সাম্প্রতিক পোস্ট

সৈয়দালিপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

সাতক্ষীরা, শ্যামনগর থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল
বারসিক’র সহায়তায় শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের সৈয়দালিপুরি গ্রামের আশ্রয়ন জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে আশ্রয়ন প্রকল্পের সার্বিক উন্নয়ন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় উপজেলা নির্বাহী বরাবর আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি। আবেদনপত্রে আশ্রয়ন জনগোষ্ঠী সৈয়দালিপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের অতীত ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়।


আশ্রয়ন জনগোষ্ঠী ভাষ্যমতে, ‘২০০৭ সলের দিকে উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবহেলিত পরিবারদের আশ্রয়ের জন্য সরকারিভাবে একটি ব্যারাক তৈরি করা হয় নুরনগর ইউনিয়নের সৈয়দালীপুর গ্রামে মাদার নদীর চরে এক একর জায়গার উপর। একটি শেডে ১০টি ঘর তৈরি করা হয় এবং ২ বিঘার একটি পুকুর খনন করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘দশঘর’ নামে পরিচিত। ২০০৯ সালে ২৫ মে সংঘটিত আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার ২টি ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের ১০টি পরিবারকে এখানে আশ্রয় দেওয়া হয়। আইলা ঘটে যাওয়ার এই দীর্ঘ সময় পরও তারা নিজেদের বাস্তুভিটায় ফিরে যেতে না পারায় আশ্রয়ন প্রকল্পে অবস্থান করছেন।

আশ্রয়ন জনগোষ্ঠী বলেন,‘আশ্রয়ন প্রকল্পে আশ্রয়ন জনগোষ্ঠীর সুষ্ঠুভাবে বসবাসের জন্য গৃহায়ন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পানির সুব্যবস্থা, স্যানিটেশন ও যোগাযোগের রাস্তা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় সংস্কার বা মেরামতের অভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর, স্যানিটেশন ব্যবস্থা বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে, ব্যবহার্য্য পায়খানাগুলোর ভেঙ্গে গেছে এবং পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ফলে আশ্রয়ন জনগোষ্ঠীর গৃহ ব্যবস্থা ও স্যানিটেশন সমস্যা সমাধান আশু প্রয়োজন। তা না হলে আমাদের ব্যারাকের জীবন ব্যবস্থায় ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিঘœ ঘটবে।’

তাঁরা জানান, যে পুকুরটি আছে সেটি পাশের প্রভাবশালীর দখলে রয়েছে এবং পুকুরে ঘাট না থাকার কারণে যত্রতত্র ব্যবহারে পুকুরের পাড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে একটি পুকুরে ঘাট ও সাথে সাথে পুকুরটি প্রভাবশালীর দখল থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া পানি নিস্কাশনের কোন সুব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। গত মাসে যে ভারী বৃষ্টি হয় সেখানে পানিবন্ধী জীবনযাপন করেছেন আশ্রয়ন জনগোষ্ঠীরা।

এ সমস্যা তা শুধু আশ্রয়ন জনগোষ্ঠীর নয়। তাদেরসহ পাশের গ্রাম মানিকখালী ও কল্যাণপুর গ্রামের জনগণের যোগাযোগেরও যে রাস্তা সেটির একই অবস্থা। বর্ষা হলেই তাদের দুঃখের কোন সীমা থাকে না। আশ্রয়ন জনগোষ্ঠী নানান সমস্যার মধ্যে আছেন। এমতাবস্থায় আশ্রয়ন জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: