সাম্প্রতিক পোস্ট

পানি সংকটের সমাধান চান বরেন্দ্র অঞ্চলের নারীরা

রাজশাহী থেকে মো. শহিদুল ইসলাম

খরায় পানি সঙ্কট দেখা দেয় চারদিকে। বরেন্দ্র অঞ্চলে এ সমস্যা আরও প্রকট। পানির সাথে নারীর নিত্যদিনের কাজ। গৃহস্থালি থেকে শুরু করে পরিবারের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হয় নারীকে। IMG_9417কিন্তু পানি প্রাপ্যতা কম হলে নারীকে সহ্য করতে হয় ভীষণ কষ্ট। ফলশ্রুতিতে নারীরা বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজে সময় দিতে পারেন না। সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে তাদেরকে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ! বরেন্দ্র অঞ্চলে শুকনো মৌসুমে পানি সঙ্কট সবসময় থাকে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে স্বল্প বৃষ্টি ও বৃষ্টিহীনতা এবং এর সাথে যুক্ত মানবসৃষ্ট দুর্যোগের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিও আজ দুর্লভ হয়ে পড়েছে। পানির সাথে নারীর সম্পর্ক যেহেতু সবচে’  বেশি সেহেতু পানি সঙ্কট হলে নারীকেই বেশি কষ্ট সহ্য করতে হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের নারীরা এ পানি সঙ্কটের সমাধান চান। সম্প্রতি রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সেমিনার কক্ষে খরা ও দূর্যোগ মোকাবেলায় গ্রামীণ নারীদের সমস্যা ও করণীয়  শীর্ষক মতবিনিময় ও সংলাপ অনুষ্ঠানে নারীরা এই  দাবি করেন। মতবিনিময় ও সংলাপে দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপাল পাড়া, তেতুলিয়া ডাঙ্গা, প্রসাদপুর গ্রামসহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ প্রায় ৭০ জন নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

IMG_9400পানি সঙ্কট সম্পর্কে নারীরা জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে দিনে দিনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে। বাড়িতে টিউবয়েলগুলোতে পানি উঠছে না। পানি আনতে যেতে হয় প্রায় এক কিলোমিটার দুরে বা আধা কিলোমিটার দুরে। খরার সময় আরো সংকট বেড়ে যায়। পরিবারের একজন নারীই সবসময় পানি সংগ্রহ করে থাকে। অনেক দুর থেকে পানি আনার ফলে নারীর শারিরিক সমস্যা দেখা দেয়। গর্ভবতী নারীদের সমস্যা আরো বেশি করে দেখা দেয়। মাজায় ব্যাথাসহ অনেক সময় অতিরিক্ত ভার উত্তোলনে অসময়ে সন্তান প্রসবসহ জীবনের হানি হয়। তারা আরও জানান, স্থানীয় পুকুরগুলোতে মৎস চাষের নামে নানা ধরনের বিষ এবং বর্জ্য দেওয়ার ফলে পুকুরের পানি ব্যবহার করা যায় না। এসব দূষিত এবং বর্জ্যপানি ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ বেড়ে গেছে। স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর ঔষধ কেনার পিছনে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করায় আর্থিকভাবেও খরচের হার বেড়ে গেছে।

নারীরা দাবি করেন বসতবাড়িরর পাশেই এবং কাছেই পানির উৎস সৃষ্টি করতে হবে একই সাথে স্থানীয় পুকুরগুলোতে বিষ এবং বর্জ্য না দিয়েই মৎস্য চাষ করতে হবে। যাতে IMG_9399পুকুরের পানি ব্যবহার উপযোগী হয়। এই প্রসঙ্গে তেুলিয়া ডাঙ্গা গ্রামের নারী মোছাঃ  ফরিদা বেগম বলেন, “রাতে একজন মানুষ অসুস্থ হলে তার জন্যে একজন নারীর পক্ষে পানি আনা দুষ্কর হয়ে যায়। সামাজিকভাবে এখনো একজন নারী রাতে ঘরের বাহিরে বের হতে পারেনা।” ইউনয়ন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোছাঃ জাহানারা বলেন, “দূর্যোগে নারীদেরই বেশি সমস্যা হয়।” অন্যদিকে বিলনেপাল পাড়া চাষী ক্লাবের সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, “দিনে দিনে খরা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের জন্যে খরা এবং কম পানিসহনশীল জাতগুলো সম্প্রসারণে বেশি করে উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে করে পানির ওপর চাপ কমে পড়ে।”

সংলাপে বিগত সময়ের খরা এবং স্থানীয় দূর্যোগের ফলে নারীর স্বাস্থ্য, কৃষি এবং জীববৈচিত্র্য বিষয়ে মাঠ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম। সংলাপে দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. এনামুল, নির্বাচিত প্রতিনিধি মো. গোলাম মর্তুজা, আ. সালাম, আবুল কালাম আজাদ, জাহানারাসহ সকল নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: