Posted in

বৃষ্টির জল মেটাবে পানীয় জলের অভাব

নেত্রকোনা থেকে রনি খান

বাংলাদেশের নেত্রকোনা সীমান্ত এলাকার মানুষের পানীয় জলের নিদারুণ সংকট যেন তাদের এক নিত্যসঙ্গী। শুধুমাত্র সীমান্ত নয় হাওরাঞ্চলের ছয়মাস, জায়গাবিশেষে বছর ধরেই পানীয় জলের ভোগান্তি বেড়েই চলছে। নেত্রকোনার আটপাড়া, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জসহ নানান জায়গায় বছর-বছর পানির স্তর নিচে নেমে পানি সংকটের নতুন মাত্রা তৈরি করছে। শুধুমাত্র নেত্রকোনা নয় পুরো বাংলাদেশ এমনকি দুনিয়াজুড়ে পানীয় সংকটের যে ভয়াবহ মাত্রা দিনকে দিন তৈরি হচ্ছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে- তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়তো বা পানিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হতে পারে। সুতরাং ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর চাপ না কমাতে পারলে নিশ্চিতভাবেই এ সংকট দিনদিন আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।

পানীয় জল সংকটের এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আশা জাগাচ্ছে বৃষ্টির জল। পানীয় জল নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা দেখাচ্ছেন- ভূগর্ভস্থ পানি পানে মানব দেহের নানান ধরণের অসুখ বিসুখ হয়। যার মধ্যে ত্বকের রোগ থেকে শুরু করে গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো কঠিন রোগও রয়েছে। সেক্ষেত্রে বৃষ্টির জল এই একই রোগের ওষুধ হিসেবেও কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে বাংলাদেশ পৃথিবীর নানান দেশের গবেষকেরা তাই বৃষ্টির জলের উপকারিতার কথা উল্লেখ করে এর পানের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করছেন।

বৃষ্টির জল পানের এই উপকারিতার কথা মাথায় রেখেই তা নিয়ে কাজ করছে উজ্জীবিত নেত্রকোনা। বৃষ্টির জলকে গ্রামের মানুষের পানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এবং তা সংরক্ষণ ও বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের এই উদ্যোগে সহযোগীতা করছে অক্সিজেন যুব সংগঠন, ফুল-পাখি কিশোরী সংগঠন এবং গবেষণামূলক বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা বারসিক। প্রাথমিকভাবে নেত্রকোনা সদর উপজেলার দরুণবালী গ্রামে একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বিতরণ কেন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হয়েছে। বৃষ্টি পানি সংরক্ষণ ও পানের উপকারিতে সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য, নেত্রকোনা জেলার  সম্মানিত জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি প্রদানসহ নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের এই পদ্ধতিটি সীমান্ত এবং হাওর এলাকার জন্য একটি যুগোপযোগী এবং কার্যকরী পদক্ষেপ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে ফুল-পাখি কিশোরী সংগঠন এবং অক্সিজেন যুব সংগঠনের মতো সংগঠন এগিয়ে আসলে এই পদ্ধতিটি অনেক দ্রুত এবং কার্যকরী উপায়ে সফলভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে উদ্যোক্তারা মনে করছেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.