সাম্প্রতিক পোস্ট

রং এর ভুবনে সাদাকালো নারীর জীবন

রং এর ভুবনে সাদাকালো নারীর জীবন

মানিকগঞ্জ থেকে শাহিনুর রহমান, বিউটি সরকার ও শারমিন আক্তার; নেত্রকোনা থেকে অর্পণা ঘাগ্রা ও খায়রুল ইসলাম অপু এবং রাজশাহী থেকে উপেন রবিদাস

nari dibos-1৮ মার্চ, ২০১৮ সারা বাংলাদেশের ন্যায় বারসিক এর কর্ম এলাকাগুলোতেও উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৮। এবারে নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “সময় এখন নারীর: উন্নয়নে তারা, বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরের কর্ম-জীবন ধারা ”। আপত দৃষ্টিতে উক্তিটি সত্য, তবে বাস্তব প্রেক্ষাপট তো অন্য কথা বলে। যেখানে পরিবার থেকেই নারীকে মানুষ হিসাবে গণ্য করা হয় না, সেখানে এসব কথা মনের সাহস যোগাতে পারে বটে, কিন্তু নারীর প্রকৃত উন্নয়নে পাড়ি দিতে হবে আরো অনেকটা পথ। এমনটাই উঠে এসেছে নারী দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া প্রান্তিক নারীদের বক্তব্যে।

20180308_134313

সিঙ্গাইর, মানিকগঞ্জ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বায়রা এবং সোলাই গ্রামে পৃথক দু’টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এলাকার কৃষক কৃষাণি সংগঠন। বারসিক তাদের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীর কাজের মর্যাদা ও স্বীকৃতি এবং নারীর প্রতি হওয়া পারিবারিক ও সামাজিক বৈষম্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১২ টি কৃষক কৃষাণি সংগঠনের দুইশতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করে। উক্ত অনুষ্ঠানে জনসচেতনতা মুলক কার্যক্রম হিসাবে গ্রহণ করা হয় সংগঠনভিত্তিক কৃষাণিদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, কৃষাণিদের অংকিত চিত্রের পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিতর্ক অনুষ্ঠান ও নারী দিবসের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা। এ অনুষ্ঠানে কৃষক কৃষাণি ছাড়াও সিংগাইর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা টিপু সুলতান স্বপন, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মেহেরুননেছা, উপসহকারী কর্মকর্তাগণ, ইউ.পি.সদস্য ঝর্না বেগম, মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি করম আলি মাস্টার, বাংগালা নব কৃষক কৃষাণি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, বায়রা সংগঠনের সভাপতি রোকেয়া বেগম, নয়াবাড়ি কৃষক সংগঠনের সভাপতি কমলা বেগম ও ইমান আলী প্রমুখ।

1

রাজশাহী

রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউপি এর তেঁতুলিয়া ডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসা মাঠ প্রঙ্গনে তেঁতুলিয়াডাঙ্গা নারী সংগঠনের উদ্যোগে আন্তর্জতিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভা সভাপতিত্ব করেন দর্শনপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু বক্কর সিদ্দিকি, বক্তব্য রাখেন দাঁড়শা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রোকশানা বেগম। তিনি বলেন, “নারীরা আগের থেকে আনেক অগ্রগামী হয়েছেন। নারীরা এখন ট্রেন চালান, বিমান চালান, বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধান। নারীরা যে সমাজের জন্য কার করছেন এটাই তার বড় প্রমাণ। নারীদের ন্যায্য অধিকারের জন্য আরো সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।” সংগঠনের সদস্য জোছনা বেগম বলেন, “আগে আমরা একা ঘরের বাইরে যেতে পারতাম না, তবে এখন আমরা বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারছি। এখন আমরা নিজেরাই একা একা যেকোন কাজে যেতে পারি। সংগঠন আমাদের আরো সংগঠিত করেছে, আমাদের সচেতন করেছে।”

DSC03339একই দিনে রাজশাহীর গোদাগাড়ী গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে গোগ্রাম ও রিশিকুল নারী সংগঠন এর আয়োজনে গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ও বারসিক এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে র‌্যালি ও আালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউপি সচিব মো. মাজহারুল ইসলাম। আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমাদের পরিবার সমাজ জীবনে নারীদের অবদান পুরুষদের জীবনকে সুন্দর করেছে। তারা আমাদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে সবথেকে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেন। তাই নারীদের আমাদের সম্মান করতে হবে, তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে।” শান্তিপুর নারী সংগঠনের সদস্য সাহিদা বেগম সুলতানা বলেন, “আমরা এখন কৃষি কাজ করি। বীজ সংরক্ষণ করি। গবাদি পশু-পাখি লালন-পালন করি। কেউ যদি বলে আমরা কিছু পারি না তাহলে বুঝতে হবে তার মনের দোষ আছে। এদেশের উন্নয়নে আমরা আরো কাজ করতে চাই। আমাদের সুযোগ দিলে আমরা আনেক কিছু করে দেখাতে পারব।

IMG_20180308_100633

কলমাকান্দা, নেত্রকোনা
একই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে উদ্যাপন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৮। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছবি বিশ্বাস, মাননীয় সংসদ সদস্য, নেত্রকোনা-১। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান। মানববন্ধন, র‌্যালি, আলোচনা সভা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। দিবসটি সফলভাবে উদ্যাপনের ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও সহযোগিতা করেছে। বারসিক’র প্রতিনিধি হিসেবে বাইর শিল্প সংগঠনের সদস্য আব্দুল মোতালিব ও হালেমা বেগম। তারা বাঁশজাত পণ্য স্টলে প্রদর্শন করেন। যা তারা প্রতিনিয়তই জীবিকার জন্য তৈরি ও বাজারজাত করেন। স্টল পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুটিরশিল্পী ও তাদের কাজকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বারসিক’র ভূমিকার প্রশংসা করেন।

নারী দিবসে অনুষ্ঠিত কার্যক্রমের সার্বিক বিশ্লেষনে দেখা যায়, জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে একজন নারী নিরলসভাবে দিয়ে থাকে তার অকৃত্রিম স্নেহ ও ভালোবাসা। বিনিময়ে কি পেয়ে থাকে? তা হয়তো আমরা জানা বা বোঝার চেষ্টাও করি না। অথচ সামাজিক কর্মকান্ডের বিভিন্ন ধারায় দেখা যায়, নারী কোন অংশেই পুরুষের চেয়ে পেছনে ছিল না। একইভাবে বর্তমানেও সকল ক্ষেত্রে নারীর কর্মতৎপরতা বলছে সেই অদৃশ্য শক্তি ভেঙ্গে নারীরা পারবে অনেক দূর এগিয়ে যেতে, তাদের জীবন হবে রঙিন। আর এটাই হওয়া উচিৎ এবারে নারী দিবসে সকলের প্রত্যাশা।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: