সাম্প্রতিক পোস্ট

‘কটরা’ শিম চাষে আশার আলো দেখছেন কৃষক মো: রাজ্জাক আলী

রাজশাহীর পবা থেকে ব্রজেন্দ্র নাথ
রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নকে বলা হয় সবজি চাষের জন্য রাজশাহীর প্রাণকেন্দ্র। আর এই বড়গাছি ইউনিয়নের কৃষকেরা মৌসুম ভিত্তিক সবজি চাষ করে সবজির চাহিদার জায়গা রাজশাহী শহরকে জোগান দিয়ে আসছেন। চাহিদার জায়গা থেকে যেসব ধরনের সবজি বাড়ির পাশে ও মাঠে চাষ করে থাকেন সেগুলো হলো: লাউ, কুমড়া, বরবটি, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, মূলা, আলু ঢেড়শ, কলমিশাক, লালশাক, পুঁইশাক, গাজর, ফুলকপি, পাতা কপি, পটল, শিম ইত্যাদি। তবে এই মৌসুমে দেখা গেছে বড়গাছি ইউনিয়নের কারিগর পাড়ার কৃষক মো: রাজ্জাক আলী (৪৮)বাণিজ্যিকভাবে পরীক্ষামূলক কটরা শিম চাষ করেছেন।


মো: রাজ্জাক আলী মৌসুম ভিত্তিক সব ধরনের সবজিই চাষ করে থাকেন। তবে এই কটরা শিম চাষ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই কটরা শিম আমাদের এই এলাকায় নাই বললেই চলে। আমি আমার বোনের বাড়ি বড়গাছি ইউনিয়নে সিলন্টিতে বেড়াতে গেলছিলাম। সেখানে গিয়ে জানতে পেরেছিলাম যে এই কটরা শিম অন্যান্য শিমের চেয়ে একটু আলাদা। কারণ এই শিম অন্যান্য শিমের চেয়ে আগেই বাজারে উঠে এবং বাজার মূল্য এই জন্যই বেশি পাওয়া যায়। তাই আমার বড় বোন মোসা শিউলি বেগমের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম এই কটরা শিমের বীজ বাড়িতে নিয়ে এসেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বীজগুলো বাড়িতে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পর ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা হয়। তারপর চৈত্র মাসের মাঝামাঝির দিকে বাড়ির পার্শের ৫ কাঠা জমি প্রস্তুত করে বীজ বপনের জন্য থানা (বীজ বপনের জায়গা বা গর্ত) তৈরি করা হয়। তবে গর্তগুলোতে ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে ভালোভাবে মাটির সাথে মিশানো হয়। তার একদিন পরে সেই গর্তে ৪টি করে কটরা শীমের বীজ বপন করা হয়। এই শিমের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফ’ল আসতে সময় লাগছে প্রায় তিন মাস।’


মো: রাজ্জাক আলী তার জমি থেকে কটরা শিম বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। এই পর্যন্ত তিনি পাইকারী রেটে ৪০ টাকা কেজি দরে ৪ মণ কটরা শিম বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাজারে এই শিম ছাড়া অন্য কোন শিম পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এই শিমের দাম বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আমি মনে করি এই শিম প্রায় আরো দুই মাস বাজারে বিক্রি করতে পারবো।’ জাববার আলী (৪৫) বলেন, ‘এই শিম মূলত গ্রাম গঞ্জে ভাদ্র মাসের প্রথম দিকে কিছু সংখ্যক বাড়িতে লাগাতে দেখতে পাওয়া যেতো এবং শিম উঠতো কার্ত্তিক মাসের শেষের দিকে।’


বীজ সংরক্ণ করলে অন্যন্য কৃষাণ কৃষাণীরা এই শিম চাষ করে আন্তত: কিছুটা হলেও লাভবান হতে পারবেন। এই শিমটি আগাম উঠছে বলে বাজারে এই শিমের অনেক চাহিদা আসছে। তবে আগামী বছরে এই শিমের চাষের পরিমাণ ও সংখ্যা বাড়বে বলে মো: রাজ্জাক আলী জানান। মো: রাজ্জাক আলী বলেন, ‘আমি আগামী দিনের জন্য বেশি পরিমাণে বীজ রাখবো যা বীজ বিনিময় করা সুবিধা হবে। এই শিম চাষে দেখেছি পোকার আক্রমণ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। পোকার আক্রমণ কম হওয়ার জায়গা থেকে আমি মনে করি জৈব সারের ব্যবহারের কারণেই হয়তো বা পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। আমি খুব আশাবাদী এই শিম চাষে আমি বেশ লাভবান হবো।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: