Posted in

গ্রামীণ মেলার মাধ্যমে টিকে আছে ১৫১ বছরের ঐতিহ্য

ঘিওর , মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার
ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরীতে দুই দিনব্যাপী শিব চতুর্দশী মেলা শুর হয়েছে গত রবিবার। মানিকগঞ্জের জাবরা, দূর্গাবাড়ি, গাংডুবী, ঠাটাংগা, বুতুনী, বেচপাড়া, ঠাকুরকান্দি, দোলাকান্দা, কেল্লাই এলাকা থেকে অনেক মানুষ মেলা দেখতে আসেন, কেনাকাটা করেন এবং উপভোগ করেন।


এই প্রসঙ্গে বাসন্তী চক্রবর্তী (৮১) বলেন ‘প্রায় ১৫১ বছর আগে ১২৮০ সালে (বাংলা সন) বালিয়াটি থেকে আসা জমিদার রামবাবু, কেদারবাবু, খোকা বাবুর আমলে পুকুর খনন উপলক্ষে বানিয়াজুরী শিব চালায় শিব মন্দির ও কালী মন্দির স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে শিবচালা মন্দিরে শিবপূজা ও মেলা চলে আসছে। প্রতিবছর এ মেলায় মন্দিরে পূজা-অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়।’


মেলায় আসা জাবরা ও বুতুনি গ্রামের গোপী পাল ও লক্ষণ পাল জানান, এই মেলায় মাটির জিনিস বিক্রি করেন দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে। মেলায় মাটির জিনিসের চাহিদা বেশি। অন্যদিকে গোপাল চন্দ্র সরকার (৫৬) বলেন, ‘আমার বাপ-দাদা এই মেলায় বিন্নি নিয়ে আসতেন। আমিও এই মেলায় প্রতিবছর বিন্নি বিক্রি করতে আসি। কলতা গ্রামের মসলা চাষী মোকাম আলী (৮০) মেলায় মসলা বিক্রি করতে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমার চাষ করা মসলা আমি এখানে বিক্রি করতে আসি। এসময় ভালো কালিজিরা, ধনিয়া, মেথী, মিষ্টি সজ , রাধুঁনি সজ বিক্রি হয়।’


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূণ্যস্থানখ্যাত মেলায় শত শত মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে এলাকা। হরেক রকমের দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের মালামালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। আর এসব পণ্য কিনতে ভীড় করছেন ক্রেতা। এ ছাড়াও শিশুদের নানা রকমের বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। ঘিওর থেকে আসা কৃষ্ণা সাহা বলেন, ‘শিব দর্শনের জন্য মেলায় এসেছি। এই মেলার মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে থাকবে।’
মন্দির ও মেলা উদযাপন কমিটির সেবায়েত রুহিদাস চক্রবর্তী বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই মেলা সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে পূণ্যার্থীর আগমন ঘটার মাধ্যমে মেলার ঐতিহ্য টিকে থাকবে।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.