সাম্প্রতিক পোস্ট

বরেন্দ্র অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনেই জননেতৃত্বে কার্যক্রমগুলো সম্প্রসারিত হচ্ছে

রাজশাহী থেকে শহিদুল ইসলাম

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বিশেষ বৈচিত্র্যে ভরপুর। তাই এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন হওয়া দরকার স্থানীয় ভৌগোলিক এবং মানুষের সমাজ-সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়েই। এই উন্নয়নের নেতৃত্ব দিবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ লক্ষ্যে কিছু স্থানীয় মানুষ একত্রিত হয়ে বা সংগঠনের মধ্য দিয়ে তাঁদের প্রচেষ্টাগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। এরকম বিভিন্ন সংগঠন গ্রাম ও শহরে গড়ে উঠেছে। নিজ থেকেই বা কোন স্থানীয় উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই সংগঠনগুলো গড়ে উঠেছে। মূলত: বরেন্দ্র অঞ্চলের জনসংগঠনগুলোর সদস্য বা গ্রামের জনগোষ্ঠী তাঁদের চাহিদামত উন্নয়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা ও শক্তিশালী করাই জনসংগঠনগুলো ভূমিকা পালন করে থাকে। যেখানে জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্পদ পরস্পরের সাথে বিনিময় করবে এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা দলের সাথে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষ, জীবজন্তু, উদ্ভিদ ও প্রাণীসহ অন্যান্য প্রাণ-প্রকৃতির আন্তঃনির্ভরশীল চাহিদাগুলো পূরণে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে জনসংগঠনগুলোর সমন্বয়ে এবং তাঁদের কার্যক্রমগুলো সঠিক দিক নির্দেশনা দেবার জন্য বরেন্দ্র অঞ্চল জনসংগঠন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এই কাজে ২০১০ সাল থেকে সহায়ক হিসেব ভূমিকা পালন করে আসছে।

এরই ধরাবাহিকতায় গতকাল বারসিক রাজশাহী রিসোর্স সেন্টার সভাকক্ষে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং বরেন্দ্র অঞ্চল জনরসংগঠন ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে বরেন্দ্র অঞ্চল জনসংগঠন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার শুরুতেই বরেন্দ্র অঞ্চল জনসংগঠন কমিটির সাবেক আহবায়ক ও জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত কৃষক প্রয়াত ইউসুফ আলী মোল্লার প্রতি এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তাঁর স্মৃতি ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। শুভেচ্ছা আলোচনা শেষে সভায় বরেন্দ্র অঞ্চলে জননেতৃত্বে উন্নয়ন উদ্যোগগুলো নিয়ে পাওয়াপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল সমসন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম। উপস্থাপনায় দেখা যায়, ২০১০ সাল থেকে বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। এ পর্যন্ত বরেন্দ্র অঞ্চলের দুইটি জেলা চাঁপাইনবাগঞ্চ ও রাজশাহীতে ৬৮টি জনসংগঠন গড়ে উঠেছে। ১৪৫টি গ্রামে প্রায় ৩৬৫৫০ জন নারী ও পুরুষের মধ্যে কাজগুলো সম্প্রসারিত হয়েছে। নিজেদের মধ্যে চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হচ্ছে। জননেতৃত্বে কার্যক্রমগুলো নিজ থেকেই জনগোষ্ঠী কাজগুলো একে আরেকজনের মধ্যে সম্প্রসারিত হয়েছে। মূলত পরিবেশবান্ধব স্থায়িত্বশীল কৃষি, শিক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র্য সুরক্ষাসহ জলবায়ু পরিবর্তনে এলাকা উপযোগী কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করছে জনগোষ্ঠী।


উক্ত সভায় সভাপ্রধান হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত ও ধান গবেষক কৃষক নুর মোহাম্মদ। বক্তব্য রাখেন রাজশাহী হেরিটেজের প্রতিষ্ঠাতা, নদী ও পরেিবশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, বড়গাছি কৃষক ঐক্যের সভাপতি রহিমা বেগম, পবা উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কমিটির সভাপতি নুরুল আমীন, তানোর উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার সরকার, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সহ সভাপতি সাবিত্রী হে¤্রম, বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরামের সদস্য সচিব ও সূর্যকিরণ বাংলাদেশ এর সভাপতি শাইখ তাসনিম জামাল।
অংশগ্রহণকারীগণ বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের বৈচিত্র্য এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং কাজগুলো বিনিময় করা হবে। একই সাথে এই অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের জনসংগঠনগুলো আরো শক্তিশালীকরণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে।’
নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের এই বরেন্দ্র অঞ্চলে অজশ্র প্রাকৃতিক সম্পদ তথা, নদী নালা, খাল খাড়ি এবং হাজারো জাতের শস্য বৈচিত্র্য আছে। আমাদের এলাকা উপযোগী এই সকল সম্পদ আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। তাহলেই আমাদের বরেন্দ্র অঞ্চলের স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন হবে।’

আলোচনা ও পর্যালোচনা শেষে সবার সম্মতিতে বরেন্দ্র অঞ্চল জনসংগঠন ব্যবস্থপনা কমিটি পূর্ণগঠন করা হয়। প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে আগামী একবছরের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত ও ধান গবেষক নুর মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অসীম কুমার সরকার। একইভাবে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন রহিমা খাতুন ও নুরুল আলম, শিক্ষা ও পরিবেশ বিষক সম্পাদক হন মনিরা বেগম, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হন কবুলজান বিবি, কৃষি ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হন আলমাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন বরনই সাহিত্য পরিষদের সভাপতি মো. রায়হান কবির জুয়েল, সাংগঠিক সম্পাদক নির্বাচন করা হয় বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলামকে। এছাড়া কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয় জাহেদুল ইসলাম, কৃষি গবেষক রায়হান কবির রঞ্জু আকন্দ, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সহ সভাপতি সাবিত্রী হেম্ব্রম।


উল্লেখ্য, আগামী এক বছরের জন্য এই কমিটি বরেন্দ্র অঞ্চলের জননেতৃত্বে উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং এবং জনসংগঠনগুলোর উন্নয়নে ভূমিকা পালন করবেন। একই সাথে বরেন্দ্র অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর নানা ইস্যুগুলো নিয়ে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন। উক্ত কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচন করা হয় নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, বারসিক’র পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ^াস, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার রাজশাহী প্রতিনিধি ড. আয়নাল হক, ডেইলি স্টার পত্রিকার রাজশাহী প্রতিনিধি আনোয়ার আলী হিমু। উপদেষ্টাগণ এই কমটিকে নানাভাবে মতামত ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: