Posted in

বৃক্ষ আমাদেরকে সুরক্ষিত রাখে

সত্যরঞ্জন সাহা হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার একটি অংশ চর অন্যটি সাবক। উপজেলার উপর দিয়ে পদ্মা নদী বয়ে যাওয়ায় দুইটি অংশে বিভক্ত হয়। চরাঞ্চালের মানুষের পদ্মা নদী পড়াপাড়ের মাধ্যম ইঞ্জিন চালিত নৌকা। প্রায় ৩৫ বছর আগে পদ্মার চর জাগে ও চরে মানুষের বসতি গড়ে উঠে। বাড়ি ঘর হওয়ার পরে মানুষ কাঠ ও ফলের গাছপালা রোপণ করেন। এলাকায় খুব কমই দেখা যায় তাল, খেজুর ও বট-পাকুড় গাছ। হরিরামপুর পদ্মা তীরবর্তী হওয়ায় নদীভাঙন এবং বন্যায় রাস্তা-ঘাট ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে এবং বারসিক’র উৎসাহে তাল, খেজুা বীজও বট-পাকড় চারা রোপণ করছেন।

গাছ রোপণের এ ধারাবাহিকতায় হরিরামপুর যুব স্বেচ্ছাসেবক টিমের উদ্যোগে ২০১৪ সাল থেকে রাস্তার পাশে তাল ও খেজুর বীজ রোপণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ অন্য তরুণরাও অংশগ্রহণ করেন। তারা তাল, খেজুর বীজ ও বট পাকড় চারা রোপণ করেন। এভাবে তারা এক পর্যায়ে চালা বাজার থেকে কামার পাড়া, কৌড়ি কলেজ থেকে সাপাইর বাজার, লাউতা বাজার থেকে সাপাইর বাজার, দড়িকান্দি রোড, বাহিরচর রোড, কর্মকারকান্দি রাস্তা, দিয়াবাড়ি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব গাছের চারা, বীজ রোপণ করেছেন। বর্তমানে রাস্তার পাশে এসব তাল ও খেজুর গাছগুলো বড় হয়ে উঠছে।


এই বিষয়ে হরিরামপুর পদ্মা পাড়ের পাঠশালা পরিচালক মীর নাদিম হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে মানুষসহ প্রাণ সম্পদের বেশ ক্ষতি হয়। তাই আমাদের উদ্যোগে বজ্রপাত রোধে তাল ও খেজুর বীজ বপন উদ্যোগ গ্রহণ করি। বারসিক যুবকদের উদ্বুদ্ধ করে রাস্তার পাশে তাল খেজুর ও ফলের চারা রোপণে সহযোগিতা করছে। আগের তাল খেজুর বপন করা বীজগুলো গাছ হয়েছে। ফলে রাস্তার পাশে দেখা যায়। তবে যেসকল রাস্তার পাশে তাল খেজুর বীজ বপন করেছি সেকল রাস্তার পাশে পুনরায় বপন করে ঘনত্ব বাড়াতে হবে। আমাদের বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম চলতে থাকবে।’


হরিরামপুর অনলাইন স্বেচ্ছাসেবক টিমের আহবায়ক জাকির হোসেন বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক টিম, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্যোগে তাল ও খেজুর বীজ সংগ্রহ করা হয়। যুবকদের সহযোগিতায় রাস্তার পাশে বপন করা হয়। তবে তাল গাছে ভাজ/বিদ্যুৎ পড়ে, ফলে প্রাণিদের ক্ষতি হয় কম। এজন্য মানুষ সচেতন হয়ে তাল ও খেজুর বীজ বপন করছেন। আমরা তাল খেজুর বীজ বপনে প্রচার করছি ও বারসিক সহযোগিতা করছে।’

হরিরামপুরের পাটগ্রামচর স্বেচ্ছাসেবক টিমের সভাপতি মোঃ রাসেল বলেন, ‘শীতে খেজুরের গুড়ের পিঠা পায়েস আমাদের ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। তাল ও খেজুর গাছ রাস্তার ঘাট ভাঙন রোধে সহায়তা করে। চরে তাল খেজুর গাছ নেই বলেই চলে। এজন্য যুবকদের উদ্যোগে প্রতিবছর রাস্তার পাশে তাল ও খেজুর বীজ বপন করছি। ফলে পরিবেশে জন্য ভালো হচ্ছেএবং জান-মালের ক্ষতি কম হয়। যুবকদের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। তবে এসকল কার্যক্রমে কৃষক কৃষাণীগণ পাশে থেকে তাল খেজুর গাছ বপন করে সহযোগিতা করছেন।’
হরিরামপুরের পাটগ্রামচর নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি আজিনা বেগম বলেন, ‘বর্তমানে বৃক্ষ রোপণে মানুষের উৎসাহ ও উদ্যোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চরে বড় তাল ও খেজুর গাছ নেই বলেই চলে। রাস্তার পাশে স্বেচ্ছাসেবক টিমের উদ্যোগে বপনকৃত বীজ চারা হয়ে বড় হচ্ছে। বারসিক বাড়ি বাড়ি ফলজ ঔষধি, বনজ গাছের চারা দিয়ে ও পারিবারিক নার্সারি তৈরিতে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে বৃক্ষ রোপণে ব্যাপক উদ্যোগে পাখির খাবারে, কৃষকের ফসল রক্ষায় সহায়তা করছে। আমরা সবাই মিলে সবুজ পৃথিবীতে ভালো থাকব। আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে।’


স্বেচ্ছাসেবক টিম ও জন সংগঠনের উদ্যোগে ৭ বছর আগে রাস্তার পাশে তাল ও খেজুর বীজ বপনকৃত বীজ চারা বড় হচ্ছে। এলাকার জনগণই তাল ও খেজুর চারাগুলো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। যুব স্বেচ্ছাসেক টিম প্রতিবছর তাল খেজুর বীজ বপন করছেন। ফলে যে সকল জায়গায় চারা কম দেখা যায় সেগুলো পূরণ হচ্ছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.