বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবসে নারীদের গৃহস্থালী কাজের স্বীকৃতির দাবি

সিংগাইর মানিকগঞ্জ থেকে শাহীনুর রহমান, বিউটি সরকার, রিনা আক্তার ও আছিয়া আক্তার

ঘর দুয়ার ঝাড়– দেওয়া, থালাবাটি মাঝা, গোশালা পরিষ্কার করা, জ¦ালানি সংগ্রহ, নিরাপদ পানি সংগ্রহ করা, প্রবীণদের যতœ নেওয়া, রান্না করা, কাপড় ধোয়া, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো, বীজ সংরক্ষণ, প্রাণী সম্পদ লালন পালন, বসতবাড়িতে সবজি চাষ-এ ধরনের অসংখ্য কাজ করে থাকেন একজন গ্রামীণ নারী। এত কাজ করার পরও অনেক নারী পরিবার ও সমাজে নানা ধরনের বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন। তাদের এই কাজের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে একজন নারীর মর্যাদা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ^ গ্রামীণ নারী দিবস।
তারই ধারাবাহিকতায় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রার সংকটের মুখোমুখি গ্রামীণ নারী”- প্রতিপাদ্যের আলোকে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের খোলাপাড়া, বায়রা ইউনিয়নের চর নয়াবাড়ি ও সিংগাইর পৌরসভার বিনোদপুর ঋৃষিপাড়া গ্রামে বিশ^ গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা সভা, মানববন্ধন, হস্তশিল্প প্রদর্শন ও গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষনা সংস্থা বারসিক।


খোলাপাড়া গ্রামের কৃষাণি রুবিয়া বেগম, চরনায়াবাড়ি গ্রামে আমেলা বেগম, বিনোদপুর ঋৃষিাপাড়া গ্রামে ঝর্ণা রানী দাসের সভাপতিত্বে যথাক্রমে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রবীণ নারী রুবিয়া বেগম, সীমা বেগম, বাছিয়া বেগম, হাজেরা বেগম, কৃষক লূৎফর রহমান হোসনেয়ারা বেগম, কৃষক দেলোয়ার হোসেন, পলি বেগম, সুর্বণা রানী দাস, নয়নতারা মনিদাস, শতবয়স্ক সুবল মনিদাস, বারসিক কর্মকর্তা শিমুল বিশ্বাস, শাহীনুর রহমান, বিউটি সরাকার, রিনা আক্তার, আছিয়া আক্তার, শারমিন আক্তার প্রমুখ।


গ্রামীণ নারী দিবসের আলোচনায় খোলাপাড়া গ্রামের কৃষাণি সুফিয়া বেগম তার বক্তবে বলেন, ‘একজন গ্রামীন নারী তার সংসার পরিচালনার জন্য সবার আগে ঘুম থেকে উঠেন। সবার পরে ঘুমাতে যান। একজন গ্রামীণ নারী তার সংসারে ১০৩ ধরনের কাজ করে থাকে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একজন গ্রামীণ নারী কৃষি কাজের সকল যোগান দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই কাজ করার জন্য নারীরা পরিবার থেকে কোন অর্থনেতিক মুল্য পায়না এবং কোন স্বীকৃতিও নেই। আমারা বিশ^ গ্রামীণ নারী দিবসে নারীদের গৃহস্থালী কাজের স্বীকৃতি চাই।’


চরনয়বাড়ি গ্রামের কৃষাণি হোসনেয়ারা বেগম বলেন,একজন নারী সংসারে সবচেয়ে কম খরচ করে।নারীরা ঘরের কাজ করার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নয়ন মুলক কাজে সমান অবদান রাখলেও শ্রমের মুল্য প্রাপ্তিতে বৈষম্য রয়েছে।সংসারে নারীর গুরুত্ব তুলে ধরে কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন আমরা নারী দিবস বুঝি না তবে সংসারের কাজ নারী-পুরুষ মিলে করলে সংসার সুন্দর হয়। বিনোদপুর ঋষিপাড়ার সুবর্ণা রানী বলেন সংসারে নারীরা যেমন পুরুষের কাজে সাহায্য করে পুরুষদেরও নারীদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে,নারীর কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে সেটা অর্থনৈতিকভাবে নয় একজন নারী যাতে পরিবার,সমাজে মতামত, সিদ্ধান্ত, অংশগ্রহন ও সম সুযোগ-সুবিধা পায় সেদিকে সকলের নজর দিতে হবে। এছাড়াও শতবর্ষী সুবল মনিদাস তার সময়কার গ্রামের কৃষি,পরিবেশ, আচার-আচরন ,খাদ্যাভ্যাস এর সাথে এখনকার সময়ের পার্থক্যগুলো তুলে ধরেন।

happy wheels 2

Comments