Posted in

চলছে হালখাতা উৎসব

সাতক্ষীরা থেকে মীর খায়রুল আলম

হালখাতা বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। সারাবছর ব্যবসা বাণিজ্যেও বকেয়া আদায় করার উৎস বা অনুষ্ঠান হল হালখাতা।

এই খাতাটি বৈশাখের প্রথম দিনে নতুন করে হালনাগাদ করা হতো। হিসাবের খাতা হাল নাগাদ করা থেকে “হালখাতা”-র উদ্ভব। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছোট বড় মাঝারি যেকোনো দোকানেই এটি পালন করা হয়ে থাকে।

h

মূলত পহেলা বৈশাখের সকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী দোকানী ও ব্যবসায়ীরা সিদ্ধিদাতা গণেশ ও বিত্তের দেবী লক্ষ্মীর পূজা করে থাকেন এই কামনায় যে, তাদের সারাবছর যেন ব্যবসা ভালো যায়। দেবতার পূজার্চনার পর তার পায়ে ছোঁয়ানো সিন্দুরে স্বস্তিকা চিহ্ন অঙ্কিত ও চন্দন চর্চিত খাতায় নতুন বছরের হিসেব নিকেশ আরম্ভ করা হয়। এই দিন ক্রেতাদের আনন্দ দানের জন্য মিষ্টান্ন, ঠা-া পানীয় প্রভৃতির ব্যবস্থা করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেও হালখাতা বা শুভ মহরৎ অনুষ্ঠান করে থাকেন। হালখাতার আগে থেকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা দোকানে এসে বসে নতুন জামা-কাপড় পরে। বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে মিষ্টির দোকানগুলো।

ঘুরে দেখা যায়, দেবহাটার কুলিয়া, বহেরা, সেকেন্দ্রা, পারুলিয়া গরুহাট, পারুলিয়া বাজার, সখিপুর বাজার, সখিপুর মোড়, ঈদগাহ বাজার, দেবহাটা বাজার, টাউনশ্রীপুর, ভাতশালা, কোমরপুর, শাখরা, নাংলা, গাজীরহাট, হাদিপুর, টিকেট, সুবর্ণাবাদ, বদরতলাসহ আশেপাশের বাজার ও বিভিন্ন এলাকার মুদিদোকান, কসমেটিক্স, সার্ভিসিং সেন্টার, জুয়েলারী, ওয়েল্ডিং এর দোকান, সার-কীটনাশকের দোকান, ডাক্তারের দোকান, বেকারী, ভ্যারাইটিস, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, তেলের দোকান, মশলার দোকান, মাছের হ্যাচারী, কাপড়ের দোকান, গ্যারেজসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বৈশাখের প্রথম শুরু হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে টানা হালখাতা চলছে।

IMG_20180507_224816

এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের বাকি অনুযায়ী একদিন, ২ দিন বা ৩দিন ধরে হালখাতার আয়োজন করতে দেখা গেছে। তবে, এসব প্রতিষ্ঠানে হালখাতাকে কেন্দ্র করে নানান রঙ বেরঙের সাজ-সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। এছাড়া রাতে হরেক রঙ এর লাইটিং করা হয়েছে। এমনকি রয়েছে মাইকে গান, গজল, ওয়াজ, নাটক ইত্যাদি বাজিয়ে মুখরিত করে রেখেছে। প্রতিটি এলাকা ও বাজারগুলোতে পৌঁছালে মনে হয় যেন চারিদিকে উৎসবের হাওয়া বয়ছে।

হালখাতাকে কেন্দ্র করে রয়েছে ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে উত্তেজনা কাজ করছে। বিক্রেতারা তাদের পাওনা আদায় করতে এত আয়োজন করেছে। সাথে সাথে ক্রেতারা বিক্রেতাদের মনোরঞ্জন করতে মিষ্টি, জিলাপি, লুচিসহ বিভিন্ন খাবার প্রদান করা হচ্ছে। বৈশাখকে ঘিরে চলা এই ব্যবসায়িক আদায় আয়োজন চারিদিকে যেনো সারা ফেলেছে। সবমিলে হালখাতাকে ঘিরে চলছে হালখাতা উৎসব।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.