সাম্প্রতিক পোস্ট

একজন সফল ও উদ্যোগী নারী

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে মনিকা পাইক
নারীরা যুগ যুগ ধরে সমাজে অবহেলিত, বঞ্চিত। কিন্তু এখন নারীরা ঠেকে ঠেকে শিখেছেন। তারা নিজেদের চিন্তাধারার পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। এরকমই একজন নারী শ্যামনগর ইউনিয়নের বেতাঙ্গী গ্রামের অনিতা রানী মন্ডল।


নানান অভাব-অনটনের সংসারের মাঝেও নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমের কারণে আজ অনিতা রানী সফল হয়েছেন। নানান উদ্যোগ নিয়ে তিনি তার পরিবারের নানান সমস্যা সমাধান করতে পেরেছেন। এই প্রসঙ্গে অনিতা রানী বলেন, ‘আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার পরিবারের অবস্থা ততোটা ভালো ছিল না। অভাব অনটনের মধ্যে কেটে যেত কোনভাবে। আমার মনে হতো আমি যদি কিছু করতে পারতাম তাহলে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসত। নিজেদের ৫ কাঠা জায়গা ছিলো। সেখানে সবজি চাষ শুরু করতে শুরু করি। লালশাক, ঢেড়স, বরবটি, টকপালন, উচ্ছে, চৈতে মুখডাল, কুমড়া, ঝালসহ নানান ধরনের সবজি আবাদ করি। নিজেরা খাওয়ার পরও কিছু সবজি বাজারে বিক্রি করে কিছু আয় করতে পারি। এভাবে শুরু করি আমার পথচলা।’


তিনি জানান, সবজি চাষে তিনি বাজার থেকে কোন সার কেনেন না। জৈব পদ্ধতিতে তিনি এসব সবজি আবাদ করেন। তিনি একটা জায়গায় গর্ত করে অবশিষ্ট তরকারির খোসা, হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, গাছের পাতা ইত্যাদি দিয়ে সে জৈব সার তৈরি করেন। সে সার তিনি তাঁর সবজিক্ষেতে ব্যবহার করেন। অনিতা রানী বলেন, ‘আগের থেকে আমি দ্বিগুণ সবজি উংপাদন করতে পারছি এবং আগের থেকে আমার সংসার অনেক সচ্ছল হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বারসিক থেকে কিছু নাঁদা সহযোগিতা পেয়েছিলাম। নাঁদা পেয়েই আমি ভার্মি কম্পোস্টের কাজ শুরু করি। বর্তমানে আমি কেঁচো এবং কম্পোস্ট সার বিক্রি করি। ইউএনও অফিস থেকে লোক এসে আমার ভার্মি কম্পোস্ট নিয়ে কিনেছেন। কয়েকদিনের ভেতরে আমি এক মণ ভার্মি কমপোষ্ট বিক্রি করতে পেরেছি। অনেক মানুষ, এনজিও এখন আমার বাড়ি দেখতে আসে। এজন্য আমা খুব ভালো লাগে। আমার নিজের কষ্ট, অভাব ঘুচে গেছে। আমি নিজেকে একজন সফল কৃষাণী মনে করি।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: