সাম্প্রতিক পোস্ট

সাতক্ষীরায় শামুক রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আসাদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা থেকে

সাতক্ষীরা-যশোর সড়ক ধরে স্থানীয় বাজারে যাচ্ছিলেন আজিজুর রহমান। পথে তুজলপুর ফুটবল মাঠ সংলগ্ন জলাশয়ে একটি সাইনবোর্ড দেখে থমকে দাঁড়ালেন। মনে মনে সাইনবোর্ডটি পড়ে নিলেন তিনি। এ সময় তার কাছে ওই সাইনবোর্ড সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো। তিনি বললেন, “শামুক যে এত উপকারী সেটা আমি জানতাম না। সাইনবোর্ডটি দেখে আমি অনেককিছু জানতে পেরেছি।”

সম্প্রতি সাতক্ষীরায় বারসিক ইনস্টিটিউট অব অ্যাপলাইড স্ট্যাডিজ (বিয়াস) ‘মানুষ শামুককে প্রকৃতির বন্ধু হিসেবে কতটা চেনে এবং শামুক কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান’ শীর্ষক একটি গবেষণাকর্ম পরিচালনা করে। ওই গবেষণাপত্রে প্রকৃতির বন্ধু শামুক রক্ষায় প্রত্যেক ঘের মালিককে নিজ ঘেরের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় শামুক চাষে উৎসাহিত করা, ফসল উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, প্রজনন মৌসুমে (জুন-আগস্ট) শামুক ধরা নিষিদ্ধকরণ, কেউই যাতে অন্যের জলাশয়ের শামুক ধরতে না পারে সেজন্য ছোট ছোট সাইনবোর্ড স্থাপন, সরকারের কৃষি বা মৎস্য বিভাগের সাইন বোর্ডগুলোতে শামুকের উপকারিতা তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান লিপিবদ্ধকরণ, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রশিক্ষণ, সভা, সেমিনার, মাঠ দিবসের মতো কর্মসূচিতে শামুক রক্ষার আহবান জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ, প্রকাশ্যে শামুক ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা, লবণাক্ততা কমাতে ব্যবস্থা গ্রহণ, সর্বোপরি জনসচেতনতা সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়।
sat-1
এসব সুপারিশের আলোকেই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজলপুর কৃষক ক্লাব ও সাতক্ষীরা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম শামুক রক্ষায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা এলাকার জলাশয়ের/পুকুরের/বিলের মালিকদের সাথে কথা বলে স্থাপন করছে সাইনবোর্ড। আর তাদের এই প্রচারণায় একমত প্রকাশ করে যুক্ত হয়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক।

প্রচারণামূলক এই সাইনবোর্ডে ‘বন্য প্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২’-এর ধারা ৬ ও ৩৪ উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, শামুক প্রকৃতির ফিল্টার। প্রাকৃতিকভাবে পানি শোধন করে। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। ফসলের ক্ষেতে ইঁদুরের উৎপাত কমায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। ‘এই জলাশয়ের শামুক ধরা নিষেধ’।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে তুজলপুর কৃষক ক্লাবের সভাপতি ইয়ারব হোসেন বলেন, “শামুক প্রকৃতির অত্যন্ত উপকারী বন্ধু। কিন্তু জেনে না জেনে অনেকে নির্বিচারে শামুক নিধন করে। আমরা সাইনবোর্ডটি দিয়েছি মূলত সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে। এই সাইনবোর্ডেই যে সব হয়ে যাবে তা নয়, কিন্তু এর মাধ্যমে অন্তত মানুষ জানতে পারবে।”

প্রসঙ্গত, বিয়াস পরিচালিত ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়, প্রকৃতির ফিল্টার শামুক কমে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হয় বলে মনে করেন সাতক্ষীরার ৮৯ ভাগ মানুষ। আর শামুক কমে যাওয়ার পিছনে প্রজনন মৌসুমে শামুক ধরা ও বিক্রি, মাছের খাদ্য হিসেবে ও চুন তৈরিতে ব্যবহার, ডিমওয়ালা শামুক নিধন, শামুকের আশ্রয়স্থল তথা জলাশয় কমে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ নানা কারণকে দায়ী করে শামুক রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা।

happy wheels 2
%d bloggers like this: