সাম্প্রতিক পোস্ট

কৃষিতে সফল দম্পতির গল্প

সাতক্ষীরা থেকে মননজয় মন্ডল

1কৃষিকে আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহসহ উদাহরণ সৃষ্টি করছেন উপকুলীয় অনেক পরিবার। তেমনি এক সফল দম্পতি হলেন ধানখালীর গ্রামের গণেশ মন্ডল ও খুকুমনি মন্ডল। উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ধানখালী গ্রামের এই দম্পতি নিজেদের উদ্যোগে নিজের বাড়িটিকে সমন্বিত কৃষি খামর হিসেবে গড়ে তুলেছেন। নিজেদের বসতভিটায় বছরব্যাপী বৈচিত্র্যময় ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষির এই সফলতা অর্জন করেছেন।

দম্পতির ২ মেয়ে ও মাসহ মোট ৫ সদস্যের ছোট সংসার। জমিজমা বলতে ৪০ শতক বসত ভিটা ও ২ বিঘা বিলান জমি। স্বামী গনেশ মন্ডল ও স্ত্রী খুকুমনি মন্ডল কৃষিকে প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্বামী ও স্ত্রী দুজনই ছোটবেলা থেকেই কৃষির সাথে পরিচিত। বিয়ের পর থেকে নিজের বসতভিটা ও জমিতে সরাসরি কৃষির সাথে জড়িয়ে পড়েন। “নিজেদের লাগানো সবজি ও ফসল নিজেদের সংসারের চাহিদ পূরণ, বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীকে বিতরণ শেষে প্রচুর পরিমাণে ফসল স্থানীয় মুন্সিগঞ্জ বাজারে বিক্রি করি, আমাদের সংসার চালাই এই কৃষি কাজ করেই।” জানালেন কৃষাণী খুকুমনি মন্ডল।

2

স্বামী ও স্ত্রী দুজন মিলে পরিকল্পনা করে নিজেদের জায়গাটুকুর সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বছরব্যাপী মৌসুমভিত্তিক ফসল উৎপাদন করেন। তাঁদের ক্ষেতের অভ্যন্তরে নানা প্রজাতির সবজি ও ফসল ভিন্ন ভিন্ন প্লট করে চাষাবাদ করেন। জৈব পদ্ধতিতে নিবিড় যতœ ও পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করেন সব ধরনের সবজি ও ফসল। তাঁরা সারাবছর মৌসুম ভিত্তিক কুশি, ঝিঙ্গা, তরুল, সীম, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, ঢেড়ষ, কামরাঙা ঢেড়ষ, বেগুন, ঝাল, পুঁইশাক, ডেমোশাক, টমেটো, পালংশাক, লালশাক, তরমুজ, ওল, হলুদ, কচুরমূখী, উচ্ছে, লাউ, কলমীশাক,মূলা, ওলকপি, বাঁধাকপি, বীটকপি, আলু, পেয়াজ, রসুন, ধনচে ও ধান ফসল চাষাবাদ করেন।

3

সবজি ক্ষেতের পাশেই নিজেদের মিষ্টি পানির পুকুর থাকায় সহজেই ফসল চাষাবাত করতে পারেন। পরবর্তী বছর লাগানোর জন্য নানা ধরনের বীজ নিজের কাছে সংরক্ষণ করে থাকেন। তাদের বসতভিটায়, ফলজ বৃক্ষ হিসেবে আম, কলা, নারকেল, পেঁয়ারা, সবেদা, জামরুল, লেবু, খেঁজুর, কদবেল, কুল, ডালিম, পেঁপে বনজ বৃক্ষ হিসেবে নিম, রেইনট্রি, খদি, বাবলা, মেহগনি, সেজি, ঔষধি হিসেবে থানকুনি, কলমি, খুদকুড়ি, গাদমনি, নোনা গড়গড়ে প্রভৃতি লাগিয়ে রেখেছেন। নিজেদের বসবাসের জায়গাটুকু বাদেই সম্পূর্ণ বসতভিটার সর্বত্তম ব্যবহার করেছেন। পুকুরে স্থানীয় জাতের মাছ চাষ, গোয়ালে গরু, ছাগল এবং বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।

সমন্বিত কৃষি চর্চা বিষয়ে গণেশ মন্ডল ও খুকুমনি দম্পতির সাথে আলাপ চারিতায় ৬টি বাঁশ, ১ কেজি ফাঁস জ্বাল, ৫০০ গ্রাম কটসুতা, বীজ সংরক্ষণের পাত্র ও একটি সাইনবোর্ড এবং কিছু নেমপ্লেট পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।

স্থায়িত্বশীল কৃষি চর্চায় গণেশ ও খুকুমনি দম্পতির ভূমিকা আমাদের কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অনেকখানি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। স্থায়িত্বশীল কৃষি জীবনকে টিকিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় কৃষক কৃষাণীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অবদানকে মূল্যায়ন কওে স্বীকৃতি দিতে হবে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: