সাম্প্রতিক পোস্ট

ঔষধিগুণে ভরপুর সাজনা পাতা

নেত্রকোনা থেকে হেপী রায়
প্রকৃতি কোনো কিছুই অপ্রয়োজনীয়ভাবে তৈরি করেনা। দূর্বা ঘাস থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির মহীরুহ পর্যন্ত প্রতিটি উপাদান প্রয়োজনীয়। যারা সঠিকভাবে চিনতে পারেন, তারাই শুধু এর সুফল পান। আমাদের পরিবেশের চারপাশে ছড়িয়ে আছে নাম জানা বা অজানা অনেক উদ্ভিদ। কোনটি আমাদের খাবারের প্রয়োজন মেটায়, কোনটি আবার চিকিৎসায় কাজে লাগে।
সাজনা বা সজিনা আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি সব্জী। এই গাছটি বড় আকারের। সাজনা সবুজ রঙের, লম্বা ডাটার মতো হয়। পাতাগুলো ছোট ছোট, সবুজ। সাজনা একটি পুষ্টিকর সব্জী। তবে এর পাতারও রয়েছে নানা ব্যবহার। সাজনা গাছ গ্রামীণ পরিসরে অনেকটা অযতেœই বেড়ে উঠে। বছরের অন্যান্য সময় এই গাছের পাতা থাকেনা। বর্ষাকালের শুরুর দিকে এই গাছে পাতা জন্মাতে শুরু করে। বসন্তকালে ফুল আসে ও সাজনা ধরে।


সাজনা একটি সুস্বাদু সব্জী হলেও এর পাতা অনেক পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণে ভরপুর। অনেক কবিরাজগণ সাজনা পাতা ব্যবহার করে বিভিন্ন ঔষধ তৈরি করে থাকেন। তাছাড়া এই পাতা শাক, ভাজি ও ভর্ত্তা করে খাওয়া যায়। আমাদের গ্রামীণ পরিবারের বেশিরভাগ মা, চাচীরা সাজনা পাতার ভাজি করে খেয়ে থাকেন।

এই বিষয়ে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের জয়শিদ গ্রামের রোজি আক্তার বলেন, ‘সাজনা পাতার ভাজি খাইলে শরীরের দূর্বলতা কাটে। মুখে রুচি হয়। আমরার কোনো অসুখ হইলে খাওয়ার রুচি থাকেনা। তখন সাজনা পাতা খাই। আস্তে আস্তে মুখে রুচি ফিইরা (ফিরে) আসে।’
সাজনা পাতার বিভিন্ন উপকারি দিক সম্পর্কে রোজী আক্তার আরো বলেন, ‘পেটের নানা ধরণের অসুখ যেমন ডায়রিয়া, আমাশয় ইত্যাদিতে সাজনা পাতার ভাজি বা শাক খাইলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া সাজনা পাতার শাক খাইলে সর্দি জ্বর, হাঁচিকাশি কইম্যা (কমে) যায়। সাজনা পাতার রস দাঁতের মাড়ি ফোলা কমতে সাহায্য করে। অনেক সময় ছোট বাচ্চাদের কৃমি হয়। এই পাতার রস খাওয়াইলে বাচ্চাদের কৃমির সমস্যা আর থাকেনা। আবার শরীরে কোনো জায়গায় কাইট্যা (কেটে) গেলে বা রক্ত বাইর হইলে পাতার রস লাগাইলে রক্ত পড়া বন্ধ হয়।’


তিনি আরো বলেন, ‘এই গুলা আমি আমার নানীর কাছ থেইক্যা শিখছি। আমার বাড়িতে সাজনা গাছ আছে। অনেকের বাড়িতে নাই। আবার অনেকে সাজনা পাতার উপকারিতাও জানেনা। আমি নিজে মাঝে মাঝে সাজনা পাতার শাক রাইন্ধা খাই। খাইতে খুবই স্বাদ। কিছুদিন আগে আমার খুব অসুখ হইছিলো। আমি কয়েকদিন সাজনা পাতার শাক খাইছি। আল্লাহর রহমতে আমার শরীরে এহন শক্তি পাই। এই শাক দিয়া গরম ভাত খাইলে আর কিচ্ছু লাগেনা।’


রোজি আক্তারের মত অনেকেই সাজনা পাতার ভাজি, শাক বা ভর্ত্তা খেয়ে থাকেন। কেউ এর উপকারি দিক জেনে ব্যবহার করেন। কেউ আবার অনেরটা দেখে বা না জেনে ব্যবহার করেন। বর্তমানে নেত্রকোণা অঞ্চলে সাজনা গাছ খুব বেশি দেখা যায়না। তবে নতুন করে অনেকেই এটি রোপণ করছেন।


প্রাচীনকালে যখন ডাক্তার বদ্যি ছিলনা, তখনকার মানুষেরা বিভিন্ন গাছের শেকড়, পাতা, ছাল ইত্যাদির সাহায্যে ঔষধ তৈরি করে ব্যবহার করতেন। আবার যখন চাষ ব্যবস্থারও প্রচলন হয়নি তখনও তাঁরা নানা রকম অচাষকৃত উদ্ভিদ, ফল ব্যবহার করে ক্ষুধা মিটিয়েছেন। মানুষ অনুকরণ প্রবণ এবং অভ্যাসের দাস। তাই প্রাচীনকালের চালু হওয়া কিছু সুন্দর চর্চা বা রীতি যুগ যুগ ধরে নিজেদের চর্চায় রপ্ত করে নিয়েছে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: