Posted in

‘হাঁস-মুরগি আমাদের সম্পদ’

সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে চম্পা মল্লিক।
ধূমঘাট ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের কেওড়াতলী গ্রামের কেওড়াতলী সূর্যমুখী নারী উন্নয়ন সংগঠনো উদ্যোগে এবং বারসিক’র সহায়তায় গতকাল হাঁস, মুরগি পালন ও পরিচর্যা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কর্মশালাতে মোট ২০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন অল্পনা রানী মিস্ত্রী এবং বারসিক’র সহযোগী কর্মসূচী কর্মকর্তা চম্পা রানী মল্লিক।


প্রশিক্ষণের শুরুতেই অল্পনা রানী বলেন, ‘আগের মতো দিন এখন আর নেই। আগে পশুপাখির কোন রোগবালাই ছিলোনা। কিন্তু এখন যেমন মানুষের রোগ বাড়ছে ঠিক তেমনি পশুপাখিরও রোগ বাড়ছে। বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে পশু পাখি যেখানে সেখানে মরে পড়ে থাকছে। আবার আমরা শুধু নিজেরাই চিকিৎসা নিই, পশু পাখির কথা ভুলে যাই। ভুলে যাই তাদের জন্যও যে সেবার ব্যবস্থা আছে সেই কথাটি।’ এরপর তিনি হাঁস ও মুরগির বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বলেন। তিনি জানান, হাঁস ও মুরগির গুটিরোগ, বাত, পাতলা পায়খানা, কলেরা, রানিক্ষেত, পক্সসহ আরো অনেক রোগ রয়েছে। এসব রোগের কখন কোন ভ্যাকসিন দিতে হয় তা তিনি খুব সহজভাবে আলোচনা করেন। তিনি ভ্যাকসিন সম্পর্কে বলেন, ‘এক একটি পরিবারে যে পরিমাণ হাঁস ও মুরগি থাকে, তাতে করে একটি ভ্যাকসিন অনেক সময় সম্পূর্ণ লাগেনা। এজন্য ভ্যাকসিন যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।’
প্রশিক্ষক বলেন, ‘সকল সেবা এখন আমাদের হাতের কাছে আছে। আমাদের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলাতে একটি প্রাণীসম্পদ অফিসও আছে। সেখানে গেলে প্রাণী সম্পদের সকল সেবা পাওয়া যায়। এমনকি ফোন করেও তাদের কাছ থেকে সেবা পাওয়া যায়। এত সকল সেবা থাকা সত্ত্বেও আমরা তার কোন খোঁজ রাখিনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখবেন মানুষের চিকিৎসার জন্য যেমন হাসপাতাল আছে তেমনি প্রাণীদের চিকিৎসার জন্যেও হাসপাতাল আছে।’


প্রশিক্ষণে অংশগ্রহনকারী আলেয়া, মনোয়ারা, জামেলা ও মুনজিরাসহ আরো কয়েকজন নারী জানান, আমরা এই প্রথম শুনলাম প্রাণীদেরও চিকিৎসার জায়গা আছে। আমরা হাঁস মুরগি পালনের প্রতি খুবই আগ্রহী। কিন্তু হাঁস মুরগির রোগবালাইয়ের কারণে বড় একটি ক্ষতির সন্মূখীন হতে হয় আমাদের। কিন্তু আজ আমরা হাঁস মুরগির প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে অনেক ধারণা পেয়েছি, যা দিয়ে বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে পারবো।


অংশগ্রহণকারী পারুল বেগম বলেন, ‘আজ আমরা বুঝলাম নিজেদের রোগের পেছনে কত টাকা খরচ করি, কিন্তু হাঁস-মুরগির জন্য ১০ টাকার ঔষধ কিনতে চাইনা। যার ফলে বহু টাকার মুরগি, হাঁস ফেলে দিতে হয়। এটা আমাদের মতো নারীদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। কারণ এই হাঁস মুরগি ও ডিম বিক্রি থেকে আমরা আমাদের নিজেদের এবং ছেলে মেয়েদের খুটিনাটি খরচগুলো করতে পারি।’ সাজিদা বেগম বলেন, ‘হাঁস-মুরগিই নারীদের সম্পদ। পরিবারের জন্য কিছু করতে পারার মতো একটি বড় সুযোগ হলো এই হাঁস মুরগি পালন।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.