Posted in

কেঁচো কম্পোস্ট: নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের উপাদান

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্র নাথ

ভার্মি কম্পোস্টকে মাটির প্রাণ বলা হয়। এই মাটির প্রাণ তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছেন পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়ন পরিষদের মাধবপুর গ্রামের নারীরা। কিভাবে এবং কেন ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে উৎসাহিত হলেন জানতে চাইলে পূর্বাশা নারী সংগঠনের সভাপতি মোসাঃ মনিরা বেগম বলেন, “আমি একদিন বড়গাছি ইউনিয়ন পরিষদের এক সভাতে গেছিলাম সেখানে জানতে পারি কেঁচো কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্ট এর ব্যবহার ও উপকারিতার কথা। জানতে পেরেছিলাম কোথায় কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি হয়।”IMG_20161109_125909 কেঁচো কম্পোস্ট সম্পর্কে ধারণা লাভ করার পর তিনি নিজে এই সার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। তিনি খোঁজ নেন কোথায় এই ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি হয়, কীভাবে তৈরি হয়। এভাবে এক পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন  বাংলাদেশে সবচে’ বড় কেঁচো কম্পোস্ট খামার তৈরি হয় মোহনপুর থানার  মহিষকুন্ডি গ্রামে। এই খামার পরিচালনা করেন কৃষক মো. শাহ আলম। এই কৃষক শুরুতে ৪০টি চাড়ি দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করলেও  বর্তমানে তিনিদু’টি কেঁচো কম্পোস্টের খামারের মালিক। এই দু’টি খামারে কেঁচো কম্পোস্টের চাড়ির সংখ্যা ৮০০টি।

মোসাঃ মনিরা বেগম এবং মোসাঃ রেনুকা বেগম দু’জন মিলে মো. শাহ আলমের বাড়িতে সেই কেঁচো কম্পোস্ট দেখতে যান এবং মো. শাহ আলমের কাছ থেকে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির কৌশল ও উপকরণ জেনে নেন। তাঁরা দু’জন মিলে মোঃ শাহ আলমের কাছ থেকে ৪০০০ হাজার টাকার কেঁচো ক্রয় করেন। তাঁরা দু’জন মিলে গত মে ২০১৬ মাস থেকে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করতে শুরু করেন। বর্তমানে তাদের কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করা দেখে অনেক কৃষক তাদের অনুসরণ করছেন। ইতিমধ্যে মোসাঃ মনিরা বেগম কেঁচো বিক্রি করতে শুরু করেছেন তাদের কাছে। অন্যদিকে মোসাঃ রেনুকা বেগম ১২ জন নারীর কাছে ৬০০০ হাজার টাকার কেঁচো বিক্রি করেছেন বলে জানান।IMG_20161109_132042

কেন তাঁরা কেচো কম্পোস্ট তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠলেন জানতে চাইলে মোসাঃ মনিরা বেগম বলেন, “এই সার ব্যবহারে মাটি সুস্থ থাকে এবং উৎপাদিত শস্য-ফসলও বিষমুক্ত হয়।” তিনি বলেন, “রাসায়নিক সার দেওয়ার কারণে আমাদের এলাকার সকল মানুষই প্রতিনিয়ত কোন না কোনভাবে বিষ খাচ্ছেন। যার ফলে আমরা নানান রোগে আক্রান্ত হয়েছি। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করার জন্যই আমরা কেঁচো সার তৈরি করে ফসলের জমিতে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিই।” মোসাঃ মনিরা বেগম  ও মোসাঃ রেনুকা বেগম তাদের বাড়ির আশেপাশের ক্ষেতে কেঁচো সার ব্যবহার করেন। তাদের উদ্দেশ্য নিজে ও মানুষকে বিষমুক্ত খাদ্য যোগান দেওয়া।
IMG_20161109_130730
মোসাঃ মনিরা বেগমদের এই উদ্যোগ এলাকার অন্যান্য কৃষাণ ও কৃষাণীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। কেঁচো সারের উপকারিতার কথা জেনে রাজশাহীর বড় গাছি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ার কৃষাণীরা কেঁচো কম্পোস্ট তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মোসাঃ মনিরা বেগম যেহেতু একটি সংগঠনের সাথে জড়িত সেহেতু তিনি সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের মাঝেও কেঁচো কম্পোস্ট এর উপকারিতা ও কার্যকারিতার বিষয়টি সহভাগিতা করেন। ফলশ্রুতিতে সংগঠনের ২৫ জন সদস্যকে এই কেঁচো কম্পোস্ট তৈরিতে আগ্রহী হয়েছেন। মোসাঃ মনিরা বেগম ইতিমধ্যে তাদেরকে কেঁচো কিনতে কিনতে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান। এছাড়া তিনি তাদেরকে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির কৌশলগুলোও শিখিয়ে দেন বলে তিনি জানান। বর্তমানে বড় গাছি ইউনিয়নে মোট ৫৩ জন নারী কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করছেন। এই সার তারা লাউ, কুমড়া শিম পুইঁ,এবং কিছু পরিমাণে ধানের জমিতে ব্যবহার করছেন। ইতিমধ্যেই বড়গাছি ইউনিয়নে আরও ১০জন কেঁচো কম্পোস্ট তৈরিতে আগ্রহী ব্যক্তির নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে হয়েছে বলে মোসাঃ মনিরা বেগম জানান। এই প্রসঙ্গে মোসাঃ মনিরা বেগম বলেন, “এমন এক সময় আসবে যখন দেখা যাবে আমাদের ইউনিয়নের ৮০% কৃষক এই কেঁেচা সার ব্যবহার করে ফসল ফলাচ্ছেন।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.