Posted in

কুমিল্লার কোটবাড়ি পাহাড়ে কাসাবা আলুর চাষ

কুমিল্লা থেকে মো. মতিউর রহমান

কাসাবা একটি কৃষিজাত পণ্য। বর্তমানে এ কৃষি পণ্যটি কুমিল্লার লালমাই এবং ময়নামতি পাহাড়ের লোকজনদের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে উঠছে। ফলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার পাহাড়গুলোর বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে কাসাবা’র চাষ। এরই ধারাবাহিকতায় কোটবাড়ির সালমানপুর নামক এলাকায়ও চাষীরা কাসাবার চাষে নিয়োজিত হচ্ছে এবং জীবিকা নির্বাহেরও একটি মাধ্যম হিসেবে বেঁছে নিয়েছে এ কৃষি পণ্যটিকে।

৪ থেকে ৫ ফুট উঁচু গাছের গোড়ায় মাটির নীচে উৎপাদিত এই কৃষিজাত দ্রব্যটি বছরে একবার আহরণ করা হয়ে থাকে। কাসাবার চাষের সাথে জড়িত সালমানপুর এলাকার মো. সাত্তার মিয়া জানান, কোটবাড়ি এলাকার সালমানপুরে প্রথম কাসাবার চাষ শুরু হয়। এখান থেকে উৎপাদিত কাসাবার উত্তরবঙ্গের রংপুর জেলায় বিক্রি করা হত। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই কাসাবা বিক্রি শুরু হয়। এভাবেই পরিচিত হয়ে উঠতে থাকে কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ে কাসাবা’র উৎপাদন।

CoU kasaba pic

বর্তমানে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের বহুস্থানে চাষ করা হচ্ছে কাসাবা আলু। লালমাই পাহাড়ের সালমানপুর, রতনপুর, কোটবাড়ি বিজিবি সেক্টর ব্যাটালিয়নের আশপাশসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাহাড়গুলোতে চাষাবাদ হচ্ছে কাসাবা। সাধারণ প্রতি একর জমিতে কমপক্ষে ২শ’ মণ কাসাবা উৎপাদন হয়। এই কাসাবা আলু চিপস তৈরিসহ নানা ধরনের ভোজ্য পণ্য তৈরির উপাদান হিসেবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যবহার করছে। এছাড়াও ডায়বেটিকস ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঔষধের কাচাঁমাল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে কাসাবা বলে জানা যায়।

কাসাবার বংশ বিস্তার সাধারণত ষ্টেম কাটিংয়ের মাধ্যমে করা হয়। ৮ থেকে ১২ মাসের ২/৩ সেন্টিমিটার পুরুত্ববিশিষ্ট রোগ ও পোকামাকর মুক্ত কান্ড চারা তৈরির জন্য আদর্শ। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রোগ মুক্ত কান্ড সংগ্রহ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কান্ডটি খানিকটা আড়াআড়ি করে ধারালোভাবে কেটে পলি ব্যাগে বা সয়েল বেডে ৫ সেন্টিমিটার গভীরতায় রোপণ করতে হয়।
কাসাবা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত কর্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ কন্দ জাতীয় ফসল। খাদ্য হিসেবে কাসাবার পরিষ্কার টিউবার সরাসরি বা সেদ্ধ করে অথবা কাঁচাও খাওয়া যায় । কাসাবা থেকে উন্নতমানের সাদা আটা পাওয়া যায় যা দিয়ে বিস্কুট, চিপসসহ নানাবিধ খাবার তৈরি হয়। এছাড়াও সাগু, বিয়ার, পোলট্রিফিড তৈরিসহ বস্ত্র, কাগজ এবং এলকোহল শিল্পে প্রচুর কাসাবা ব্যবহার করা হয়।

কুমিল্লার সালমানপুর এলাকার কসাবা চাষী মো. কবির হোসাইন বলেন, “সাধারণত বছরের একবারই কাসাবা আলু তোলা হয়। এ এলাকার বহু লোক বর্তমানে কাসাবা চাষের সাথে জড়িত।” তিনি আরও বলেন, “প্রতি মণ কাসাবা সাধারণ ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ কাসাবা এখান থেকে ক্রয় করে নিয়ে যায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.