Posted in

বৃষ্টিতে বিপাকে মরিচ চাষীরা

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

১৫ দিনের ব্যবধানে দফায় দফায় বৃষ্টি ও চারবার ঝড়ো হাওয়ায় মানিকগঞ্জে কাঁচা মরিচসহ সবজিসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে নিচু জমিতে আবাদ করা মরিচ চাষীরা। ঘিওর উপজেলাসহ জেলায় বিভিন্ন ক্ষেতে মরে যাচ্ছে কাঁচা মরিচগাছ। যেসব গাছ এখনো বেঁচে আছে সেগুলো বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। চারা গাছ মরে যাওয়ায় চাষিদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।

01
মরিচ চাষের জন্য বিখ্যাত মানিকগঞ্জ জেলা। এখানে মরিচের ফলনও হয় ভালো। এতে করে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে মরিচ চাষিদের। কিন্তু চলতি মৌসুমের চলমান বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক মরিচ চাষি। গেল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মরিচ গাছের গোঁড়ার মাটি নরম যায়। এতে করে গাছগুলো মরে লালচে আকার ধারণ করছে। ফলে মরিচ চাষিরা মুনাফা তো দ‚রের কথা জমিতে খরচের টাকা উঠানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলায় কমবেশি মরিচের আবাদ হয়ে থাকে। তবে জেলার ঘিওর, শিবালয়, হরিরামপুর, সাটুরিয়া ও সিংগাইরে মরিচের আবাদ হয় বেশি। অল্প খরচে অধিক মুনাফা হওয়ায় মরিচ চাষে আগ্রহ এ এলাকার চাষিদের। তবে এবারের বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় অনেক চাষিই হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

03
ঘিওর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের মরিচ চাষি মোঃ মুন্নাফ মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি এক ৮০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। গাছগুলোতে মরিচ ধরতে শুরু করেছে। মরিচের ফলনও হয়েছে ভালো। ইতোমধ্যে ১০ মণ মরিচ বিক্রিও করেছেন তিনি। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মরিচ গাছের গোঁড়া পচন ধরে সব গাছ মরে যাচ্ছে। এতে করে মরিচ ক্ষেতে খরচের টাকা তুলতেও পারবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বালিয়াখোড়া এলাকার কৃষক সমেজ শেক জানান, ১০ হাজার টাকা খরচ করে ১৮ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন তিনি। গাছগুলোতে মরিচ ধরতে শুরু করেছে। বিক্রিও করেছেন প্রায় তিন মণ। কিন্তু মরিচ ক্ষেতের অনেকগুলো গাছ গোঁড়া পচে মরে যাওয়ায় তুলনামুলক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছেন তিনি।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান চৌধুরী জানান, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে ৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। তবে বৃষ্টিতে বেশ কিছু মরিচ ক্ষেত ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। ওই সব চাষিদেরকে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করার জন্যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ওই রোগে মরিচ ক্ষেতের বেশ ক্ষতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.