Posted in

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করি

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে মুকতার হোসেন ও সত্যরঞ্জনসাহা

হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে গতকাল পাটগ্রাম চরে জেন্ডার বৈচিত্র্য সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আয়োজন করে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা ‘পাটগ্রামচর নারী উন্নয়ন সংগঠন’। এতে অংশগ্রহণ করেন উত্তর পাটগ্রামচর ও গঙ্গাধরদি গ্রামের ২৫ জন নারী-পুরুষ।

IMG_20181119_122743
জেন্ডার ও বৈচিত্র্য সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেন্ডার বিষয়ে ধারণায়ন, জেন্ডার সমতা ও সাম্য, সমাজ কর্তৃক নির্ধারিত নারী পুরুষের কাজের বিভাজন তৈরি, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বাল্য বিবাহ, যৌতুক, দুর্যোগকালীন সময়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের প্রতি বেশি নজর রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন করেন। প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণ করে উত্তর পাটগ্রাম নারী উন্নয়নের সভাপতি আরজিনা বেগম (৪৭) বলেন, ‘আমরা চরে থাকি, সারাদিন কাজের মধ্যে দিয়ে আমাদের সময় অতিবাহিত হয়ে। সংসার জীবনে পুরুষের পাশাপাশি আমরা নারীরা অনেক ভূমিকা রাখি। কাজের মুল্যায়নের দিক দিয়ে আমরা পিছিয়ে আছি। তাছাড়াও শুধু ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এবং চেয়ারম্যানের সাথে আমরা বিভিন্ন কাজে যোগাযোগ করে থাকি। সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের যোগাযোগ কম রয়েছে। আজকের এই প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে আমাদের পূর্বের অনেক ধারণাকে পরিবর্তন করেছে, যা আমাদের নারীদের বৈষম্য দূরীকরণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে।’

IMG_20181119_130335
হরিরামপুর উপজেলা থেকে নৌকায় পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে পাটগ্রামচরে পৌছা যায়। সেখানকার মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। কৃষি কাজের উপর নির্ভর করেই তাদের জীবন জীবিকায়ন করতে হয়। সকাল হলে পুরুষেরা কৃষি মাঠে কাজে বের হন। সাথে সাথে নারীরা বাড়ির রান্নাবাড়ি কাজ সেরে পুরুষের কাজের সহযোগিতার জন্য মাঠে (চকে) চলে যান। গৃহস্থালি ও কৃষি কাজের পাশাপাশি নারীরা গরু ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি পালন করেন। তাদের খাদ্য সংগ্রহ পরিচর্যা কাজগুলোর বেশির ভাগ নারীরাই করে থাকেন। তাছাড়া নারীরা বসত বাড়িতে শাকসবজি চাষ করেন এবং ছেলেমেয়ের দেখাশুনা করেন। মূলত সারাদিনের কাজের ভেতর দিয়ে তাদের দিন কেটে যায়। চরাঞ্চলে নারীদের বিনোদন, হাট বাজারের কেনাকাটা, সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, মেলা-বাণিজ্যে অংশগ্রহণ অনেকাংশে এখন কম দেখা যায়। নারীদের শিক্ষা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা, বাল্য বিবাহ, যৌতুক, সামাজিক বিচার সালিশ, পারিবারিক বড় ধরনের কাজের ক্ষেত্রে মতামত/ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণের জন্য মুলত এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.