সাম্প্রতিক পোস্ট

পিছিয়ে পড়াদের শিক্ষা কার্যক্রম

সত্যরঞ্জন সাহা হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ
সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর সৃজনশীল ও আনন্দদায়ক পরিবেশে পাঠদান শিক্ষার্থী সকলের মনে আশা সঞ্চার হয়েছে। অভিভাবকগণ শিক্ষার্থী লেখাপড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় জনউদ্যোগে দলিত শিক্ষা কেন্দ্রও চরে ঝরেপড়া শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কুইজ, চিত্রাংকন, রচনা, নৃত্য ও গানের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। জাতীয় দিবস উদযাপনে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
হরিরামপুর কালই মনিঋষি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নিত্য সরকার বলেন ‘স্কুল তৈরির স্বপ্ন ছিল; সকলের সমন্বিত সহযোগিতায় পূর্ণ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে, মনের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। পিছিয়ে পড়া মনিঋষি শিশু শিক্ষার্থীগণ আনন্দঘন পরিবেশে লেখা পড়া করছে। পরিচালনা কমিটি ও অবিভাবকগণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে দলিতদের উদ্যোগে শিক্ষা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে পারছি। একে অপরের মতামতকে সম্মান করতে শিখেছি। সবাই মিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির মত বড় একটি কাজ করতে পেরেছি। ছেলে মেয়েদের সহজে লেখা পড়া করতে পারায় আমরা আনন্দিত। আমরা দলিত মনিঋষি ও রবিদাস পরিবারের পক্ষ থেকে বারসিককে অভিনন্দন জানাই।’

মানিকগঞ্জ সদরের পাওনান মনিঋষি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ময়ারাম মনিদাস বলেন, ‘মনিঋষি ছেলেমেয়েরা শিক্ষার দিক দিয়ে বর্তমানে এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ পরিবারের সবাই লেখাপড়ার প্রতি গুরুত্ব দেন। আমরা সম্মিলিতভাবে শিক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে সফল হয়েছি। মনিঋষি শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষার উদ্যোগ নিতে পেরেছি। ফলে লেখাপড়া জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বারসিক এর সহযোগিতায় আমরা সমন্বিত উদ্যোগে পাওনান মনিঋষি শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করতে পারায় লেখাপড়ার এই সুযোগ সৃষ্টি হয়।’

পদ্মাপাড়ের পাঠশালা পরিচালক মীর নাদিম হোসেন বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উদ্যোগে আমরা সফল। শিক্ষার্থীরা স্কুলগুলোতে রীতিমত আসে, সৃজনশীল শিক্ষা দেওয়া হয়। শিক্ষার পাশাপাশি সমাজের জন্য কাজ করার ও মানুষ হিসেবে তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আমরা যুবকগণ নিজের শিক্ষার পাশাপাশি এমন সুন্দর উদ্যোগ সমাজে ও সরকারি বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠানে সুনাম অর্জন করেছে। আমরা এই উদ্যোগে পিছিয়ে পড়াদের সাথে সকলেই যুক্ত হয়েছে। যুবকগণ সমাজের জন্য ভালো কাজ করতে পারায় খুশি। সমাজিক কাজের মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও জানা বুঝার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামীতে পদ্মাপাড়ের পাঠশালা ১০ম শ্রেণিতে উন্নতি করা হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নের কাজে যুক্ত হবে।’

কালই মনিঋষি শিক্ষা কেন্দ্র (প্রি-প্রাথমিক)শিক্ষক এসোনা মনিদাস বলেন, ‘করোনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হওয়ার পর শিক্ষকগণ সর্বোচ্চ পরিশ্রম করে সৃজনশীল শিক্ষা ও মেধা বিকাশ কাজ করছে। স্কুল কমিটি ও উদ্যোগী ব্যক্তি, শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় এবং সর্বোপরি সরকারের সহযোগিতায় মনিঋষিদের শিক্ষা কার্যক্রম ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। শিক্ষার্থীগণ মনিঋষি স্কুলে সুন্দর পরিবেশে গানে গানে, কবিতা আবৃতি, নৃত্য ও চিত্রিাংকন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে লেখা পড়া করছে। শিক্ষার্থীগণ নিয়মিত স্কুলে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলমানের জন্য অভিভাবকগণ কাজ করছে।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: