Posted in

দুর্যোগ মোকাবেলায় বিকল্প উদ্যোগ

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা:

মানিকগঞ্জ জেলার অর্ন্তগত হরিরামপুর উপজেলাটি প্রাণবৈচিত্র্যে ভরপুর। উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী এবং তার শাখা নদী ইছামতি। এছাড়া দিয়াবাড়ি বিল, ভাতচালা বিল, গোপিনাথপুর বিলসহ মাঠ-ঘাট বর্ষা মৌসুমে পানিতে ভরপুর থাকে। হরিরামপুর পদ্মা সংলগ্ন নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতি বছর বন্যা, অতিবৃষ্টি, নদী ভাঙ্গন, ব্রজপাত, ঘন কুয়াশার মত প্রাকৃতিক দূর্যোগ মাথায় রেখে কৃষকগণ প্রকৃতির সাথে লড়াই করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভয়াবহতা বাড়ছে। চাষাবাদে ক্রমাগত পরিবর্তন তথা দূর্যোগের প্রভাব গ্রামীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উপর সবচেয়ে বেশি।

 

Untitled

হরিরামপুর উপজেলার হারুকান্দি ইউনিয়নের ভেলাবাদ গ্রামের কৃষাণী নাসিমা বেগম (৪৬) দুর্যোগ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা সর্ম্পকে বলতে গিয়ে বলেন, “আমরা কৃষি কাজ করে বাঁইচা আছি। পালানে (ফসলী মাঠে) পানি কচুর চারা মইরা যাইবো, এজন্য রাস্তার পাশে উঁচু জায়গায় কচুর চালা লাগাইছি। ভাদ্র মাসে পালান/মাঠ থেকে পানি গেলে, জমিতে রোপন করা হয়। কচু চাষে গোবর সার দিয়ে জমিতে শুধু রোপন করলেই বড় হতে থাকে। কচু চাষে লতি/লতা পাওয়া যায়, যা জৈষ্ঠ মাস থেকে শ্রাবন পর্যন্ত বিক্রয় করা যায়। বাজারে এক কেজি কচুর লতি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রয় করা যায়। একটি কচু গাছে আনমানিক ২ কেজি লতা/লতি পাওয়া যায়। একটি কচু গাছসহ কচুর মোথা ৩০-৫০ টাকা বিক্রয় করা যায়। কচু চাষ বেশ লাভজনক ও বন্যার সময় আমাদের এলাকায় সবাই তরকারি রান্না করে খায়।”
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গ্রাম পর্যায় আলোচনার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলা পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়। এই আলোচনায় অংশগ্রহন কারীদের মতামতের ভিক্তিতে গ্রামের আপদ (বন্যা, অতিবৃষ্টি) ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়। বর্ষা মৌসুমে মাঠ-ঘাটে সকল জায়গায় পানিতে পরিপূর্ণ থাকায়, মাঠে থাকা কৃষি বীজবৈচিত্র্য রক্ষার জন্য রাস্তার পাশে কচুর চারা রোপন করে সংরক্ষণ করেন। মাঠের পানি নেমে গেলে কৃষকগণ জমিতে পলি ও বালির পরিমান কম বেশি চিন্তার করে চাষাবাদ করেন। বিগত বছরে এ এলাকায় আমন মৌসুমে ধান চাষ করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে আমন মৌসুমে জমিতে বেশি পানি থাকায় বোনা আমন ধান চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়াও কৃষকগণ চর এলাকায় মাঠে বালির পরিমান তুলনামূলক বেশি পড়ায় রবি শস্য চাষে উদ্যোগ গ্রহন করা করে। বাহিরচর, রামকৃষ্ণপুর, হরিরামপুরের কৃষক শহিদুর বিশ^াস (৪৫) বলেন, “ কৃষক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করা হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে মাটির ধরন অনুযায়ী ধনিয়া, লাল শাক, পালন শাক, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, গুড়াসজ, মুগ, কেলাই, খেসারি, পিয়াজ, রসুন, শরিষা ইত্যাদি চাষাবাদ করা হয়। মাঠে ফসল বৈচিত্র্যে ভরপুর হয় মাঠ-ঘাট। কৃষক-কৃষাণীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে শস্যে ভরে উঠে কৃষকের ঘর, দেশ পরিপূর্ণ হয় খাদ্য শস্যে। কৃষিতে কৃষকের দক্ষতা ও পরিবেশ সম্মত চাষাবাদে কৃষকগণ সফল হয়। আমরা যুগ যুগ ধরে টিকে আছি পরিবেশ সম্মত উদ্যোগ চর্চার মধ্য দিয়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় নিজেরা চর্চা করি ও গ্রামের অন্যান্য কৃষক পরিবারকে তথ্য প্রদান করে সহায়তা করি। ফলে পরিবেশ সম্মত উদ্যোগ চর্চার মাধ্যমে কৃষি জাতবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বিনিময়ের মাধ্যমে চাষাবাদের উদ্যোগ বৃদ্ধি পায়”।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.