Posted in

দশে মিলে করবো কাজ, রোপণ করবো ঔষধি গাছ

নেত্রকোনা থেকে হেপী রায়
দশে মিলে করবো কাজ, রোপণ করবো ঔষধি গাছ-এই অভিপ্রায়ে একদল তরুণের যাত্রা শুরু হয়েছে। গাছ সবসময়ই মানুষের উপকারে লাগে। কোনো কোনো গাছ থেকে আমরা ফল পাই, কোনো গাছ আবার ঔষধি উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে এ সমস্ত গাছ ব্যবহার করে। গাছ যে শুধু খাবারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেটি নয়, গাছের উপকার বলে শেষ করা যায় না।


গাছ আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, কার্বন শোষণ করে। বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ, বন্যা ও খরা প্রতিরোধের মতো অসামান্য কাজেও গাছের ভূমিকা অপরিসীম। তাই কোনো একটি এলাকার জন্য গাছের কোনো বিকল্প নেই।


লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের বাইশদার গ্রাম, যেখানে ২৬১টি পরিবারের বসবাস। এই গ্রামে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকেরা মিলেমিশে থাকেন। গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশও অনেক সুন্দর, অত্যন্ত নিরিবিলি, শান্ত। এখানে ফলজ, বনজ অনেক ধরণের গাছও আছে। নদীর তীরে অবস্থানের কারণে গ্রামটিকে আরো স্বচ্ছ মনে হয়।

বারসিক’র কর্মপরিচয়ের সুবাদে এই গ্রামের কৃষক, কামার, রবিদাস ও শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আলোচনার এক পর্যায়ে জানা যায়, এই গ্রামে ঔষধি গাছের পরিমাণ অনেক কম। তাই কয়েকজন উদ্যোগী যুবক তাদের গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিশুদ্ধ রাখতে ঔষধি গাছ রোপণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

প্রথম অবস্থায় তারা গ্রামটিতে জরিপ কাজ পরিচালনা করে। বিষয়বস্তু ছিল গ্রামে কত ধরণের ঔষধি গাছ আছে। জরিপের ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, এই গ্রামে খুবই অল্প সংখ্যক ঔষধি গাছ আছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। তাই যুবগণ তাদের গ্রামে বিভিন্ন ঔষধি গাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ঔষধি গাছের ব্যবহারবিধি সম্পর্কেও বিস্তারিতভাবে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে। এজন্য তারা বারসিক’র সহযোগিতা কামনা করে।

এরই ধারাবহিকতায় বাইশদার গ্রামে একজন কবিরাজের সহযোগিতায় কবিরাজ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কবিরাজ মো. আব্দুল হামিদ উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ঔষধি গাছ যেমন তুলসী, নিসিন্দা, বেল, নিম, অর্জুন, আমলকি, হরিতকি, বহেরা, ঘৃতকাঞ্চন, আমপাতা ও এর বীজ, বাসকপাতা, পদ্মরঞ্চি, মেগহনির বীজ ইত্যাদিও ব্যবহার ও গুণাগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া তিনি অংশগ্রহণকারীদের ঔষধি গাছ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে কবিরাজ আব্দুল হামিদ আগামী বর্ষা মৌসুমে এই গ্রামে কিছু ঔষধি গাছের চারা বিনামূল্যে প্রদানের অঙ্গীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরো আলোচনার আশা ব্যক্ত করেন।

যুবকগণ ঔষধি গাছের ব্যবহার সম্পর্কে জেনে উপকৃত হয়েছে। এখন শুষ্ক মৌসুম থাকায় আপাতত কোনো ধরণের গাছ লাগানোর উদ্যোগ তারা গ্রহণ করতে পারছেনা। তবে যে সকল গাছ তাদের গ্রামে নেই, সেই গাছগুলো সংগ্রহ করে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে রোপণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.