Posted in

গোবর-এর বহুমূখী ব্যবহার

মানিকগঞ্জ থেকে মাহফুজা আখতার

গোবর একটি জৈব পদার্থ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ও পরিবেশ সুরক্ষায় গোবর বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। গ্রামীণ নারী পুরষ এই গোবর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন। গোবর জ্লানি হিসেবে, জৈব সার হিসেবে, পুকুর পরিষ্কারক হিসেবে, মাছের খাদ্য হিসেবে, ময়লা-আবর্জনা পচনকারী হিসেবে এবং ঘর লেপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গ্রামীণ নারীরা পৌষ মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত গোবর সংগ্রহ করে রোধে শুকিয়ে জালানি তৈরি করেন। এই জ্বালানি তারা বর্ষা মৌসুমে ব্যবহার করেন। এই জ্বালানি একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে ঠিক তেমনি আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী। যাদের গরু আছে কেবল তারাই নন বরং যাদের গরু নেই তারাও এই গোবর নানানভাবে সংগ্রহ করে জ্বালানি তৈরি করেন। এই জ্ালানি তৈরি  করে অ নেকে বিক্রি করেন। এই প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলার বাইতরা গ্রামের কামনা রানী বলেন, “আমি পোষ মাস থেকে চৈত্র মাস পযর্ন্ত গোবর  দিয়ে জ্বালানি তৈরি করি। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের জ্বালানি  রেখে বাকি  জ্বালানি বিক্রি করি।

dung
গোবর কেবল জ্বালানি হিসেবে নয় বরং জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এ সার শাকসবজির ক্ষেতসহ ধানের ক্ষেত্রে অনেকে ব্যবহার করেন। গোবর সার মাটির জৈব উপাদান বৃদ্ধি করে এবং মাটির স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখে। বাঘারচর গ্রামের কৃষাণী ফুলজান বলেন, “আমি গোবর সার দিয়ে শাকসবজি আবাদ করি। এতে আমি ভালো ফলন পাই। একই কথা জানান  বাঘারচর গ্রামের কৃষাণী রাফেজা। তিনি বলেন, “গোরব দিয়ে আমি জৈব সার বানাই। জ্বালানি বানাই, মাটির চুলায় রান্না করি। জ্বালানোর পর এর ছাই দিয়ে বাড়ির হাড়ি, কলসী, বাসন মাজি।” তিনি বলেন, “এ ছাই সবজি ক্ষেতে পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করি।”

বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের জন্য গোবর ভালো ভূমিকা রাখে। কেননা এটি একাধারে সার হিসেবে এবং বালাইনাশক হিসেবে (ছাই) ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা যায়। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে স্থায়িত্বশীল কৃষি চর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে গোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই প্রসঙ্গে মানিকগঞ্জের বাঘারচর গ্রামের বাদল মিয়া বলেন, “আমার ১১টি গরু আছে। গোয়াল ঘরের ১০ হাত দূরে আমার জমি অবস্থিত। গোবর থেকে সার তৈরির জন্য আমি গর্ত করি এবং এ গর্তে গোবরগুলো রেখে দিই। বর্ষার দিনে বৃষ্টি হলে  গোবর চুয়ে চাষের জমিতে ভেসে যায়। এই জমিতে আমি সবসময় সবজি চাষ করি।” তিনি আরও বলেন, “ জমিতে গোবর যাওয়ার কারণে  মাটি ভালো আছে। চাষ দিতে কষ্ট কম হয়। সবজির ফলন ভালো হয়।”

গোবরের বহুমূখী ব্যবহার রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে কলাগাছ, আমগাছ, কাঁঠালগাছ  আমড়াগাছ লাগানোর পর গরু ছাগলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গাছের পাতায় গোবর ছিটিয়ে দেয়া হয় যাতে  গাছগুলো নষ্ট না হয়। এতে তাড়াতাড়ি গাছ বেড়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গে বাঘারচর গ্রামে কৃষাণী আরতী রানী বলেন, “আমি কলাগাছ লাগানোর পর গোবর ছিটিয়ে দেই গরু ছাগলে নষ্ট করতে পারে না ”।

এছাড়া গোবর দিয়ে পুকুর পরিস্কার করা যায়। এটি মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, ময়লা আবর্জনা তাড়াতাড়ি পচার জন্য  ব্যবহার করা যায়। গ্রামাঞ্চলে গোবর মাটির ঘর লেপার জন্য ব্যবহার করা হয়, ধান শুকানোর জন্য গোবরের ফেপ দিয়ে জায়গাটি  শক্ত করা হয়। বীজ সংরক্ষণের জন্য বাশের ডৌল শক্ত করার জন্যও গোবর লেপ দেওয়া হয়। এছাড়া গোবরের আরও অনেক ব্যবহার থাকতে পারে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.