Posted in

কমছে প্রাকৃতিক খাদ্য ভান্ডার

নেত্রকোনা থেকে খাদিজা আক্তার লিটা

অচাষকৃত খাদ্য সম্পদ রক্ষায় সমাজে নারী ও পুরুষ পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধকরণে নেত্রকোনা জেলা আমতলা ইউনিয়নে বিশ্বনাথপুর গ্রামে একটি অচাষকৃত উদ্ভিদের পাড়ামেলার আয়োজন করা হয়েছে সম্প্রতি। বিশ্বনাথপুর গ্রামের কৃষাণী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ পাড়ামেলায় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন গ্রামের ২০ জন নারী। নারী ছাড়াও মেলায় অংশগ্রহণ করেন গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি, কিশোর কিশোরীরা, পাশ্ববর্তী গ্রামের কৃষাণী ও বারসিক কর্মকর্তাগণ।

01
পাড়ামেলায় নারীরা অচাষকৃত বিভিন্ন ধরনের শাক, ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে আসেন। প্রত্যেক নারী তাদের সংগ্রহ করে আনা কুড়িয়ে পাওয়া শাক ও উদ্ভিদের পুষ্টি গুনাগুণের বর্ণনা দেন। সেই সাথে এসব অচাষকৃত উদ্ভিদগুলো কি ধরনের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং রোগে কাজে লাগে সেগুলোও বর্ণনা দেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী হালেমা খাতুন ৫২ ধরনের অচাষকৃত উদ্ভিদ মেলায় উপস্থাপন করেন।

পাড়ামেলায় প্রবীণ ব্যক্তি মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমাদের গ্রামে আরও অনেক ধরনের ঔষধি ও অচাষকৃত শাকসবিজ পাওয়া যেত এখন কইমা গেছে। এখন একটু সামান্য অসুখ হলেই বাজারে গিয়ে এন্টিবায়েটিক নিয়ে আসি। অতীতে আমরা জ্বর, পেটের সমস্যা ছোটখাটো অসুখ হলে গাছ, গাছের ছাল দিয়ে ছেইচা খাওয়া দিতাম ভালো হয়ে যেত। এখন আর কেউ তা করে না। নতুন যারা আছে তারা জানেও না, জানতে চায়ও না।’

কৃষাণী পারভিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের গ্রামে প্রথমবারের মতো এধরনের আয়োজন হয়েছে। আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের গ্রামে কত ধরনে শাকসবজি আছে তা আজ জানতে পারলাম।’ কিশোরী সুমাইয়া আক্তার বলে, ‘এ পাড়ারমেলায় এসে আমার অনেক কিছু শেখা হলো। অচাষকৃত উদ্ভিদও যে আমাদের প্রয়োজন আছে তা আমার জানা ছিল না। আজকে যেসব উপকারী উদ্ভিদ বা শাকসবজির কথা শুনলাম এগুলো রক্ষা করার উদ্যোগ নিতে হবে সকলে মিলে।’

02
অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা কিছু শাক ও উদ্ভিদের পরিমাণ ছিল খুবই কম। আগের তুলনায় অচাষকৃত খাদ্য ভান্ডার কমে যাওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা করেন বারসিক কর্মকর্তা শংকর ¤্রং। তিনি জমিতে অধিকমাত্রা সার বা বিষ ব্যবহার কিভাবে আমাদের খাদ্য সম্পর্কে ক্ষতি করছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের জীবন ও জীবিকা কৃষির উপর নির্ভশীল। জলবায়ু পরিবর্তনে ফলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ আগের তুলনায় বেড়েছে। তারপরও যুগ যুগ ধরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত নিজস্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে আসছেন নিরন্তর। অচাষকৃত খাদ্য বা প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে আমাদের নারীরা। স্থায়িত্বশীল কৃষি চর্চার মাধ্যমেই গ্রামের নারীরা প্রাকৃতিক সম্পদগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা ছোটখাটো চিকিৎসার জন্য প্রাকৃতি সম্পদকে এখনো কাজে লাগিয়ে থাকেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.