সাম্প্রতিক পোস্ট

এ ঋণ শোধাবো কেমনে

মানিকগঞ্জ থেকে এ্যাড. দীপক কুমার ঘোষ

1প্রিয় কালীগঙ্গার কাছে ঋণ আমাদের অপরিসীম। এ ঋণ আমাদের শোধাতে হবে। কিন্তু কীভাবে?যমুনা নদীর দু’কন্য কালীগঙ্গা আর ধলেশ্বরী মানিকগঞ্জের বুকচিরে প্রবাহিত। ধলেশ্বরী আজ মৃত। কালীগঙ্গাও মৃত্যু পথযাত্রী। অথচ এ দু’নদী মানিকগঞ্জের প্রাণ। আমাদের কৈশোর-যৌবন, আমাদের পূর্বপুরুষ কিম্বা আমাদের পিতা-পিতামহ, আমাদের কৃষি-কৃষক, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমাদের যোগাযোগ-যাতায়াত, আমাদের মৎস্য-মৃৎশিল্প, আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, ভেউরা ভাসান-নৌকাবাইচ, আমাদের বিবাহ-বরযাত্রা, বড় বড় পাল তোলা পাট বোঝাই নৌকা, লঞ্চের শব্দ, স্টিমারের ভেপুর শব্দ, এক মাইল্যা নৌকার মাঝির দরদী কন্ঠে ভাটিয়ালি গান, নাঔরে যাওয়া, উৎসব-আনন্দে মেতে উঠা; সব সবকিছু পেয়েছি প্রাণভরে কালীগঙ্গা থেকে।

2
সেই কালীগঙ্গা আর ধলেশ্বরীকে ঠান্ডা মাথায় আজ আমরা আমাদের প্রতিদিনকার কর্মকান্ড দিয়ে খুন করে চলেছি। দখল-দূষণ করছি প্রতিনিয়ত। গতিরোধ করছি, বাধা দিচ্ছি স্বাভাবিক চলার প্রবাহ পথকে। ইতোমধ্যে ধলেশ্বরী মৃত। আর কালীগঙ্গাকে যদি হত্যা করা সম্ভব হলে নির্লজ্জ ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা তাদের লাভ-লোভের উদগ্র বাসনা পূর্ণ করতে পারে। আর এ কাজে সহযোগী হচ্ছে প্রশাসনের আর পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু দূর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী-আমলারা।

আমরা যদি বেশি মাত্রায় ব্রিজ বা কালভার্ট করি তাহলে নদীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ধীরে ধীরে মরে যাবে। তারচেয়ে যদি উন্নত ফেরী এবং বিদ্যমান ঘাটগুলো আধুনিকায়ন করা 3যায় এবং নদীপথ বা জলপথ যা আছে তাকে সংরক্ষণ করা এবং নতুন নতুন জলপথ সৃষ্টি করা যায় তাহলে নদী বাঁচবে-দেশ বাঁচবে। শুধু তাই নয় পরিবেশ বাঁচবে। এতে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

মানিকগঞ্জের প্রাণ হচ্ছে কালীগঙ্গা। যাতে মৎস্য সম্পদ, যোগাযোগ, নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। তাইতো কালীগঙ্গার কাছে আমাদের অনেক ঋণ।
কয়েকদিন কুমুলন্ডী বাচ্চুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কর্মসূচি শেষ করে ফিরছিলাম মানিকগঞ্জে। বেলা গড়িয়ে সাজ বেলায় এলাম বালিরটেক ফেরী ঘাটে কালীগঙ্গার বুকে। মনে পড়ে 7গেল অনেক স্মৃতি, অনেক ঘটনা। একাত্তরে এপ্রিলের প্রথমদিকে পাকবাহিনী যখন শহরে ঢুকে পড়ে তখন নিমতলা প্রশিক্ষণ থেকে আমরা বাসায় ফিরে উৎকন্ঠিত পিতা-মাতাকে হাত ধরে কালীগঙ্গার তীর ঘেঁষে হেঁটে হেঁটে বাড়িঘর ফেলে পাড়ি দেই হাটীপাড়ার উদ্দেশ্যে। সেদিনও সন্ধ্যা নেমেছিল নিরাপদ এলাকা, মুক্ত এলাকা হাটীপাড়া পৌঁছুতে।

কালীগঙ্গায় সন্ধ্যা নামলে ফেরী থেকে আমি, মামুন, লোকমান, সাখাওয়াৎ, আনোয়ার, দরবেশ, ছানোয়ার পা রাখলাম মানিকগঞ্জ শহর অভিমুখে আর পেছনে পড়ে রইল প্রিয় কালীগঙ্গা যার কাছে আমাদের অপরিসীম ঋণ। এ ঋণ শোধাতে হবে- আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: