Posted in

পানি সঙ্কট সমাধানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ

মানিকগঞ্জ থেকে এম. আর. লিটন

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া কোন প্রাণী বাচতে পারে না। এ বিশ্ব সংসারে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো পানি। মানবজীবনসহ কলকারখানা ও কৃষি কাজ প্রতিক্ষেত্রে পানি অবশ্য প্রয়োজন। নগর জীবনে পানির চাহিদা অনেক, সেই সাথে রয়েছে ব্যাপক পানি সমস্যা। সম্প্রতি মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় দেখা যায় পানি সংকট। পানি সঙ্কটের সাথে যু্ক্ত হয়েছে প্রাপ্য পানিতে জীবানু, আয়রণ ও আর্সেনিক এর উপস্থিতি।

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় পানির উৎস নলকূপ, পুকুর, নদী ও খাল। এ এলাকার নলকূপগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও আর্সেনিক রয়েছে। এখানে রিজার্ভ ট্যাংক নামে পুকুর থাকলেও পুকুরের চারপাশে আগাছা এবং পানিতে ময়লা অবর্জনা দেখা যায়। তারপরও এখানে অনেকে গোসল করেন। এই কারণে এই পানি মানুষের খা্বারসহ অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের উপযোগী নয়।1 1

মানিকগঞ্জ এলাকায় প্রাকৃতিক পানির উৎস অভাব নেই। নদীসহ আছে খাল। পৌর এলাকার বুক চিরে বয়ে গেছে কালিগঙ্গা নদী। তবে নদীতে সারাবছর মানুষজন গোসল করে। কিন্তু নদীর পানিতে প্রচুর পরিমাণে ময়লা অবর্জনা ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া মানিকগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। যা আজ পানিশূন্য এবং মৃত্ প্রায়। খালটি শুকিয়ে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। তাই প্রাকৃতিক পানির উৎস থাকার পরও এই এলাকার মানুষেরা প্রতিবছর তীব্র পানি সঙ্কটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন।

এলাকার পানি সঙ্কট অনুভূত হলেও পৌর এলাকায় পানি সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের তেমন কোন প্রদক্ষেপ দেখা যায়নি দীর্ঘদিন ধরে। মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় (বেউথা) আর্সেনিক নিশোধন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এই পানি মানিগঞ্জ পৌর এলাকায় চাহিদা মেটাতে পারে না। পাশাপাশি, সময়মত সরবরাহও করা হয় না।

এই প্রসঙ্গে পূর্ব দাশড়ার বাসিন্দা ভজন কৃষ্ণ বণিক (৪৫) বললেন, ‘পানি ও জলের তীব্র সমস্যা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিদিষ্ট সময় পানি সরবরাহ করে না। সকালে এবং রাত্রে দুইবার পানি আসে কিন্তু নিয়মিত নয়। এছাড়াও পানিতে প্রচুর পরিমাণে জীবানু এবং ময়লা দেখা যায়।”2

বর্তমানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ আর্সেনিকমুক্ত পানির একটি উৎস হিসেবে ভাবা হয়েছে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে। এলকার মানুষেরা নিত্যদিনের পানি সঙ্কট মোকাবিলা করার জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা বৃষ্টির পানি পানীয় জল হিসেবে বড় মাটির পাত্রে বা ফেবো সিমেন্টের জালায় সংরক্ষণ করে রাখেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টি শুরু হওয়ার ৫-৬ মিনিট পর বৃষ্টির পানি ধরতে হয়। জানা যায়, অনেকে বৃষ্টির পানি পান করা ছাড়াও রান্নার কাজ এবং বিভিন্ন রোগের ঔষুধ হিসেবে ব্যবহার হয় দীর্ঘ অতীত থেকে।

বৃষ্টির পানির গুরুত্ব মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন কচি (৬২) বলেন, ‘আমি দশ বছর ধরে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করছি। চা-পান এবং রান্নার কাজসহ বৃষ্টির পানি ব্যবহার করি। বৃষ্টির পানিতে কোন আর্সেনিক থাকে না। বৃষ্টির পানি দিয়ে চা এবং রান্না করা জিনিসের স্বাদ বেশি। টিউবওয়েলের পানি দিয়ে রান্না করার সময় ভাত বা ডাউল কালচে রং ধারণ করে এবং ডাউল সিদ্ধ হতে চায় না। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে ডাউল সহজে সিদ্ধ হয়। বৃষ্টির পানি দিয়ে রান্না করা ভাত এক বেলা থেকে অন্যবেলায় খাওয়া যায়, ভাত নষ্ট হয় না।” তিনি আরো বললেন, নগর জীবনে পানি সঙ্কটের সমস্যা সমাধানের জন্য বৃষ্টির পানিকে বিকল্প হিসেবে ভাবা দরকার। এইজন্য মানুষের মধ্যে সচতেনতা তৈরি করতে হবে যাতে তারা বৃষ্টির পানিকে পানিসম্পদ হিসেবে দেখেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.