Posted in

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে আখ চাষের বিপুল সম্ভাবনা

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্রনাথ

খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে আখ চাষের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমরা জানি, বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা উপযোগী কৃষি নিয়ে বহুদিন ধরে চলছে নানামূখী পরীক্ষামূলক কর্মসূচি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোই এই উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে আর কৃষকরাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাহস, নিজের কর্মদক্ষতা আর কৌশল থাকলে একজন প্রান্তিক কৃষকের গবেষণালব্ধ ফলাফল অনেক বড় উপকারে আসতে পারে। তেমনটিই করলেন রাজশাহীর পবা উপজেলা বড়গাছি ইউনিয়নের ওমর পাড়ার কৃষক মো. ফারুক মিয়া।

20986459_247182755802794_312340959_n

অনেকটা বিরাণভূমিতে আখ চাষ করে তিনি সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ফারুকের পরিবোরের সদস্য সংখ্যা চারজন। নিজের পাঁচশতক বসতভিটা ছাড়া অন্যকোন জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে সারাবছর মরিচ করলা, বেগুন, চাল কুমড়া, পুঁইসহ নানা জাতের সবজি চাষ করেন। পাশাপাশি তিনি বাজারে কলার ব্যবসা করেন। পবা উপজেলাটি সবজি চাষ বেশি হওয়ায় তিনি প্রতিবছর সবজি চারা উৎপাৎদন করেও একটা ভালো আয় করেন। এলাকা উপযোগী নতুন নতুন জাতের কৃষি নিয়ে সবসময় ভাবেন ফারুক মিয়া। খরা এবং অনেক বেশি শীত, বর্ষা সহনশীল জাত নিয়ে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করেন ফারুক মিয়া। চলতি বছর তিনি এই এলাকায় সর্বপ্রথম আখ চাষ করেন পরীক্ষামূলকভাবে।

20987810_247182789136124_1788304554_n

নিজের অভিজ্ঞাতা এবং দক্ষতা দিয়েই তিনি এই আখ চাসের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এখানে ২ জাতের আখ চাষ করছেন ১. ঈশ্বরদী ১৬ ও ২. গান্ডারী । তিনি গত ডিসেম্বরে মো. নিতু আলীর.কাছ থেকে.২০,০০০ টাকা দিয়ে ১৮ কাঠা জমি এক বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন। আর সেই ১৮ কাঠা জমিতে আখ লাগিয়েছেন। বর্তমানে থানা প্রতি গড়ে ৬টি করে আখ উৎপাদন হয়েছে। বাজারে আখের বাজার মূল্য বেশ ভালো আছে। আখ বিক্রি করতে শুরু করেছেন তিনি। বর্তমানে বাজার মূল্য অনুযায়ী আখ বিক্রি করে তিনি ভালোই লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করছেন।

ফারুক মিয়া বলেন, “আমার আগামী পরিকল্পনা হচ্ছে আরো ২ বিঘা জমিতে এই আখ চাষ করবো। কারণ এই বছরের তুলনায় আগামী বছর আখ চাষে খরচ কম হবে। আগামী বছর আমাকে আর এই বছরের মতো বাজার থেকে আখ বীজ কিনতে হবে না। আমার এই জমি থেকে আখ বীজ সংগ্রহ হবে। আর সেই বীজ দিয়ে আগামী বছর ২ বিঘা জমিতে আখ লাগানো হবে। আমি আশা করি, আগামী বছর আমাদের এই এলাকায় এই আখ চাষের প্রসার ঘটবে।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.