Posted in

স্টুডেন্টস ফোরামের উদ্যোগে স্কুল ক্যাম্পাসে বনায়ন

শ্যামনগর সাতক্ষীরা থেকে ফজলুল হক

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলাটি দুর্যোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। কেননা শ্যামনগর উপজেলাটি উপকূলবর্তী হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দূর্যোগের প্রকোমটি বেশিই পড়ে থাকে। আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য নতুন প্রজন্মকে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ (পরিবেশ) প্রকল্পটি বারসিকের বাস্তবায়নে নেটজ বাংলাদেশর (পার্টনারশিপ ফর ডেভেলবমেন্ট জাস্টিস) সহাযোগিতায় ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়। শ্যামনগর উপজেলার জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্চ, গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন গুলি বেশি প্রভাবিত। প্রকল্পটিতে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি চারটি ইউনিয়নের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস ফোরাম কমিটির গঠনের মধ্য দিয়ে স্টুডেন্টস ফোরামগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর অধিকার আদায়, স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে বিভিন্ন কর্মকান্ডে (যেমন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাসিক আলোচনা, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন পাবলিক ইভেন্ট, বৃক্ষ রোপণ, সবজি ও ফুল-ফলের বাগান) জড়িত থাকবে।

তারই ধারাবাহিকতায় মুন্সিগঞ্চ ইউনিয়নের বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস ফোরাম কমিটি গঠন করা পরর্বতী স্টুডেন্টস ফোরাম কমিটির সাথে নিয়মিত মাসিক বৈঠক, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন পাবলিক ইভেন্ট, বৃক্ষরোপণ, সবজি ও ফুল ফলের বাগান বিষয়ে আলোচনার ফলাফল স্বরুপ স্টুডেন্টস ফোরাম কমিটির উদ্যোগে স্কুল ক্যাম্পাসে বনায়ন গড়ে তোলে। বনায়নটিতে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী প্রায় তিন শতাধিক বৃক্ষরোপণ করে (যেমন, কদবেল,আম, মেহগনি, আকাশমনি, দেবদারু, শিউলি, ঘাসফুল, লেবু, কদম, তেতুল, অর্জুন, জলপাই, গাধাফুল, লাউ,কুমড়া, ঢেড়স ইত্যাদি)। বনায়নটি তৈরি করতে বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম, বারসিক ও স্টুডেন্টস ফোরাম কমিটিসহ অন্যন্য স্টুডেন্টসদের বেশ অবদান ছিল। সকলের সার্বিক সহাযোগিতায় একটি দৃশ্যমান বনায়নে পরিণত হয়েছে।

স্কুল ক্যাম্পাসে বনায়ন বিষয়ে বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ফোরাম কমিটির সভানেত্রী তাবাসসুম মাশিয়া তমা বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় একান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বৃক্ষরোপণ। বৃক্ষরোপণ ছাড়া কোন মতেই সম্ভব নয়, সে জন্য আমরা স্কুল ক্যাম্পাসসহ নিজ নিজ বাড়িতে বৃক্ষরোপণ করেছি, যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কিছুটা হলেও কমে।

বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, “স্টুডেন্টস সহ শিক্ষকদের একান্ত প্রচেষ্টায় বনায়নটি দৃশ্যমান হয়েছে। স্কুল ক্যাম্পাসে বনায়নটি দেখে যেন নতুন প্রজন্ম বৃক্ষের প্রতি গুরুত্ব বুঝতে পারে একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনসহ পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে একই সাথে নতুন প্রজন্ম বৃক্ষরোপনে উদ্যোগী হবে।’ তিনি বারসিক’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.