Posted in

আমাদের স্বপ্ন আঁকি

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা

‘আমরা বুঝতে পেরেছি যে সমাজে আমরা মণিঋষিরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে আছি। তাই মণিঋষি সমাজের উন্নয়নে নতুন কিছু আমাদের করতে হবে। শিক্ষায় আমাদের ছেলে মেয়েদের বড় করে তুলতে হবে। কোমলমতিদের মাঝে স্বপ্ন জাগাতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে আমরা পারি আমাদের উন্নয়নে, আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে। কষ্টের মাধ্যমে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়ে সফলতাকে ছিনিয়ে আনতে। আমাদের সংগ্রামকে সম্মিলিতভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যইে আমরা সফল হয়েছি। তৈরি করতে পেরেছি মণিঋষিদের প্রাথমিক লেখাপড়ার জন্য বিদ্যাপিঠ “কালই মনিঋষি শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্র”।


উপরোক্ত কথাটি বলেছেন কালই মনিঋষি শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সভাপতি ও উদ্যোক্তা নিত্যমনি সরকার। তিনি জানান, এই শিক্ষা কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠার মাধ্যে মণিঋষি সমাজের সকল পরিবারের সন্তানেরা আনন্দঘন পরিবেশে লেখাপড়া করছে। বারসিক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান করে মণিঋষি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্যোগ সৃষ্টিতে সহযোগিতা করছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য অভিভাকদের আগ্রহ থাকলে শিশুরা উৎসাহিত হয়। তবে শিক্ষা কেন্দ্রটিতে নিয়মিত লেখাপড়া চলতে থাকলেও বর্তমানে মহামারী করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছেনা। সম্প্রতি এই স্থবিরতাকে কাটিয়ে উঠার জন্য স্থানীয় উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘আমাদের স্বপ্ন আঁকি’ শিরোনামে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।


এই প্রসঙ্গে শিক্ষক এসোনা মণিদাস বলেন, ‘মহামারী করোনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্যতা কমে গেছে। মাঠে খেলাধুলা বন্ধ হওয়ায়, মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাড়িতে লেখাপড়া করে না, টিভির সামনে বসে থেকে এক ধরনের বন্দী জীবন পার করছে। তাই তাদেরকে বিনোদন দেওয়ার জন্য এবং করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া মণিঋষিরা অনেকটা অসচেতন। তাই সমাজের শিক্ষা উদ্যোগী ব্যক্তি ও বারসিক’র সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও মানসিক বিকাশে পরিবারকে সচেতনে এই ধরনের উদ্যোগ গস্খহণ করা হয়।’


বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, ‘কালই শিক্ষা, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে মণিঋষিদের শিক্ষালাভ করতে পারছে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে এই শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের অধিকার এবং মণিঋষি নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। আজ এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনোদন ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনাই শুধু হচ্ছে না সাথে সাথে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মণিঋষিদের সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। করোনা থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পড়া, হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়েও তারা জানতে পারছেন।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.