Posted in

ঐতিহ্যবাহী চুনা নদীর নৌকা বাইচ

সাতক্ষীরা থেকে মননজয় মন্ডল

“মাঝি-মাল্লাদের, মারো টান হেইয়ো, জিতেই যাব হেইয়ো, ইনশাল্লাহ হেইয়ো রব” আর হাজার হাজার দর্শকের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সম্প্রতি শ্যামনগরের চুনা নদীতে  হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। প্রতিবছরের মত বুড়িগোয়ালিনী ও আটুলিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চুনা নদীতে পানখালী জেলে কল্যাণ সমিতি চুনা ও চুনা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি যৌথভাবে প্রতিযোগিতা আয়োজন করে।
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার চুনা নদীর এই ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইজ উপলক্ষে সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু-মুসলিম, নারী পুরুষ ও শিশু কিশোরের এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। নদীর দু-পারে হাজার দর্শনার্র্র্র্র্থীর মাঝে বসত নানান ধরনের ভ্রাম্যমাণ দোকান। এসময় সকল মানুষের মনে আনন্দঘন আনন্দের প্রবাহিত হয়, একের সাথে অপরের, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের হৃদ্যতা ও পারষ্পারিক সম্পর্ক উন্নয়ন ঘটে।
noaka
সুন্দরবন থেকে প্রবাহিত চুনা নদীবক্ষে বাইচেলদের ছন্দময় দাঁড় নিক্ষেপে নদীজল আন্দোলিত করে যে মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা হয় তা অতুলনীয়। মাঝিদের একত্র জয়ধ্বনিতে এবং একই লয়ের গানের তালে, ঝোকে ঝোকে বৈঠার টানে এক সঙ্গে পানিতে এক অপূর্ব অভিঘাতের সৃষ্টি হতে থাকে। অন্য সব নৌকাকে পেছনে ফেলে নিজেদের নৌকাকে সবার আগে যাওয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টায় মাঝি-মল্লাদের বৈঠার গতি বেড়ে চলে। প্রায় এক কিলোমিটার দুর থেকে বাঁশির শব্দে যখন নৌকা ছাড়া হয় তখন দুপারের হাজারো দর্শকের করতালীতে মুখরিত হয়ে ওঠে। এই নৌকাবাইচ অত্র অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তৈরি করে এক সম্প্রীতির বন্ধন।
noaka-1
স্থানীয় ইউপি সদস্য গাজী গোলাম মোস্তফা’র সভাপতিত্বে এবং বারসিক কর্মকর্তা মননজয় মন্ডল এর সঞ্চালনায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা ৪ আসনের  সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আতাউল হক দোলন, ৯নং বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান বাবু ভবতোষ কুমার মন্ডল, ১০ নং আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার বলেন, “দেশের দক্ষিণের এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও প্রাচীন সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের সকলকে এক হতে হবে। আমি আমার নিজের বরাদ্দ থেকে প্রতিবছর নৌকা বাইচের অর্থ বরাদ্দ দেব যাতে করে সুন্দরভাবে প্রতিবছর এই উৎসব উৎযাপন করতে পারি। তিনি এই ভাসমান মঞ্চকে স্থায়ী মঞ্চ এবং মঞ্চের নামকরণ করেন কালিদাস জোয়ারদার স্মৃতি মঞ্চ।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.