সাম্প্রতিক পোস্ট

আর্সেনিক আতংকে ঘিওরবাসী: ২১ বছর ধরে আর্সেনিক পরীক্ষা হয় না

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)॥

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়রে মানুষজনের মাঝে আর্সেনিক ও আয়রন আতংক বিরাজ করছে। বিভিন্ন নলকূপের পানিতে অতিমাত্রায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে। নিরাপদ পানির অভাবে মানুষ জেনে শুনে বিষপান করে চলেছেন। বিগত ২১ বছর ধরে ঘিওরে আর্সেনিক পরীক্ষাকরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এলাকার হাজার হাজার লোকজন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে আর্সেনিকোসিস রোগসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ভয়ে অনেক লোকজন নলকূপের পানি পান করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

1 (5)

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের প্রথম দিকে আর্সেনিক পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৭ মাসে মাত্র ১ হাজার তিনশ’ ৩৪টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার পরে নলকূপগুলোর পানি যাতে কেউ পান না করে, সেই জন্য কর্তৃপক্ষ প্রতিটি নলকুপের গায়ে লাল রংয়ের চিহ্ন দিয়ে দেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হবার পরে নলকূপগুলো পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে এলাকার লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নব্বই দশকের আগে আর্সেনিক সমন্ধে মানুষের তেমন কোন ধারণা ছিল না। কিছু মানুষের ত্বক খসখসে, ঘাঁ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্সেনিকের অস্তিত্ব ধরা পরে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রচারিত হলে দেশের মানুষের আর্সেনিকের সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। নলকূপের প্রতিলিটার পানিতে দশমিক শূন্য পাঁচ থেকে মিলিগ্রাম থেকে আর্সেনিক থাকলে তা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি মাত্রায় আর্সেনিক থাকলে তা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর।

উপজেলাতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নলকূপ রয়েছে। দীর্ঘ ২১ বছর যাবত এই নলকূপগুলো পরীক্ষা করা হয় না। গত বছর এডিপি থেকে ২১টি নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অধিকাংশ নলকূপগুলো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরেছে। ৬নং হ্যান্ড পাম্প নলকূপ, অগভীর, নলকূপসহ ৪৩টি তারা গভীর নলকূপ বিতরণের ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।

2 (1)

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সুজিত সরকার জানান, আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীদের প্রথমে হাত, পায়ে এমনকি শরীরে ফোসকা পরে কালো রং গোলাকৃত আকার ধারণ করে। এবং পরীক্ষা নিরিক্ষা করে আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়। পরীক্ষা ছাড়া নলকূপের পানি পান করা নিরাপদ নয়।

জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মো. দবিরুল আসলাম বলেন, ‘উপজেলাতে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থা করা হলে এলাকার জনগণের সুবিধা হবে। আমি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তবে নতুন যোগদান করার কারণে অনেক তথ্য আমার কাছে নেই। উপজেলার সকল নলকূপগুলোতে আর্সেনিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য আমি দ্রুত আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: