Posted in

সচেতন হলেই এগুলো টিকিয়ে রাখা যাবে

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল

ধারাবাহিক কর্মসূচির আলোকে গত কাল বারসিক’র সহায়তায় ও কালমেঘা কৃষি নারী সংগঠনের উদ্যোগে কৃষাণী বনশ্রী রানীর বাড়িতে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা ও অচাষকৃত উদ্ভিদের সংকট বিষয়ক গ্রাম পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। আলোচনা সভায় কালমেঘা গ্রামের কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষার্থী ও বারসিক কর্মকর্তাসহ ১৮ জন নারী ও ৩ জন পুরুষসহ মোট ২১ জন অংশগ্রহণ করেন।


আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীদের নিকট এলাকায় অচাষকৃত উদ্ভিদের বর্তমান অবস্থা প্রাপ্তি কেমন? কমছে না বাড়ছে? কমার কারণ কি? এগুলো কি কি কাজে লাগে? লবণাক্ততার কোন প্রভাব পড়ছে কিনা? সংরক্ষণ বা টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের উদ্যোগসমূহ কি তা জানার চেষ্টা করা হয়।


আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী অমিতা রানী, আরতী, বাসন্তীরা বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে এসকল কুড়ানো শাক খুবই ছিলো। বর্তমান সময়ে এগুলো কম দেখা যায়। আগে তো ঘরের আনাচে-কানাচে, বিলের ধারে, পুকুরের ধারে, রাস্তার পাশে, ঘেরা ও বেড়ার গায়ে, গাছের গায়ে ও ক্ষেতের মধ্যে অন্য ফসলের সাথে দেখা যেতো। এগুলোর জন্য কোন চাষবাস বা আলাদা কোন যত্ন নেওয়া লাগতো না। প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে এসকল শাক-সবজি ব্যবহার করতো।’ তাঁরা আরও বলেন, ‘আর এখন কমে যাওয়াতে এগুলোর ব্যবহারও কমে গেছে। আর এর ব্যবহার কমার কারণে এখন মানুষের মধ্যে নানান ধরনের রোগব্যাধি হচ্ছে। কারণ এসকল শাকসবজিতে ছিলো প্রচুর ভিটামিন। এখন আমরা যে সকল চাষকরা শাকসবজি খাচ্ছি তাতে কিন্তু রাসায়নিক সার কীটনাশকের ব্যবহার বেশি। যতো বেশি রাসায়নিক সার কীটনাশক খাচ্ছি ততো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’

তারা বলেন, ‘এসকল উদ্ভিদ কমে যাওয়ার কারণ হচ্ছে লবণাক্ততা। যখন এলাকায় লবণাক্ততা কম ছিলো তখন এসকল শাকসবজি ছিলো। লবণে তো এগুলো এখন টিকে থাকতে পারছে না। তারপরও এখনো যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলো যদি আমারা একটু সচেতন হই তাহলে এগুলো টিকিয়ে রাখতে পারবো। আমাদের ছেলেমেয়েরাও তো এগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে জানে না তাদের এগুলোর গুরুত্ব ও ব্যবহার সম্পর্কে জানানো দরকার।’
আলোচনায় কৃষাণী বনশ্রী রানী বলেন, ‘এ লবণের মধ্যে এখনও অনেক উদ্ভিদ টিকে আছে। আগে পাওয়া যেতো পরিমাণে বেশি আর এখন পাওয়া যায় পরিমাণে কম। তবে সব সময় নয় যেমন বর্ষা ও ধান কাটার সাথে সাথে এগুলো বেশি দেখা যায়। যা আমরা আমাদের পারিবারিক কাজে ব্যবহার করি। এখনও বাচ্চাদের স্বর্দি কাশি হলে আমরা তুলসির পাতা, বাকশার পাতা বেটে মধুর সাথে খেতে দিই। এছাড়াও হাস-মুরগি ও গরু ছাগলের নানান রোগের ক্ষেত্রে আমরা কুড়ানো এ শাক নিজস্ব জ্ঞান দক্ষতার সাথে ব্যবহার করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক শাক আমরা সবজি হিসাবে ব্যবহার করি ও ঔষধ হিসেবেও ব্যবহার করি। আমাদের এলাকার নতুন প্রজন্মের বাচ্চাদের জানানোর জন্য এবং যাতে আমরা আরো বেশি এগুলো ব্যবহার ও সংরক্ষণ করি তার জন্য এ মাসে একটি পাড়া মেলা আয়োজন করবো।’


অংশগ্রহণকারীরা এসকল উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও টিকিয়ে রাখার জন্য এগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি, যেখানে টিকে আছে সেটা সংরক্ষণে রাখা, পরিবার পর্যায়ে বসতভিটায় লাগানো, বিভিন্ন মেলা, কুইজ প্রতেিযাগিতা ও সভা আয়োজন করাসহ নানান উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.