সাম্প্রতিক পোস্ট

সাতক্ষীরার এক বৃক্ষপ্রেমী নারী ফারুকি নাজনীন

সাতক্ষীরার এক বৃক্ষপ্রেমী নারী ফারুকি নাজনীন

সাতক্ষীরা থেকে বরুণ ব্যানার্জী

“গাছের ক্ষুধা আমার মেটে না তাই গাছ লাগাই। থাইল্যান্ড, ব্যাংকক, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, বেলজিয়াম, প্যারিস, লন্ডন, ভারতসহ দেশীয় জাতের ৪৫০ প্রজাতির গাছের কালেকশান আছে আমার। বাইরের গাছ আছে ৪০% আর দেশি প্রজাতের গাছ ৬০%। গাছগুলোর মধ্যে হাইডেনজে, এনথুরিয়াম, ইউফোরবিয়া, পরকি, ক্যাকটাস, সাকুলেন্ড, অরকিড, অটার লিলি, ড্রাগন ডিসেট, ট্যাংক পল ইত্যাদি রয়েছে।” এসব কথা জানান সাতক্ষীরা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা বৃক্ষপ্রেমী নারী ফারুকী নাজনীন।

অফিস শেষে গাছের সাথেই সময় কাঁটান এই নারী। তিনি বলেন, “গাছের মধ্যে গেলে আমি সুস্থ থাকি, ভালো থাকি। গাছের প্রতি ভালোবাসার শুরুর ঘটনা বলতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, “বিয়ের পর দেখি স্বামী আজিজুর রহমান বাড়ির ছাদে বেশি সময় কাঁটান। ছাদে টবে লাগানো রয়েছে তার শতাধিক গাছ। এসবের পেছনে সময় দেওয়ায় স্বামীর সাথে ঝগড়াও হতো।” তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ স্বামী ডাক্তার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০০২ সালে হঠাৎ তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আর সময় দিতে পারতেন না বাড়ির ছাদে। একদিন ছাদে গিয়ে দেখতে পাই গাছের গোড়ায় পানি নেই। গাছগুলো শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। স্বামী বাড়ীতে ফিরলে তাকে বিষয়টি জানায়।” তিনি জানান তখন তাঁর স্বামী বলেন, ‘কি আর করা’। এখন আমার আর গাছ পরিচর্যা করার সময় নেই, রোগী দেখতে হয়। সম্ভব হলে তুমি দেখো না হলে ফেলে দাও।” ফারুকী নাজনীন জানান, মূলত সেখান থেকেই তার গাছ রোপণ ও যতœ করার কাজ শুরু হয়। তিনি বলেন, “তারপর থেকে আমিই গাছের দেখাশুনা শুরু করি। বর্তমানে সর্বনি¤œ ১০ টাকা থেকে শুরু করে চার লাখ টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে আমার বাগানে।”
satkhira naznin faruke
বাড়ির ছাদে বৃক্ষ রোপণ করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০০৭ সালে পেয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতিও। বাগানটি পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত পাঁচ পরিচর্যাকারীর একজন বলেন, “ম্যাডাম খুব গাছ প্রিয় মানুষ। গাছের উপর একটু অনিয়ম হলেই তিনি সহ্য করতে পারেন না। গাছ যে মানুষের বন্ধু হয় এখানে আসার পরে ম্যাডামের কাছ থেকেই শিখেছি।”

এই বৃক্ষপ্রেমী নারীর স্বামী ডাক্তার আজিজুর রহমান বলেন, “এক সময়ে আমি বৃক্ষ রোপণ করতাম। এখন আর সময় পাই না। আমার কাজটি আমার স্ত্রী করছেন। জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতিও পেয়েছে। আমার ভালোই লাগে। আমার গাছগুলো এখনো বেঁচে আছে। তবে আমার থেকে গাছের সাথেই তার বেশি সময় কাটে।”

বন কর্মকর্তা তোজাম্মেল হক বলেন, “এসব বিরল প্রজাতির গাছ সংরক্ষণ করা খুব কঠিন। এতে গাছের প্রতি মুল্যবোধ বাড়বে ও পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা হবে। বৃক্ষপ্রেমী নারী ফারুকী নাজনীন সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গাছ লাগান তবে সুস্থ ও সুন্দর থাকতে পারবেন।”

happy wheels 2
%d bloggers like this: