Posted in

তানোরে লোকালয়ে হনুমান : পাতা-লতা খেয়ে জীবন-যাপন

তানোর, রাজশাহী থেকে মিজানুর রহমান

রাজশাহীর তানোর উপজেলার লোকালয়ের বিস্তৃর্ণ গ্রামের গাছের ডালে-ডালে ঘুরে পাতা-লতা খেয়ে জীবন-যাপন করছে নিরীহ প্রাণী একটি হনুমান। প্রথমে গ্রামের সবাই হনুমান দেখে বেশ অবাক হলেও হনুমানটি এখন গ্রামবাসীদের কাছে সুপরিচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, গত কয়েকদিন ধরেই উপজেলার কোয়েল হাট, গাল্লা, শাহাপুর, নোনাপুকুর দুবইলসহ আশাপাশের কয়েকটি গ্রামে গাছের ডালে-ডালে ঘুরে বেড়াচ্ছে হনুমানটি। হনুমানটি আকারে অনেক বড়। তার লেজ আনুমানিক পাঁচ ফিট ও উচ্চতা সাড়ে তিন ফিটের মতো। এ অঞ্চলের লোকালয়ে হনুমান দেখে অনেকেই প্রথমেই একে শেয়াল মনে করেন। তবে পরে লোকজন জড়ো হলে দেখতে পান যে আসলে তা একটা হনুমান।

tanore-huluman-photo-21-11-2016
জানা যায়, দিন যত বাড়ছে হনুমানটি বিচরণের গ্রামগুলোতে তাকে ঘিরে প্রতিদিনই উৎসুক দর্শকের ভিড় বাড়ছে। স্থানীয় অনেকে হনুমানটিকে কলা, পাউরুটি, বিস্কুট ইত্যাদি শুকনা খাবার খাওয়াচ্ছে। কেউ খাবার দিলে হনুমানটি গাছ থেকে নেমে খাবার খেয়ে আবার গাছে উঠে যাচ্ছে।

উপজেলার দুইবল গ্রামের পদকপ্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ইউসুফ মোল্লা জানান, সপ্তা থেকে হনুমানটি তাদের গ্রামের বাঁশ ঝাড়, নিমগাছসহ বিভিন্ন গাছে অবস্থান করছে। গ্রামবাসীরা যে যেভাবে পারছেন, তাকে খাবার দিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, পাশের কয়েকটি গ্রামে প্রায় এক মাস ধরে তিনটি হনুমান ঘুরে বেড়ানোর কথা শুনেছিলেন তিনি। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, কে বা কারা খাবারে বিষ মিশিয়ে তাদের মধ্যে থেকে ইতিমধ্যেই দু’টি হনুমান মেরে ফেলেছে। এখন একটি বেঁচে আছে। তবে কিছুদিন ধরে তাদের অজান্তে ছোট ছেলে-মেয়েরা হনুমানটিকে ঢিল ছুড়ে প্রায় আহত করার চেষ্টার করছে। এঅবস্থায় একমাত্র হনুমানটির প্রাণ হুমকির মুখে বলে তিনি জানান।

এনিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বণ্যপ্রাণি বিভাগের অধ্যাপক ড.বিধান চন্দ্র দাশ সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে উপজেলার এই হনুমানটি ভারত থেকে এদেশে এসেছে। হয়তো দল ছুটে এসে বিভিন্ন গ্রামের গাছের ডালে-ডালে বেড়াচ্ছে। তিনি জানান, হনুমান শান্ত প্রকৃতির প্রাণি। এরা মানুষের কথা ও পোষ সহজেই গ্রহণ করে থাকে। এরা ভোজন প্রিয় প্রাণি। কেউ তাদের পছন্দে খাওয়ার দিলে কাছে চলে আসে। তাদের কেউ বিরক্ত না করলে নিজেরা ইচ্ছা মত গাছে-গাছে খেলা করে পাতা-লতা খেয়ে জীবন-যাপন করে থাকতে পারে। তবে যত দ্রুত সম্ভব এই হনুমানটিকে উদ্ধার করে প্রাণ হুমকির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.