্মে এটি। লতা জাতীয় উদ্ভিদ বিধায় পরনির্ভরশীল হয়ে বিস্তার লাভ করে। বর্ষা মৌসুমে এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

Photo (1)

পিপুল নানা ধরণের ভেষজ গুণসমৃদ্ধ একটি শাক। এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এই শাক রান্না করে খাওয়া যায়। আবার অনেকে খায় কাঁচা চিবিয়ে। কেউবা ব্যবহার করে এন্টিবায়োটিক হিসেবে। দেশ-বিদেশে এর চাহিদাও ব্যাপক।

মুক্তকোষ উইকিপিডিয়া এর তথ্য মতে, কখনো কখনো এটাকে ভারতীয় পিপুল নামেও ডাকা হয়। এটি Piperaceae গোত্রের লতাজাতীয় একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। পিপুল শাক চাষ করা হয় ফলের জন্য। এর ফল শুকিয়ে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পপি বীজের সমান আকৃতির অসংখ্য পিপুল ফল একটি সংযুক্ত দন্ডে অবস্থান করে।

পিপুল সম্পর্কে প্রথম জানা যায় প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের পুস্তকে। যেখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এর ঔষধি ও খাদ্যগুণ সম্পর্কে । খ্রিস্টের জন্মের ৬ষ্ঠ বা ৫ম শতক পূর্বে গ্রীসে এটি পরিচিতি লাভ করে। মসল্লা অপেক্ষা ঔষধি গুণের জন্যই এটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন ‘হিপোক্রেটিস’। বর্তমানে ইউরোপীয় রন্ধন কার্যে এর ব্যবহার দূর্লভ হলেও ভারতীয় সবজি রান্নায়, উত্তর আমেরিকার মসলা মিশ্রণে এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালেয়েশিয়ান রান্নায় বহুল ব্যবহার রয়েছে।

Photo (2)

পুষ্টির ফেরিওয়ালা রুহুল কুদ্দুস রনির মতে, ‘পিপুল শাককে এন্টিবায়োটিক হিসেবেও অভিহিত করা হয়। মূল থেকে শুরু করে কাণ্ড ও পাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ঔষধি গুণ। পিপুল শাকের পাতা ও ডালিমের পাতা একসঙ্গে মিহি করে বেঁটে মুখে ব্যবহার করলে ব্রন ও মেছতার দাগ দূরীভূত হয়।” তিনি আরো বলেন, “পা-ফেঁটে গেলে এই শাকের পাতা ও গোল মরিচ বেঁটে সেখানে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এই শাক প্রসূতি মায়ের অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধান করে থাকে। এই শাক রান্না করে প্রসূতি মাকে খাওয়ালে ক্ষতজনিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়।”

সাতক্ষীরা মসল্লা ভান্ডার সূত্রে জানা যায়, সর্দি, কাঁশি, হৃদপিন্ড সচল রাখতে ও যক্ষা নিরাময়ে পিপুল লতা খুব কার্যকরী। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘ভিটামিন কে (K)’ বিদ্যমান। এছাড়া জন্ডিস নিরাময়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

অন্যদিকে পুষ্টির ফেরিওয়ালা বাবর আলী বলেন, “পিপুল শাক রান্না করে খাওয়া যায়। এটি ব্যাথানাশক এন্টিহিস্টামিন হিসেবে মানব শরীরে জ্বর বা বাতজনিত ব্যথা উপশম করে থাকে।” সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী সোনিয়া আফরোজ বলেন, “পিপুল শাক সম্পর্কে আমরা পড়েছি। পিপুল শাক খেতে সুস্বাদু না হলেও এটা ভেষজ গুণ সমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর।”

পিপুল শাক আগের মতো দেখা যায় না। হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ। পিপুল লতা একদিকে আমাদের পারিবারিক পুষ্টির চহিদা মেটায় অন্যদিকে অনেক রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

* দ্বিতীয় ছবিটি ইন্টারনেটের মুক্ত সোর্স থেকে সংগৃহীত।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.

2 thoughts on “পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটায় ‘পিপুল’”

  1. অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা। এতো সুন্দর একটা উপদেশ দেওয়ার জন্য। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলোর দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা হবে।

  2. পেপুল বা পিপুল নিয়ে লেখাটির জন্য ধন্যবাদ। তবে এ ধরণের লেখার ক্ষেত্রে বিশেষত যখন আমরা কোনো গাছের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ব্যবহার করবো সেখানে সাবধানতা জরুরি। আমাদের প্রকৃতিটাই বৈচিত্র্যময়। সব পিপুলই পিপুল নয়। স্থানীয়ভাবে কিন্তু একে পেপুল নামেই ডাকা হচ্ছে। কারণ লেখাটিতে পিপুলের উদ্ভিদতাত্তিবক নাম দেয়া হয়েছে Piper longum. Piper longum মূলত পৃথিবীব্যাপি বহুল ব্যবহৃত ‘পিপুল বা long pepper’ এর উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম। সারাবিশ্বে Piper গণের প্রায় ২০০০ প্রজাতি আছে। বাংলাদেশেও আছে। তবে বাংলাদেশে এই পরিবারের প্রজাতি সংখ্যা কম।কিন্তু আমরা কোনোভাবেই সুস্পষ্ট শ্রেণিকরণ ছাড়া কোনো গাছকে উদ্ভিদতাত্ত্বিক নামে পরিচয় করাতে পারিনা। কারণ সাধারণ বা স্থানীয় নাম নয়,যিনি এই গাছের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম থেকে এই গাছের ব্যবহার করতে যাবেন সেখানে নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। Piper এর কিছু প্রজাতির শাক হিসেব খাওয়ার তথ্য আছে। তবে তা Piper longum নয়। আশা করবো এই লেখায় ব্যবহৃত পিপুল গাছটি সংগ্রহ করা হোক এবং কয়েকটি হার্বেরিয়াম তৈরি করা হোক।এ গাছের সঠিক সণাক্তকরণের ক্ষেত্রে আমরা শ্রেণিকরণবিদ, জনউদ্ভিদবিদ বা বাংলাদেশ ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের সহযোগিতা নিতে পারি। আমার প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে লেখায় ব্যবহৃত গাছটি দেশের নানাস্থানে জন্মানো বনপিপুল, বাজারে মশলা হিসেবে বিক্রি হওয়া পিপুল গাছ হয়তো নয়।

Comments are closed.