Posted in

ডেঙ্গু নির্মূলে সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনার দাবি পরিবেশবাদীদের

ঢাকা থেকে ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল

ঈদের সময় অতিরিক্ত সতর্কতার সাথে ডেঙ্গু মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগে গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। সামগ্রিক গণসচেতনতা ও কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তা বাড়িয়ে যত দ্রত পারা যায় ডেঙ্গু মশা নির্মূলে আমাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। সাময়িকভাবে সতকর্তার সাথে রাসায়নিক ব্যবহার করলেও বছরব্যাপী ডেঙ্গু নির্মূলে সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। সম্প্রতি পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে পবা কার্যালয়ে ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদ যাত্রায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

001

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. লেলিন চৌধুরী, নারীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী, পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, বারসিক’র পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ^াস, নীতি বিশ্লেষক ও আইনজীবী মাহবুবুল আল তাহিন, স্বাস্থ্য পরামর্শক জেবুন নেসা, প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, শাকিল রহমান, বারসিক’র সহযোগী কর্মসূচী কর্মকর্তা সুদিপ্তা কর্মকার প্রমূখ। আলোচনা সভায় ধারণাপত্র উত্থাপন করেন বারসিক’র সহযোগী সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন বাংলাদেশের জন্য এক জটিল দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এডিস মশাবাহিত এ রোগটি দুম করে এক দুই দিনে এমন লাগামহীন হয়ে যায়নি। নব্বই দশকের পর থেকে এই রোগের প্রাদূর্ভাব ধীরে ধীরে দেখা দিতে শুরু করে। কিন্তু সে সময় আমাদের নীতিনির্ধারণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেননি। নগরের প্রকৃতি এবং পরিবেশ বিবেচনা না করে বরং সব কিছু সমূলে বিনাশ করে উন্নয়নের নামে বড় বড় দালান কোঠা তৈরি করে এডিসসহ অন্যান্য মশা তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ নগরের মানুষেরাই তৈরি করে দিয়েছেন। ফলে ডেঙ্গু সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। মোটাদাগে জনস্বাস্থ্য সেবায় সংকট এবং প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উদাসীনতা ডেঙ্গু বিষয়ে সাম্প্রতিক তর্কের ময়দান দখল করে আছে। আড়াল হয়ে পড়ছে পরিবেশগত সংকট ও বাস্তুসংস্থানের বিশৃংখলার বিষয়গুলো।’

002

তারা আরও বলেন, ‘যতটুকু জানা গেছে বাংলাদেশে এই ডেঙ্গু ছড়িয়েছে মূলত: ঢাকা অঞ্চল থেকেই। নিদারুণ পরিবেশ-যন্ত্রণায় কাতর এই মহানগরকে আমরাই প্রতিদিন আমাদের জন্য বিপদজনক করে তুলছি। এই ছোট্ট নগর আর আমাদের দুঃসহ দূষণ ভার সইতে পারছে না। আমরা নির্দয়ভাবে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ ও বালু নদীকে হত্যা করে চলেছি। ঊনিশ খালসহ সকল জলাশয় উধাও করে দিয়েছি। নতুন প্রজন্মের জন্য এক চিলতে ফাঁকা মাঠ কী ময়দান আমরা অবশিষ্ট রাখছি না। এই নগরের ক’টি উদ্যানই বা সুস্থ আছে? অল্প বর্ষাতেই এই শহর ডুবে ভেসে একাকার হয়ে যায়। লাগামহীন নগরবর্জ্যরে যন্ত্রণার ভেতর দিয়েই শুরু হয় আমাদের প্রতিটি ভোর। ডেঙ্গু এখনও একটি মেগাসিটির রোগ হিসেবে পরিচিত।’

পত্রিকার হিসাব মতে, ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০০ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা যে এই সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি তা যে কেউ অনুমান করতে পারেন। কারণ ডেঙ্গুর সব তথ্যতো পত্রিকাতে পাওয়া সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার নামী দামি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাছাড়া সরকারি হাসপাতালেও অনেকে মারা গিয়েছেন এবং অনেকে আবার সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.