Posted in

সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে হরিরামপুরের যুবকরা

হরিরামপৃুর, মানিকগঞ্জ থেকে মুকতার হোসেন 

ইচ্ছা শক্তি,সাহস আর উদ্যোগী মনোভাব থাকলে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন নিজেই করা যায়। তার উজ্জল প্রমাণ করেছে হরিরামপুর উপজেলার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যায়নরত যুবকরা। কলেজ জীবনের লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির পিছনে না ঘুরে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে।

IMG_20181210_123ddd
স্কুল, কলেজ লেখাপড়া শেষ হতে না হতেই তারা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। আবার কেউ কেউ, আশেপাশের বন্ধুবান্ধবের উদ্যোগ দেখে উৎসাহিত হয়ে খামার গড়ে তুলেছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে কলা বাগান, হাঁসের খামার, গরু খামার, ছাগলের খামার, স্থানীয় জাতের মুরগি, টার্কি মুরগি সহ মুরগি পালন, মোবাইল সার্ভিসিংসহ আরও অনেক কিছু।

এই উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি যুবকরা গড়ে তুলেছে বিভিন্ন যুব সংগঠন, পাটগ্রামচর সেচ্ছা-সেবকটিম, আন্ধারমানিক যুব সংগঠন, কৌড়ি যুব সংগঠন। তাদের এই উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বারসিক নানাভাবে তাদের সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে আসছে। বারসিক যুবকদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, আলোচনা সভা মতবিনিময় সভা আয়োজনের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করে আসছে। এছাড়াও সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অফিস, আনসার ভিডিপি অফিস, কৃষি অফিস, সমবায় অফিসসহ প্রতিষ্ঠানের সাথেও তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া এবং যুক্ত করার কাজ করে আসছে বারসিক। যুবকরা সেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ করতে পারছে। সব বিষয়ে তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে সেটা হলো গবাদি পশু পালন, হাঁসমুরগি পালন ও প্রাথমিক চিকিৎসা, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, নার্সারি তৈরি, মৎস্যচাষসহ নানান ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।

IMG_20190409_131708
এই প্রসঙ্গে নটাখোলা গ্রামের যুবক ফয়সাল আহম্মেদ (২৫) বলেন, ‘আমি মাষ্টার্স পরীক্ষা শেষ করে চরাঞ্চলে পতিত জায়গায় কলা চাষ করে লাভবান হয়েছি। প্রথমে ৫ বিঘা লিজ নিয়ে পাঁচজন বন্ধু মিলে কলা চাষ শুরু করি। প্রথমে আমাদের খরচ বাদে একলাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা লাভ হয়। পরের বছর আবার ১০ বিঘা জমি নিয়ে কলা চাষ সম্প্রসারণ করেছি।’ যুবকদের উদ্যোগ দেখে নটাখোলা, পাটগ্রামচর, হরিহরদিয়া, বালিয়াচক, হালুয়াঘাটা, আন্ধারমানিক, বাহিরচর গ্রামে যুবকরা কলার বাগান, হাঁসমুরগির খামার, ছাগলের খামার তৈরি করেছে। ফয়সাল আরোও বলেন, ‘প্রথমে আমাদের খরচের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে আমরা আমাদের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। যদি চরাঞ্চলে সরকারি ঋণ সহায়তা পাওয়া যেত তাহলে কার্যক্রমগুলো আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।’

যুবকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। বাল্য বিবাহ রোধে জনসচেতনতা তৈরি, ঝরে পড়া, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুল কার্যক্রম, মাদকরোধে ক্যাম্পইন, বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা তৈরি, পাখি রক্ষা, খেলাধুলাসহ নানান বিষয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে ।

উল্লেখ্য যে, বারসিক সম্প্রতি বারসিক হরিরামপুর রিসোর্স সেন্টার এলাকার যুবকদের নিয়ে নেতৃত্ব বিকাশ ও কর্মসংস্থান বিষয়ক যুব কর্মশালার আয়োজন করেন । এতে অংশগ্রহণ করেন এম এ রউফ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী । যুব কর্মশালার মধ্যে দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করে প্রশিক্ষণ গ্রহণে উৎসাহিত করে। সফল যুবকদের উদ্যোগগুলো গল্প সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে সহযোগিতা করছে।

IMG_20190528_180319
যুব কর্মশালায় আলোচনায় এম এ রউফ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. আরশেদ আলী যুবকদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘কোন কাজকে ছোট করে দেখার কিছু নাই। স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তোমরা যে কাজ করবে গুরুত্ব দিয়ে করবে। দেখবে সাফল্য আসবেই।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.