সাম্প্রতিক পোস্ট

নদীটি আমাদের রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের

রাজশাহী থেকে আয়েশা তাবাসসুম

রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে শিব নদী। একসময় এ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো অনেক মানুষের জীবিকা। নদীর আশেপাশে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয়ের প্রধান উৎস ছিলো এ নদী। পূর্বে এ নদীতে নানান ধরনের মাছ পাওয়া যেত। এ মাছগুলো বিক্রি করে অনেক জেলে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। নদীতে জলজ উদ্ভিদ যেমন, শাপলা, শালুক, পানিফল,পদ্ম,ঘেচুর,লিখাড়,ইত্যাদি পাওয়া যেত যেগুলো মানুষেরা খাবার হিসেবে ব্যবহার করতো। এই খাবারগুলোর পুষ্টিগুণ ছিলো অনেক বেশি। শাপলা ভ্যাট থেকে খই বানিয়ে তারা সংরক্ষণ করে যেকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় খেতেন।

অন্যদিকে নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ যেমন, নয়নার,চেলা, ময়া, কাখলা মাছগুলো পাওয়া যেতো। বিল শুকালে বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস জন্মাতো যা গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হতো এবং বিভিন্ন জলজউদ্ভিদ যেমন, বিষকাঠালী, হাগড়া, ঝিটকিনি ইত্যাদি নদীর আশেপাশের মানুষেরা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের প্রাণী যেমন শামুক, হাচড়া, কাকড়া ইত্যাদি হাঁসের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হতো। পূর্বে এ বিলটিতে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি আসতো। ফলে প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষ ও প্রাণীদের খাবারের অন্যতম প্রধান উৎস ছিলো এ নদী।

তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভরাট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে নদীটি তার চিরচেনা ঐতিহ্য হারিয়েছে। নদীতে পূর্বের মতো আর মাছ পাওয়া যায়না। শাপলা, শালুক,পদ্ম পানিফলের মতো খাদ্য অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বোরো মৌসুমে অতিরিক্ত পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এবং মাছের অভয়াশ্রম না থাকায় বিলে আর তেমনভাবে মাছ পাওয়া যায় না। এ বিলে গবাদিপশুর জন্য আর ঘাস পাওয়া যায় না। বর্তমানে আসে না কোন অতিথি পাখিও। এবার শীতে দুই তিন প্রজাতির অতিথি পাখি বিলে এসেছে এবং সচেতনতার অভাবে সেই পাখিগুলোকে বিভিন্ন উপায়ে ফাঁদ পাতিয়ে, ছোট মাছের সাথে বিষ মিশিয়ে নির্বিচারে মেরে খওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এই অতিথি পাখি রক্ষা ও শিব নদীর প্রাণবৈচিত্র সুরক্ষায় বারসিক’র উদ্যোগে শিবনদীর পাড়ে অবস্থিত শিতলীপাড়া গ্রামে একটি মানববন্ধন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে প্রকৃতি, প্রাণবৈচিত্র অবদান ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী অতিথি পাখি শিকার ও বাজারজাতকরণের শাস্তি, সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় মোঃ সিরাজ উদ্দিন (৫০) প্রাণবৈচিত্র সুরক্ষা ও আমাদের পরিবেশের সাথে কিভাবে সম্পর্কিত সেই বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সুস্থ থাকা নির্ভর করে প্রকৃতির ওপর। তাই আসুন আমরা প্রকৃতির সব উপাদানকে রক্ষা করি। শিব নদী আমাদের। তাই নদীর রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: