Posted in

আমরাও জানতে চাই সঠিক ইতিহাস

নেত্রকোনা থেকে হেপী রায়

‘বিজয়’ শব্দটির মধ্যে একটা জোড় আছে, ভিন্নরকম অনুভূতি আছে। এটি শুধুমাত্র একটা শব্দ নয়, অনেক কিছু প্রাপ্তিকে বোঝায়। আবেগের উচ্ছাস প্রকাশ করে। তবে অর্জন করা সব সময়ই কষ্টসাধ্য। তাই এই শব্দটিরও গুরুত্ব অনেক। কারণ কষ্টে পাওয়া প্রত্যেকটি জিনিসই অতি মূল্যবান। আর তা যদি হয় একটি জাতির অস্তিত্ব, তাহলে এর সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলেনা।


গতকাল ছিল সেই দিন, যার জন্য আমাদেরকে অনেক চড়াই উৎড়াই পার হতে হয়েছে। অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর, ৪৯ বছর আগের এই দিনে আমাদের দেশ পরাধীনতা থেকে ‘বিজয়’ অর্জন করে। দীর্ঘ ৯ মাস ভিনদেশি শত্রুদের সঙ্গে লড়াই করে নিজের অস্তিত্বটা ছিনিয়ে নিয়েছি। তাই ‘বিজয়’ আমাদের জন্য পরম প্রাপ্যতা।
প্রতিবছর আমাদের দেশে ১৬ ডিসেম্বর পালিত হয় জাঁকজমকপূর্ণভাবে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য উদ্যোগে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। তবে এ বছর করোনার প্রাদুর্ভাবে এর আয়োজন অনেকটাই সীমিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরাও এই আয়োজনে অংশ নিতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে শিক্ষার্থীরা থেমে থাকবে কেন? তারাও নিজেদের মতো করে উৎসবের আয়োজন করেছে।
লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের বায়রাউড়া গ্রামে বেশ কিছু কাঠমিস্ত্রি পরিবার বসবাস করে। তাঁদের ছেলেমেয়েরা স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। এদের মধ্য থেকে কয়েকজন কিশোরী একত্রিত হয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। যার নাম দিয়েছে ‘সহপাঠী পরিবেশ শিক্ষা পরিবার’। এই সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে ‘বিজয় দিবস’ উদযাপনের আয়োজন করে।


দিনের শুরুতে তারা পতাকা উত্তোলন করে ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। সদস্যদের মধ্য থেকে কয়েকজন দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি করে। তাদের এই আয়োজনে সহযোগিতা করে বারসিক। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বারসিক কর্মকর্তা বিজয় দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধমে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে চায়। তাদের আগ্রহ এবং কৌতুহল উপস্থিত অভিভাবকদেরও মুগ্ধ করে। তাই সকলের সাথে সকল সীমিত পরিসরের এই আয়োজনে তাদের অভিভাবকগণও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন। সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সমানভাবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি হয়।

প্রত্যেকটি ‘বিজয়’ আনন্দের এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষিতে আনন্দটাও ভিন্ন। কিন্তু আমাদের দেশের ইতিহাসে ‘বিজয় দিবস’ মানেই একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে দুঃখের স্মৃতিও বহন করে। কারণ দেশের জন্য বিজয় অর্জন করতে গিয়ে আমাদের মাঝে থেকে হারিয়ে গেছে লাখ লাখ তাজা প্রাণ। অনেক মা বোনের ইজ্জত। যে কারণে এই দিনটি জাতি, পেশা, ধর্ম, শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে আমাদের গৌরবোজ্জল ইতিহাস তুলে ধরতে পারলে তারা সঠিক মানুষ হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। দেশকে ভালোবাসবে ও দেশের মানুষকে শ্রদ্ধা করবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.