Posted in

গোদাগাড়ীতে বিনিময়ের বীজ পেল কৃষক-কৃষাণীরা

রাজশাহী থেকে মো. জাহিদ আলী

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র উদ্যোগে নবান্ন ও বীজ বিনিময় উৎসব সম্প্রতি রাজশাহীর গোগ্রাম ইউনিয়নের বড়শীপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল আওয়াল রাজুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান। এছাড়া গ্রামের কৃষক, নারী, শিশুসহ অন্যান্য পেশাজীবীর মানুষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

DSC00537
নবান্ন উৎসবের উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী মেলায় নতুন ধানের পিঠা ও বৈচিত্র্যময় বীজের পসরা সাজিয়ে বসেন এলাকার কৃষাণীরা। বৈচিত্র্যময় ২৭ ধরণের পিঠা তৈরি করেন কৃষাণী আসমা খাতুন, ৮৫ ধরনের বীজ এর পসরা সাজিয়ে বসেছেন কৃষাণী তানজিলা বেগম। বীজ মেলায় বীজের সমাহার ও পিঠার বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বুঝতে সহায়তা করে। মেলায় শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় আমার স্বপ্নের গ্রাম চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। তরুণরা নিজেদের জন্য আয়োজন করে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের। নারীরা খেলেন চরষষড়ি ঢ়ধংংরহম.
নবান্ন ও বীজ মেলায় অন্যতম আকর্ষণ ছিল বীজ বিনিময়ের অপূর্ব বন্ধন। গত বছর বারসিক সহায়তায় প্রদানকৃত বৈচিত্র্যময় বীজ ছোলা, মসুর, মটর, সরিষা কৃষকরা নিজে উৎপাদন করেন এবং শর্ত মোতাবেক সমপরিমাণ বীজ ফেরত দেন। গত বছরের ফেরত পাওয়া ৮৭ কেজি বীজ এই বছর ৩৫ জনকে ৪০ বিঘা জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রদান করা হয়।

DSC00513
বীজ বিনিময় উৎসবের প্রধান অতিথি ইউপি চেয়ারম্যান মজিরব রহমান বলেন, ‘শষ্য বৈচিত্র্যতা বাড়াতে বীজের বহুমূখীকরণের বিকল্প নেই। রবি মৌসুমে কম পানিনির্ভর শস্য বীজ এলাকার পানির ভারসাম্য ও মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করবে।’ তিনি বৈচিত্র্যময় পিঠার প্রদর্শন দেখে অভিভূত হয়ে জানান এই বৈচিত্র্যময় পিঠা আমাদের সংস্কৃতিরই অংশ। বীজ ও পিঠার বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এই কম আয়োজন বেশি বেশি করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল আওয়াল রাজু বলেন, ‘ভুগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে কম পানি নির্ভর শস্য আবাদ এখন সময়ের দাবি। আমাদের এই এলাকায় অনেক জায়গায় এই মৌসুমে বিএমডিএ থেকে পানি দেয়া বন্ধ থাকবে। পানির স্তর টিকিয়ে রাখতে আমাদের বৈচিত্র্যময় শস্য আবাদই সকলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

DSC00533
বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার জাহিদ আলীর সঞ্চালনায় দিনব্যাপী নবান্ন ও বীজ মেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও বীজ বিনিময় করা হয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন গোগ্রাম ইউপির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তৈয়বুর রহমান, আদর্শকৃষক আমিররু ইসলাম, বারসিকের এলাকা সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষাকেন্দ্রের সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফি, অমৃত সরকার ও উপেন রবিদাস প্রমুখ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.