সাম্প্রতিক পোস্ট

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা প্রতিটি শিশুর অধিকার

মানিকগঞ্জ থেকে রাশেদা আক্তার

‘আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে গতকাল প্রত্যয় কিশোরী সংগঠনের আয়োজনে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের দিয়ারা ভবানীপুর গ্রামে পালিত হয় বিশ^ কন্যা শিশু দিবস ২০২০। দিবসকে কেন্দ্র করে বাল্য বিয়ে, যৌন নির্যাতন, পারিবারিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আলোচনা সভা ও সংহতি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সাথে কিশোরীদের অংশগ্রহণে ফুটবল দিয়ে গোল করা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


প্রত্যয় কিশোরী সংগঠনের আকলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনার শুরুতেই বিশ^ কন্যা শিশু দিবসকে কেন্দ্র করে দিবসের প্রেক্ষাপট বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করে কিশোরী ফাতেমা আক্তার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করে মানবকল্যাণ কিশোরী সংগঠনের সভাপতি ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘আজ বিশ^ কন্যাশিশু দিবস। আমাদের পরিবারে ও সমাজে ছেলেমেয়েদের আলাদাভাবে দেখে। মেয়েদের অনেক ক্ষেত্রেই অধিকার নাই। মেয়েদের বাল্য বিয়ে দিয়ে দেয়। লেখাপড়া করাতে চায় না। অনেক বাবা মা মেয়েকে বোঝা মনে করেন। আমাদের এই ভাবনার পরিবর্তন করতে হবে। ছেলেমেয়েকে সমানভাবে দেখতে হবে। মেয়েদেরও সমান অধিকার দিতে হবে।’


কিশোরী মালেকা আক্তার বলে, ‘গ্রামে মেয়েরা একটু বড় হলে আশে-পাশের লোকজন খারা চোখে দেখে। বাড়িতে এসে বলে তোমার মেয়েকে বিয়ে দাও না কেন। বয়স হয়েছে। এত লেখাপড়া করিয়ে কি লাভ হবে। অথচ একট ছেলেকে ঠিকই লেখাপড়া করায়। তার বয়স নিয়ে কেউ ভাবেনা। আজকাল ছেলেরা বাবা- মাকে ভাত দেয়না। অনেক মেয়েই আছে যারা বাবা-মাকে দেখে। মেয়েরা সাইকেল চালালে লোকজন খারাপ বলে। বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে দিতে চায়না। আমরা সমান অধিকার চাই। সুযোগ দিলে আমরাও ছেলেদের মত কাজ করতে পারি। আমারও পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারি। তাই আমাদের সমান অধিকার দিতে হবে।’
কিশোরী ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘অনেক বাবা মা মেয়েদের লেখাপড়া করায় না।একটা মেয়ে বাবা- মায়ের জন্য যা করে ছেলেরাও তা করেনা। গাড়ির দুই চাকা সমান না হলে গাড়ি যেমন সমানভাবে চলেনা তেমনি মেয়েরা পিছিয়ে থাকলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। ছেলেমেয়েদের সমানভাবে দেখতে হবে। সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
অভিভাবক আছমা বেগম বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠান আমার খুব ভালো লেগেছে। ছেলেও আমার, মেয়েও আমার। তাই ছেলে- মেয়েদের সামানভাবে দেখা উচিত। কিন্তু অনেকেই তা দেখে না। আমার তিন মেয়ে ছেলে নেই। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। আমার কোন ছেলে নেই। এখন মেয়েরোই আমাদের দেখাশোনা করে। মেয়ের মত মেয়ে হলে ছেলের দরকার হয়না। গ্রামে অনেকের মেয়ে হয় তারা মন খারাপ করে। আমি তাদের বলি যাতে মন খারাপ না করে। ছেলেমেয়ে সবাইকে সমানভাবে দেখতে হবে।’


আকলিমা আক্তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আজ বিশ^ কন্যা শিশু দিবস। আমরা মেয়েরা ফুটবল খেলি। আমাদের অনেক খারাপ কথা বলে। কিন্তু একটা ছেলে যদি ফুটবল খেলে তাকে কিছুই বলে না। ছেলেমেয়েদের পার্থক্য করা ঠিক না। আজ এই দিবসের মাধ্যমে আমরা বলতে চাই আমরা লেখাপড়ার অধিকার চাই। আমরা বাল্য বিয়ে করবো না। শিশুদের প্রতি সকল ধরণের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করবো।’
আলোচনা শেষে কিশোরী ও অভিভাবকদের অংগ্রহণে সংহতি মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বাল্য বিয়ে, শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণসহ শিশুদের অধিকার রক্ষার দাবি জানান।
এরপর কিশোরীদের অংশগ্রহণে ফুটবল দিয়ে গোল করা প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার (সাবান ও মাস্ক) বিতরণ করা হয়।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: