সাম্প্রতিক পোস্ট

‘মানুষের মধ্যে আদান প্রদান থাকলে সংঘাতও কমে আসবে: আ: ওয়াদুদ খান

নেত্রকোনা থেকে শংকর ম্রং ও সোহেল রানা

নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের দূর্গাশ্রম গ্রামে এক কৃষক পরিবারে আ: ওয়াদুদ খান জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত হন। ছোটবেলা থেকেই তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে মিশে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতেন। পরবর্তী সময়ে নিজেদের অধিকার আদায়, পরিবেশ ও কৃষির সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সরকারি বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত সেবাসমূহে সাধারণ জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকারের জন্য গ্রামের সমমনা কৃষকদের সংগঠিত করে গড়ে তুলেন বাঘরা হাওর কৃষক সংগঠন নামে একটি সংগঠন। বর্তমানে প্রয়োজনে এলাকার সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন তিনি।

wadud

বারসিক.কম এর সাথে আালাপচারিতায় আ: ওয়াদুদ খান জানান, তিনি তার নিজ গ্রামের ৭০ জন মানুষকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ, নিজ ব্যবহার্য জিনিস, পরামর্শ, তথ্য ও স্থানীয় কৃষি প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। ছোট্টবেলা থেকেই তিনি বন্ধুবান্ধবদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে সহভাগিতা করতেন বলে তিনি জানান। তার মতে, মানুষের মধ্যে নিয়মিত আদান প্রদান হলে সমাজে বা পরিবারে সংঘাতগুলো প্রশমন করা যায়। এ সহভাগিতা বা আদান-প্রদান যেমন উপকরণ তথা গবাদিপশু বর্গা, টাকা ধার, জমি বর্গা, হালের গরু ও লাঙ্গল, কোদালসহ কৃষি প্রযুক্তি, বীজ, বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি অফিসের সেবা বিষযক তথ্য ও যোগাযোগ, পরামর্শ, কারিগরি জ্ঞান হতে পারে তেমনিভাবে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সুঃখ-দুঃখও হতে পারে। তিনি বলেন, “আমি নিজেও আমার গ্রামের ২০ জনের কাছ থেকে কৃষি উপকরণ ও স্থানীয় কৃষি প্রযুক্তি (লাঙ্গল, কোদাল, শাবল, দা, কাচি, সবজি ও ধান বীজ ইত্যাদি) সহযোগিতা নিয়েছি।” আ: ওয়াদুদ খানের মতে, এ সহভাগিতা বা আদান-প্রদান সামাজিক শান্তি ও প্রশান্তি এনে দেয়; তৈরি করে সৌহার্দ্য সম্পর্কও।

আ: ওয়াদুদ খান এ আদান-প্রদান বা যোগাযোগ যাই বলি না কেন সেটা শুধুমাত্র নিজের গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি নিজ গ্রামের বাইরেও আরও ৭টি গ্রামের (পুকলগাও, কৃষ্ণপুর, রামজীবনপুর, মাটিকাটা, আয়মা, কিসমতআরা ও রামেশ্বরপুর) ৪৫ জন মানুষকে হালের গরু ধার, লাঙ্গল-জোয়াল, ধান ও সবজি বীজ, বিভিন্ন অফিসের সেবা সংক্রান্ত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করেছেন। তিনি নিজেও ওইসব গ্রামের মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়েছেন বিভিন্নভাবে। তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন; সুঃখ-দুঃখ, ব্যর্থতা-সাফল্য, সমস্যা ও সমস্যা সমাধানের পন্থাগুলো সহভাগিতা করেন। অন্যদিকে আ: ওয়াদুদ খান চেষ্টা করেন দরিদ্র ও অসহায় পবিারের জন্য ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড, ত্রাণকার্ড, ল্যাট্রিন, কালভার্ট, টিউবওয়েল, শিক্ষাবৃত্তি, নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম সনদের জন্য পাইয়ে দেওয়ার জন্য। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ভালো সম্পর্ক ও নিয়মিত যোগাযোগ থাকার কারণে তিনি ইতিমধ্যে ২ জনকে ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড, নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম সনদ এবং একজনকে শিক্ষা উপবৃত্তি পেতে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, প্রাণী সম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করেছেন নিয়মিত। সরকারি এসব বিভাগের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন, অন্যকে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেন।

সমাজের বিভিন্ন পেশার, বয়স ও শ্রেণীর মানুষের সাথে ভালো যোগাযোগ থাকার কারণে মানুষের সাথে আ: ওয়াদুদ খানের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তাতে আ: ওয়াদুদ খান যে কোন বিপদে আপদে সাহায্য সহযোগিতা পান। গ্রামের কোন মানুষের সাথে তার কোনদিন ঝগড়া হয়েছে কিনা তা তিনি মনে করতে পারছেন না। তিনি নিজ গ্রামসহ অন্য গ্রামের ঝগড়া মীমাংসার জন্য সহায়তা করতে চলে যান। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে সব ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়। মানুষ মূল্যায়ন করে।”

প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের ফলে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সাথেও তার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে সেবা পরিসেবাগুলো আদায় করতে পারেন, সাধারণ মানুষকে সহায়তা করতে পারেন। ফলে দূর্গাশ্রম উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যেখানেই যান সেখানেই মানুষের মূল্যায়ন পান, পান সেবাও। তিনি গর্বের সাথে বলেন, “শিক্ষার ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করি। সামাজিক আইন শৃংখলা রক্ষা হয়। মানুষ কোর্টে গিয়ে মামলা করার চেযে এলাকাতে সমাধান করতে পারে। হয়রানি থেকে মুক্তি পায়।” তিনি আরও বলেন, “মানুষকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করি। সঠিক তথ্য পেয়ে তারা বিভিন্ন হয়রানি থেকে রেহাই পান। অফিস আদালতে ঘুরে অনেক টাকা হয়তো খরচ করতেন তারা কিন্তু এসব তথ্য পেয়ে তারা একদিকে হয়রানি থেকে রক্ষা পান সাথে সাথে তাদের টাকাও সাশ্রয় হয়।” আ: ওয়াদুদ খান তাই গর্ব করেই বলতে পারেন, “মানুষে মানুষে, সংগঠনে যোগাযোগ, আদান প্রদান থাকলে মানুষে মানুষে সংঘাত কমবে। নির্যাতন কমবে। একজন অন্যজনের বিপদে সহায়তা করবে। মানুষের অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে। মানুষে মানুষে আদান প্রদান, জ্ঞান অভিজ্ঞতা, সম্পদ বিনিময় যত বাড়তে তত বেশি ঝগড়া কমে আসবে।”

happy wheels 2
%d bloggers like this: