Posted in

আমনের ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে শঙ্কা

তানোর, রাজশাহী থেকে অসীম কুমার সরকার
পুরো বরেন্দ্র অঞ্চল জুড়ে চলছে রোপা-আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসব। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাই ধানকাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক। এবার আবহাওয়া ভালো এবং ধান ক্ষেতে পোড়া-মাকড়ের আক্রমণ তেমন না থাকায় সময় মতো ফসল তুলছেন কৃষক। আর আমন ধানে ফলন ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

1তবে এবার এই ধান হাটে বিক্রি করতে গিয়ে মলিন হয়ে যাচ্ছে কৃষকের মুখের হাসি। মৌসুমের শুরুতে ধানের পড়তি দামে হতাশ তারা। এক মণ ধান বেচে তারা ৩কেজি পিঁয়াজ কিনতে পারছেন না।
এক কথায়, এবার হাটে ধানের ন্যায্য দাম মিলছে না। গত বছর যে ধান ৬৫০টাকা থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে, এবার তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৪৮০ টাকায়। বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের নেতারা বলছেন, সরকার ২৬টাকা ধরে আমন ধান সংগ্রহের মূল্য ঘোষণা করলেও বেশিরভাগ কৃষক সেখানে ধান দিতে পারেন না। আর চালকলের মালিকরা জানিয়েছেন চালের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ধান কিনছেন না অনেক চাতাল মালিক। তবে কৃষকরা অভিযোগ করেন ধানের বাজার ফড়িয়াদের কব্জায় চলে গেছে। তারা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে ধান কিনে সরবরাহ করছে বিভিন্ন চালকলে। এমন পরিস্থিতিতে ধান কাটার মৌসুমে কৃষক পরিবারে যে আনন্দ থাকে, তা আর নেই।

জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত উপজেলা আদর্শ কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, এবার ব্রি ধান ৩৪, ব্রিধান ৪৯, ব্রি ধান ৫১, ব্রিধান ৫৪ ও ব্রি ধান ৮৭ জাতের ধান রোপণ করেছিলেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টি আর রোদের কারণে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে; যা তার জীবনে দেখেননি। তবে এর দাম সবাইকে হতাশ করছে। যা কৃষকদের উৎপাদন খরচ উঠবে না বলে জানান এই কৃষক।

উপজেলার গোল্লাপাড়া এলাকার কৃষক অঞ্জন মালাকার ও আবুল হোসেন ফিটু মোবাইল ফোনে জানান, সুমন স্বর্ণা, ব্রিধান ৩৪, ব্রিধান ৮৭ ধান চাষ করেছি। ধানকাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে পুরোদমে। এদিকে বাজারে সুমন স্বর্ণা কাচি (২৮ কেজি) ৪৫০ টাকা থেকে ৪৬০ টাকা মণ দরে শুকনো ধান বিক্রি হচ্ছে। চিকন চালের ধান ব্রি ৫১ ও ব্রি ৮৭ বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। এতে প্রতি মণে লোকসান হচ্ছে ১০০-১৫০ টাকা। ধানের ফলনে খুশি হলেও দাম নিয়ে শঙ্কিত তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা শামিমুল ইসলাম জানান, “এবার তানোর উপজেলায় রোপা-আপন চাষ করা হয়েছে ২২,৪৫০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২,০০৫ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৪৫ হেক্টর জমিতে বেশী আবাদ করা হয়েছে। এবার পূর্বের বছরগুলোর চাইতে ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি কৃষক এবার ভালো দামও পাবেন।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.