Posted in

একজন বাবর আলী ও তার আদর্শ কৃষিবাড়ি

  মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার

বয়সের ভার কিভাবে এসেছে, তার মনে নেই। মনে থাকার কথাও নয়। তার বয়সের বেশিরভাগ সময় কেটেছে কাজের মধ্যে দিয়ে। ৭৫ বছর বয়সেও তিনি সারাদিন পরিশ্রম করেন, শরীরে এতটুকুও ক্লান্তি নেই। তিনি তার ৪৫ শতাংশ বাড়িকে তৈরি করেছেন আদর্শ কৃষিবাড়িতে। তিনিই সকলের আপন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় মো. বাবর আলী।
subir-2
বাবর আলীর আদর্শ কৃষি বাড়িতে রয়েছে আম, পেঁয়ারা, কতবেল, লিচু, কাঁঠাল, আতা, জামবুরা, নুনাফল, জাম, কলা, বড়ই, পেঁপে, সাজনে গাছ, নারিকেল, সুপারি, আমড়া, তাল, আমলকি, অর্জুন, নিম, আদা, হলুদ, পিঁয়াজ, লাল শাক, ডাটা শাক, পুই শাক, পালন শাক, লাউ, কুমড়া, শিম, বটবটি, ধুন্দুল, কচু, করলাসহ অসংখ্য অচাষকৃত উদ্ভিদ, যা তিনি জৈবভাবে উৎপাদন করে আসছেন। তাঁর এ ধরনের কাজকে গতিশীল করতে সহায়তা করে আসছে বারসিক ও ঘিওর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার। বাবর আলীকে বিভিন্ন সময় জৈব কৃষি চর্চার উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করে তিনি তার নিজ বাড়িকে আদর্শ কৃষি বাড়িতে পরিণত করেছেন।

তাঁর কখনো মৌসুম ভিত্তিক ফল, ফলাদি ও সবজির অভাব হয় না। নিজের চাহিদা মিটিয়েও অতিরিক্ত পণ্য বাজারে বিক্রি করেন। প্রতিবছর তিনি সবজি বাগানে সেক্স থেরোমিন ফাঁদ ঝুলিয়ে দেন, ধুপ দেন, বাসী ছাই দেন, পোকার হাত থেকে রক্ষা পেতে মেহগনি ফলের বালাই ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু ভুলেও কখনো রাসায়নিক সার বা কীটনাসক ব্যবহার করেন না।
Subir-1
তাঁর জৈব কৃষি চর্চা দেখে বহুজা গ্রামের নারী-পুরুষদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। গ্রামের নারীরা তার কাছে এসে জৈর সার তৈরির পদ্ধতি শিখে যায়। তার বাড়িতে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করা হয়। বাবর আলীর স্বপ্ন একদিন যেন বহুজা গ্রামের সবাই জৈব পদ্ধতিতে ফসল ফলায় এবং মানুষকে যেনো কৃষি বিষয়ে পরামর্র্শ দিতে পারি। নিজের শেষ জীবনে এসে মানুষের মাঝেই তিনি থাকতে চান।

বাবর আলী বেশ কিছুদিন যাবৎ নিজ গ্রামে সাজনে গাছ রোপণের কথা বলে আসছে। তিনি মানুষদের বলেন, “সাজনে গাছ দ্রুত বড় হয় এতে অনেক পুষ্টিগুণ আছে, এই গাছ ঔষুধির কাজও করে।” সাজনে গাছ রোপণের কথা বলতে বলতে এখন তার স্বপ্ন কিছুটা পূরণ হয়েছে। বহুজা গ্রামকে সাজনে গ্রাম ঘোষণা করেছেন ঢাকা খামার বাড়ির পরিচালক আ. আজিজ। এরপর তার চিন্তা গ্রামে বড়ই গাছ রোপণ করা, তাই এবার তিনি বড়ই এর বীজ রেখেছেন ।

এভাবে বাবর আলী তার গ্রামেই শুধু নয়, অনেক জায়গায় একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে আলো ছড়াচ্ছেন। এই আলোকিত মানুষের প্রতি আমাদের বিন¤্র শ্রদ্ধা।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.