Posted in

আর্ন্তজাতিক সাক্ষরতা দিবসে কমিউনিটির উদ্যোগ

মানিকগঞ্জ থেকে নীলিমা দাস ও রাজশাহী থেকে জাহিদ আলী 

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। আপাত দৃষ্টিতে আধুনিক প্রযুক্তির বদৌলতে মনে করা হয় বাংলাদেশ এবং বিশ্বে কোন নিরক্ষর লোক নেই। কিন্তু বাস্তব চিত্র এর থেকে ভিন্ন। ইউনেস্কোর ২০১৫ সালের তথ্য মতে সারা বিশ্বে সাক্ষরতার হার প্রায় ৮৬.৩%। আর বাংলাদেশে সেই চিত্র আরো করুণ- মাত্র ৬১.৫%। তাইতো পৃথিবীর সকল মানুষকে সাক্ষরতার আলোয় নিয়ে আসতে হলে- সাক্ষরতা দিবস পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম নিতে হবে- বৈশ্বিক, আঞ্চলিক, রাষ্ট্রীয় এবং কমিউনিটির ভিত্তিতে। আর তাইতো বারসিক বাংলাদেশ সরকারের সাথে সাথে স্থানীয় ভাবে কমিউনিটির অংশগ্রহনে উদযাপন করেছে।
মানিকগঞ্জ : র‌্যালী ও বয়স্কদের সাক্ষরতা অভিযান
DSC02370শিক্ষা সুযোগ নয় অধিকার এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বেসরকারী সংগঠন বারসিক ও বড় বড়িয়াল কিশোর-কিশোরী উদ্যোগে আর্ন্তজাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১১ টায় র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালী শেষের পর মহেন্দ্র মনি দাসের বাড়ীতে বয়স্কদের হাতে কলমে সাক্ষর শিখানো হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রায় ৮০ জন নারী-পুরুষ, কৃষক-কৃষাণী, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও বয়ো:জৈষ্ঠ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বড় বড়িয়াল কিশোর-কিশোরী সংগঠন সিদ্ধান্ত নেয় যে, তাদের গ্রামে আর কোন নিরক্ষর ব্যক্তিকে রাখবে না। তারা প্রতি শুক্রবার বয়স্কদের সাক্ষর শিখাবেন।

রাজশাহী: আলোচনা সভা ও সাক্ষরতা স্কুল এর ইউনিট উদ্বোধন
গোকুল-মথূরা স্বপ্নচারী উন্নয়ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সক্ষরতা বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বারসিক সহায়তায় রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার গোকুল মথুরা গ্রামে আজ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে। পাশাপাশি সাক্ষরতা স্কুল এর একটি ইউনিটও উদ্বোধন করা হয়। কবি আফাজ কবিরাজ সাক্ষরতা স্কুল এর ইউনিটটি উদ্বোধন করেন।

DSC00609

সেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নচারী উন্নয়ন সংগঠনের সদস্যরা নিজ গ্রামকে নিরক্ষর মুক্ত করার লক্ষ্যে গোকুল মথূরা গ্রামে ২০ জন নিরক্ষর ব্যক্তিকে সাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহন করেন। সংগঠনের সদস্যরা ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য বই ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেন। আগ্রহী ২০ জন নিরক্ষর শিক্ষার্থীদের সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করার জন্য নিজেদের মধ্যে হতে প্রশিক্ষক নির্বাচিত করেন। নিরক্ষর ২০ জন শিক্ষার্থীকে সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে।
সাক্ষরতা ইউনিটের শিক্ষার্থী নুরজাহান বেগম (৪৫) জানান, “এই শিখনের মাধ্যমে আমাদের টিপসহি দেওয়া লাগবে না। আমরা নিজেরা পড়তে পারবো, ছেলে মেয়েদের পড়াতে পারব, গ্রামে আমাদের কেউ আরো খাটো করে দেখবে না।”
উদ্বোধন শেষে কবি আফাজ কবিরাজ বলেন, “টিপ সহি দেওয়া এখন লজ্জার বিষয়। এইখানে যারা সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন হবে তাদের আর টিপসহি দিতে হবে না তাদের নিজেদের মান বাড়বে।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.