সাম্প্রতিক পোস্ট

হিজল গাছ: নদীর পাড় রক্ষাকারী

ঘিওর মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার

রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে নিজের সৌন্দর্য উজার করে দেয়। প্রকৃতির মাঝে মিহি মিহি মিষ্টি গন্ধে চারপাশ ছড়ায়। মাতোয়ারা হয় সবাই। এটিই হিজল ফুলের বৈশিষ্ট্য। হিজল ফুল ভোর বেলায় ঝরে পড়ে। গাছতলা দেখলে মনে হয় ফুলের বিছানা। হিজল গাছকে চিনে না বা এই গাছের নাম শোনেননি এমন লোক খুজে পাওয়া দুস্কর। বাংলার প্রকৃতিতে অনন্য সৌন্দর্যের বিকাশ ঘটায় হিজল ফুল।


বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে হিজল গাছে ফুলে ফুলে ভরে য়ায়। মানিকগঞ্জ জেলার নি¤œ এলাকা ঘিওর উপজেলার গাংডুবী, ঠাটাংগা, কেল্লাই, দিয়াইল, মাশাইল, নিমতা, নালী, কুন্দুরিয়া, হেলাচিয়া, কলতা, বানিয়াজুরী সহ ক্ষিরাই নদী, কান্তাবর্তি নদীর পাড়ে, রাস্তার ধারে, পুকুর পারে, বাড়ির ধারে ছ্টো বড় বিভিন্ন জলজ স্থানে হিজল গাছ চোখে পড়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছের রয়েছে নানা গুণ।


হালকা গোলাপি ও হালকা লাল রঙের ১০-১২ সেমি লম্বা পুস্পদন্ডের মধ্যে অসংখ্য ফুল ধারণ কওে এই গাছ। গাছের শাখা প্রশাখা বিস্তৃত পুরো পাতার শিরা উপশিরা স্পষ্ট। ফুলের মন্জুরী প্রায় ২-৩ ঘণ্টা ফুটে থাকে। অন্যান্য ফুলে লম্বা মঞ্জুরী খুব কম দেখা যায়। ভোর বেলা হিজল ফুলে মৌমাছির মধু আহরণ চোখে পড়ার মতো। ছোট শিশুরা হিজল ফুলের মালা গেঁথে খেলতে পছন্দ করে। আবার হিজলের দানা শিশুরা বন্দুকের গুলি হিসেবে ব্যবহার করে।


হিজল কষ্ট সহিষ্ণু গাছ। জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। তাছাড়া অযতœ অবহেলায় হিজল গাছ টিকে থাকতে সক্ষম। বন্যার জল কিংবা তীব্র খরাতেও টিকে থাকে। এমনকি জলের নিচে কয়েক মাস নিমজ্জিত থাকতে পারে। নদীনালা বেষ্টিত মানিকগঞ্জ অঞ্চলে তাই হিজল গাছের অস্তিত্ব বেশ প্রাচীন।

এই প্রসঙ্গে প্রবীণ কৃষক প্রফুল্ল মন্ডল (৬৬) বলেন, ‘আমরা বাবা জানান, হিজল গাছকে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে পুঁজা করা হয়, দেল নামানো, ভারামি বসানোসহ নানা সংস্কৃতি অনুষ্ঠান করা হতো। গাংডুবী গ্রামের পুরাতন হিজল গাছে মানুষ এখনো শ্রদ্ধা ও সন্মান করে থাকেন।’

গাংডুবী গ্রামের কার্তিক হালদার (৬০) বলেন, ‘হিজল গাছ অনেক পুরাতন গাছ। পুকুর ধারে বেশি দেখা যায়। এ গাছ অনেক অক্সিজেন দেয়। আর পুকুরে মাছের খাবারের জন্য হিজলের ডাল বর্ষাকালে পুকুরের ফেলা হয়। সেই ডালে অনেক শ্যাওলা জমে। সেটা মাছের খাদ্য হয়। জলের ভিতর এর ডাল অনেক শক্ত, সহজে নষ্ট হয়না। তবে পতিত জায়গা না থাকায় হিজল গাছ কমে যাচ্ছে। হিজল গাছে অনেক পরিমাণ দানা ধরে সেগুলো পরে নতুন নতুন হিজল গাছ জন্ম নেয়। হিজল গাছ টিকিয়ে রাখতে খাল, বিল, পুকুর, নদী, নালা বাড়াতে হবে। এ গাছ আমাদের গরমের সময় বেশি ঠান্ডা দেয়, দেয় বেশি অক্সিজেন।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: